ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
টেকনাফে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার: ৬ রোহিঙ্গা আটক
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

টেকনাফে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার: ৬ রোহিঙ্গা আটক

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যং পাহাড়ী ঢাল সড়ক এলাকা থেকে প্রায় দেড় মাস আগে অপহরণ হওয়া সিএনজি অটোরিকশা লাইনম্যান মাহমুদুল করিমের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

১২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকালে স্থানীয় বনকর্মীদের সহযোগীতায় পুলিশ টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হোয়াইক্যং-বাহারছড়া ঢালার গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করেন।

জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা মৃত সালেহ আহমেদ’র ছেলে মাহমুদুল করিম (৩২) ছিলেন সিএনজি লাইনসম্যান। দেড় মাস আগে হোয়াইক্যং-বাহারছড়া ঢালা থেকে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা তাকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করেছিল। মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকাও দেয়া হয়েছিল। তারপরও তার মুক্তি মিলেনি। স্বজনরা সেই বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে সর্বশেষ র‍্যাব পর্যন্ত ছুটাছুটি করে। অপহরণের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল তার পরিবার। এরপরেও তাকে জীবিত পায়নি।

অবেশেষে বৃহস্পতিবার ১২ আগষ্ট তার গলিত লাশ পাহাড়ে পাওয়া গেছে। পরনের প্যান্ট, শার্ট ও কোমরে বেল্ট ঠিকই রয়েছে।

অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল আলীম জানান, পাহাড়ি এলাকা থেকে এক সিএনজি চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার বলছে, অপহৃত মাহমুদুল করিমকে ছেড়ে দিতে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাতরা। তারা ডাকাত আবদুল হাকিমের লোকজন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুক্তিপন না পেয়ে তাকে মেরে ফেলা হয়। এর আগে তাকে উদ্ধার করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে আকুতি জানানো হয়। কিন্তু তাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।

টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ জানান, হোয়াইক্যং পাহাড় থেকে একজনের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ জুন সিএনজি চালক অপহরণের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছিল ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ রোহিঙ্গা ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি ।

স্থানীয়রা জানান, এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের হাতে শতাধিক স্হানীয় বাসিন্দা নিরব অপহরণের শিকার হয়েছে। নিরবে মুক্তিপণ দিয়ে চলেছে এলাকার নীরিহ মানুষগুলো। তবু্ও করার কিছুই নেই। একাত্তরের মত রোহিঙ্গাদের পক্ষে স্হানীয়করণ নিয়ে এদেশেরই লোকজন আবারো রাজাকারি কারবারে নেমেছে।

এ অপকর্মের কথা কেবল বুঝানোর স্হান হচ্ছে বিশ্বব্যাংক সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে । রোহিঙ্গাদের মালিক নাকি তারা।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংক লিখিতভাবে এসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে চিরতরে রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে। যদিওবা সাহসী বাংলাদেশ তা ইতিমধ্যে প্রত্যাখান করেছে। তবে রোহিঙ্গা বিহীন বাংলাদেশের অপেক্ষায় আছে মানুষ।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *