ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
ব্যর্থ ইসরোর বড় মিশন, পৃথিবীর কক্ষে পৌঁছতেই পারল না নতুন স্যাটেলাইট
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ব্যর্থ ইসরোর বড় মিশন, পৃথিবীর কক্ষে পৌঁছতেই পারল না নতুন স্যাটেলাইট

 প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম খবর পাঠানোর জন্যই মহাকাশে পাঠানো হচ্ছিল এই নতুন স্যাটেলাইটকে। রোহিনী সিরিজের স্যাটেলাইটের পরে ইওএস-০৩ ছিল ইসরোর অন্যতম বড় মিশন। তার জন্য তোড়জোড়ও ছিল বিরাট। কিন্তু সাফল্যের আগেই ব্যর্থ হল মিশন। উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থেমে গেল রকেট। প্রায় চার বছর পরে ইসরোর কোনও বড় অভিযান এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল।

সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে ৫৩ মিনিট নাগাদ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ হয়। জিওসিনক্রোনাস জিএসএলভি-এফ১০ রকেটে চাপিয়ে এই স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই বিপর্যয় ঘটে যায়। ইসরো জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই থেমে যায় রকেট। তবে এই ব্যর্থতা কাটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি স্যাটেলাইট লঞ্চ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।

২০১৭ সালেও এমনই একবার উৎক্ষেপণের সময় যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছেল ১২ ফুট লম্বা জিএসএলভি রকেটে। ৬ মিনিটের মধ্যেই রকেটের গতি রুদ্ধ হয়েছিল। ফের একবার জিওসিনক্রোনাস রকেটে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ল। কী কারণে এই গোলযোগ, তা পরীক্ষা করছেন বিজ্ঞানীরা।


এই নতুন স্যাটেলাইটের কাজ হত পৃথিবীর ওপর নজরদারি করা। মূলত ঘূর্ণিঝড়, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, সুনামি, বন্যা, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের আগাম খবর পাঠানো। জলবায়ু বদলের প্রভাবে সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বাড়ছে। যার পরিণাম হল এই বারে বারে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া। এমনিতে বেশিরভাগ ট্রপিক্যাল স্টর্ম তৈরি হয়ে সমুদ্রেই বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু সেগুলো গতিপথ বদলে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসে সেগুলোই ভয়ঙ্কর বিপর্যয ঘটায়। এর কারণ হল সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি ও তার চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ। এর রেডার এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই খবর পাঠাবে। সুনামির সতর্কতা দেবে। কোথাও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলে সতর্কবার্তা দেবে। ভূমিকম্পের আগেই সিগন্যাল পাঠাবে পৃথিবীতে। ত্রুটি সারিয়ে খুব তাড়াতাড়ি স্যাটেলাইটকে ফের পৃথিবীর কক্ষে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে ইসরো।

গোটা একুশ সাল জুড়েই ইসরোর একের পর এক সুপার মিশনের পরিকল্পনা আছে। গগনযানও নাকি উড়বে এ বছরের শেষেই। ইসরো প্রধান কে শিবন বলছেন, সাতটি লঞ্চ ভেহিকল মিশন আছে এ বছরেই। পৃথিবীর কক্ষে পাঠানো হবে আরও ৬টি স্যাটেলাইট। বছর শেষের সবচেয়ে বড় অভিযান হল গগনযান। এখনই মানুষ নিয়ে নয়, চলতি বছরে গগনযানের ‘আনম্যানড’ মিশনের পরিকল্পনাই করেছে ইসরো। ২০২২-২৩ সালে তিন নভশ্চরকে নিয়ে উড়ে যাবে গগনযান। তার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বায়ুসেনার চারজন দক্ষ পাইলটকে। আপাতত তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে রাশিয়ায়। বাইশ সালে ফের লুনার-মিশনে নামবে ইসরো। চন্দ্রযান-২ এর খামতিগুলো কাটিয়ে চাঁদের রহস্যময় আঁধার পিঠে পাঠানো হবে চন্দ্রযান-৩ কে। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। খবর দ্য ওয়ালের / এনবিএস/ ২০২১/ একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *