ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
দলিত বলেই ফাঁসানো হয়েছে, শিশু নির্যাতনের মামলা থেকে অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়ে বলল কোর্ট
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

 দলিত বলেই ফাঁসানো হয়েছে, শিশু নির্যাতনের মামলা থেকে অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়ে বলল কোর্ট

অভিযোগ, চার শিশুর ওপরে যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি দিল্লির এক কোর্ট তাঁকে মুক্তি দিয়ে বলেছে, দলিত বলেই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল তাঁর নামে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো-য় মামলা করা হয়েছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘সিরিয়াল সেক্সুয়াল অফেন্ডার’। ২০১৫ সালের ১৮ মে থেকে তিনি জেলে ছিলেন। প্রিন্সিপাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জাজ ধর্মেশ শর্মা তাঁকে বেকসুর খালাস দেন। তিনি বলেন, দলিত সম্প্রদায়ের ওই ব্যক্তির প্রতি অভিযোগকারীর মনে বিদ্বেষ ছিল। তাই তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।

একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিযুক্তকে দু’মাসের মধ্যে এক লক্ষ টাকা দেবে সরকার। অভিযুক্ত আদালতে বলেছিলেন, অভিযোগকারী উচ্চবর্ণের মানুষ। তাঁর কুকুর নিয়মিত অভিযুক্তের জমিতে ঢুকে নোংরা করত। সেই নিয়ে বেশ কয়েকবার দু’জনের ঝগড়া হয়। সেই রাগেই ওই উচ্চবর্ণের ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে শিশু নিগ্রহের মামলা করেন।


বিচারক বলেন, যে শিশুটি নির্যাতিত হয়েছিল বলে অভিযোগ, তাকে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের কথা শুনে আদালতের মনে হয়েছে, তাঁরা সত্যি বলছেন না। এছাড়া এমন আরও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যাতে বোঝা যায়, ওই দলিত ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষবশত মামলা করা হয়েছিল।


বিচারক বলেছেন, শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর মনে হয়েছে, তাকে অনেক কিছু শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। তার বাবা-মা নির্লজ্জের মতো মেয়েদের মিথ্যা অভিযোগ করতে শিখিয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যে চার্জ আনা হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর।

পুলিশের সমালোচনা করে বিচারক বলেন, তারা তদন্তে ঢিলেমি দেখিয়েছে। যিনি ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনে হয়েছে, তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এই মামলায় আদালত বান্ধব হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট অভিজিৎ অশোক ভগত। তিনিও বলেন, অভিযোগকারীর কুকুর ঘর নোংরা করায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আপত্তি করেছিলেন। দলিত হওয়া সত্ত্বেও আপত্তি করায় ওই উচ্চবর্ণের ব্যক্তি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন।

অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর অতুল কুমার শ্রীবাস্তব বলেন, “দলিত বলেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফাঁসানো হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। কোনও সাক্ষীই সেকথা বলেননি। নির্যাতিতা মেয়েগুলির কথা শুনে মনে হয়, তারা সত্যি বলছে। তাদের কিছু শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মনে হয় না।”

বিচারক বলেন, “আমাদের সমাজে সবসময় ভাল ও মন্দের লড়াই চলে। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যখন সবই সম্ভব।।। ​খবর  ওয়ালের  /এনবিএস/২০২১/এক

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *