ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
মোদীর নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে শোভাযাত্রা বিজেপির, তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

মোদীর নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে শোভাযাত্রা বিজেপির, তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

 কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ স্তিমিত। কিন্তু তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই প্রায় রোজ পইপই করে বলছেন, সেপ্টেম্বরের গোড়া থেকেই পরিস্থিতি ভয়ানক হতে পারে। সেই সময়ে বিজেপির ডাকে ১৬ অগস্ট থেকে শুরু হতে চলা জনআশীর্বাদ যাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগপ্রকাশ করলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

এদিন সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বৈঠক চলার মাঝেই সীতারাম কলকাতায় বসে টুইট করে লিখেছেন, “আরও একটা সুপার স্প্রেডার কর্মসূচি? বিজেপি, আরএসএস এবং নরেন্দ্র মোদী সরকার ভুয়ো তথ্য ছড়াতে ১৬ অগস্ট থেকে যাত্রা শুরু করছে। যে যাত্রা ২২টি রাজ্যের ২০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। অনুষ্ঠিত হবে ১৬০০ জনসভা। নতুন মিউট্যান্ট এবং তৃতীয় ঢেউকে নেমন্তন্ন করা হচ্ছে। সরকার উপনির্বাচনে অনুমতি দিচ্ছে না অথচ এই কর্মসূচিতে ছাড় দিচ্ছে। এই বিপর্যয় বন্ধ হোক।”

বিজেপির এই জনআশীর্বাদ যাত্রা কী?

গত মাসে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়েছে। ৩৯ জন নতুন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ প্রতিমন্ত্রী কেউ আবার পূর্ণমন্ত্রী। বাংলারও চারজন ঠাঁই পেয়েছেন মোদী মন্ত্রিসভায়। তাঁরা হলেন, সুভাষ সরকার, শান্তনু ঠাকুর, জন বার্লা এবং নিশীথ প্রামাণিক।

বিজেপি কর্মসূচি নিয়েছে, এই নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে দেশজুড়ে পরিচয় পর্ব সারবে তারা। দেশের ২৬৫টি জেলার ২১২টি লোকসভা কেন্দ্রে ঘুরবে এই যাত্রা। দেশঘুরে মানুষের আশীর্বাদ নেবেন নতুন মন্ত্রীরা।

শুধু সীতারাম নন। বিরোধী অনেক নেতাই এ ব্যাপারে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যমহলও বিষয়টিকে ভাল ভাবেও দেখছে না। কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, “বিজেপি কোভিডের অযুহাতে বিরোধীদের কর্মসূচি আটকে রেখেছে। অথচ নিজেরা কর্মসূচি নিচ্ছে। এই যাত্রা আসলে ভাইরাস ছড়ানোর কর্মসূচি।”

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (কমিউনিটি মেডিসিন) ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অনির্বাণ দলুই বলেন, “কোভিড পরিস্থিতিতে যে কোন ধরনের জমায়েতই স্বাস্থ্যকর নয়। শুধু রাজনৈতিক কেন, ধর্মীয়, সামাজিক যে কোনও জমায়েতের ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য। এই সময়ে জমায়েত করা মানে বিপদ ডেকে আনা।” তবে তিনি বলেছেন, সকলে মাস্ক পরে, দূরত্ব মেনে যদি কর্মসূচি করে তাহলে আপত্তির কিছু নেই।
কিন্তু সেইসঙ্গে এই প্রশ্নও উঠছে, তা কি আদৌ সম্ভব? কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝেই বাংলার ভোট প্রচারে কোভিড বিধি শিকেয় ওঠার ছবি ধরা পড়েছিল সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতেই। এবার বিজেপির কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে


 

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *