ঢাকা, শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
৫০ ফুট ওপর থেকে দুধের শিশুকে ছুঁড়ে ফেলার বিশেষ রীতি প্রচলিত হয় কেন! নেপথ্যে কোন ঘটনা 
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

৫০ ফুট ওপর থেকে দুধের শিশুকে ছুঁড়ে ফেলার বিশেষ রীতি প্রচলিত হয় কেন! নেপথ্যে কোন ঘটনা 

গোটা এলাকার লোক হাজির। রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত। এক দুধের শিশু যার বয়স ২ বছরের কম, তাকে ৫০ ফুট ওপর থেকে ছুঁড়ে ফেলা হবে, অধীর অপেক্ষায় তাকে ধরে ফেলার জন্য নিচে তৈরি থাকে চাদর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড়। এরপর চলে রীতি মেনে পর পর ঘটনা। কোকিয়ে কেঁদে ওঠে দুধের শিশু, জনতার প্রবল হইহইতে চারিদিক তখন মুখর। এই ভিড়ের আওয়াজের মধ্যে ছোট্ট শিশুর কান্না কোথায় ডুবে যায়। 

বুকের ধুকপুকানি নিয়ে সন্তানের দিকে তাকিয়ে থাকেন অভিভাবকরা। আর সন্তান চাদরে পড়তেই সম্পন্ন হয় একটি পর্ব। এমন ঘটনা ভারতের বহু জায়গায় পরম্পরা মেনে রীতি হিসাবে পালিত হয়। কোনও বিশেষ ধর্মীয় পরম্পরায় এই অনুষ্ঠানকে বেধে রাখা যায় না। এমন ঘটনা স্থানীয় রীতি হিসাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পালিত হয়। একনজরে দেখা যাক এমন নির্মম ঘটনার নেপথ্যের কারণ। এক বিরল প্রথা ও ভারত প্রসঙ্গত, দেখা যাচ্ছে মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের বিভিন্ন জায়গায় এমন রীতি পালিত রয়েছে যেখানে ৫০ ফুট বা ৩০ ফুট ওপর থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয় শিশুকে।

 ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিচিত্র কিছু কাহিনি লুকিয়ে রয়েছে। যার সঙ্গে সেখানের স্থানীয় কিছু পরম্পরাগত বিষয়ও রয়েছে। জড়িয়ে রয়েছে বহু দুঃসাহসিক কাণ্ড। এমন সস্ত কাণ্ডের মধ্যেই পড়ে কখনও আগুনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাওয়া বা মাথায় নারকেল ফাটানোর মতো রীতি। কোথাও দেখা যায় মরণ ঝাঁপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাণ্ড। এমনই এক রীতি দুধের শিশুকে খুব উঁচু জায়গা থেকে ছুঁড়ে ফেলা। এমন ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক বিশেষ কারণ। রয়েছে বহু কাহিনি । 

 আজ মমতার নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি, সংসদের বাইরে ফের একজোট বিরোধীরা কোথায় কোথায় আয়োজিত হয় এমন ঘটনা? মহারাষ্ট্রের সোলাহপুরের বাবা ইমের দরগা। এই পবিত্র জায়গার ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে ধর্মর ভেদাভেদ নির্বিশেষে এমন রীতি আয়োজিত হয়, যেখানে ৩০ ফুট উঁচু এলাকা থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয় শিশুকে। অন্যদিকে কর্ণাটকের শ্রীসন্তেশ্বর মন্দির, ও নাগরালা গ্রামের দিগমশ্বরা মন্দিরে এমন কাণ্ড ঘটানো হয়। 

১৫ অগাস্টের আগে লস্কর ও জইশের সংঘবদ্ধ বড়সড় নাশকতার ছক! অ্যালার্টে সেনা কবে থেকে শুরু হয়েছে এমন পরম্পরা? ইউভান নোআহ হারারির লেখা 'স্যাপিয়েন্স ব্রিফ হিস্ট্রি অফ হিউম্যানকাইন্ড' এ বইতে উল্লেখ রয়েছে, আদিম সভ্যতায় এমনও ঘটনা রয়েছে যেখানে চুল ছাড়া বা অল্প চুল নিয়ে শিশু জন্মালে তাকে তখনই হত্যা করা হত। এদিকে জানা যায়, সাত দশক আগে থেকে ভারতের বুকে এমন ঘটনা ঘটে আসছে। আদিম সভ্যতায় শিশুদের নিয়ে একাধিক রীতি রেওয়াজের প্রচলন রয়েছে। 

তবে ভারতের বিভিন্ন কোণে যেভাবে বহু বহু ফুট ওপর থেকে শিশুদের ছুড়ে ফেলা হয়, তার নেপথ্যে রয়েছে বহু কারণ। এদিকে সাত দশক আগে ভারতের বুকে যে রীতি প্রচলিত হয়েছে তা হু হু করে দেশের বিভিন্ন কোণে ছড়িয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় শিশু অধিকার সংক্রান্ত গোষ্ঠীরা বেশ বিব্রত। বহুবার তারা এই নিয়ে সরব হয়েছেন। রাজ্যের আশা প্রকল্পে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, বিস্তারিত জেনে নিন কীসের আশায় ৫০ ফুট ওপর থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয় শিশুদের?

 শোনা যায়, দুটি কারণ নিয়ে এই শিশুদের ছুঁড়ে ফেলার রীতি প্রচলিত। একটি হল, শিশুর বাবা-মা ঈশ্বরের কাছে নিজের আস্থা আর বিশ্বাসের পরীক্ষা দিতে চান। তাঁরা নিজের সন্তানের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বোঝাতে চান যে ঈশ্বরে তাঁদের প্রবল আস্থা রয়েছে। আর এটিও ভরসা রয়েছে যে তাঁদের শিশুক ঈশ্বর রক্ষা করবেন। কার্যত নিজের জীবনের দামী জিনিসটিকে ত্যাগের আসনে রেখে ঈশ্বরের প্রতি নিবেদনের দিকে এগিয়ে যান অনেকে। এই আস্থার হাত ধরে ঈশ্বর তাঁর বিপদ কাটিয়ে দেবেন বলে বহু জনের বিশ্বাস। 

অন্যদিকে, শিশুটিকে জীবনের প্রথম ভাগেই এভাবে ঝুঁকির মুখে রাখলে তার জীবনে সৌভাগ্য বাড়বে বলেও বিশ্বাস করেন অনেকে। সেই জায়গা থেকে এমন ঘটনা ঘটানো হয়। শোনা যায় বহু আগে কোনও ধর্মীয় নেতার আদেশে এমন ঘটনার প্রচলন শুরু হয়। সমালোচনার ঝড় দেশের নানান প্রান্তে এমনভাবে শিশুকে তুলে ধরে ৫০ ফুট ওপর থেকে ছুঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে গোটা দেশে প্রবল সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে বহুকাল থেকে। বহু চাইল্ড রাইট অ্যাক্টিভিস্টের মতে, এমনভাবে ছোট শিশুকে উঁচু থেকে ছুঁড়ে ফেলার ফলে শিশুর মানসিক ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে।

 এমন উঁচু থেকে পড়ে যাওয়ার পর শিশুরা অনেক সময় কান্নাকাটি করে, ভয় পেয়ে যায়। আর এই ভয়ই তাদের সারা জীবন বিভিন্নভাবে তাড়া করে বেড়াতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস। রীতিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য চেষ্টা এই নির্ম রীতিকে তড়িঘড়ি নিষিদ্ধ করার জন্য বহু চাইল্ড রাইট সংগঠন উদ্যোগ নেয়।

 ভারতের ন্যাশনাল কমিশন ফর চাইল্ড রাইট ২০১১ সালেই এই রীতিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য উদ্যোগ নেয়।তবে দেখা যায়, পরের বছরই বহু জায়গায় এটি পালিত হচ্ছে। এরপরও কোথায় কোথায় এই রীতি পালিত হচ্ছে , তার খোঁজ নিয়ে তা বন্ধের জন্য উদ্যোগ নেন বহু শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ।

খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার  / এনবিএস/ ২০২১/ একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: