ঢাকা, শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪২ অপরাহ্ন
স্বাধীনতা দিবসের আগে জম্মু-কাশ্মীরে হামলার ছক, নিহত পাক জঙ্গি
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

স্বাধীনতা দিবসের আগে জম্মু-কাশ্মীরে হামলার ছক, নিহত পাক জঙ্গি

 ‘একটা বড় ট্রাজেডি এড়ানো গেল।’ শনিবার এই মন্তব্য করলেন কাশ্মীর পুলিশের ইনসপেক্টর জেনারেল বিজয় কুমার। তিনি জানান, স্বাধীনতা দিবসের আগে পাকিস্তানের জঙ্গিরা জাতীয় সড়কে বড় ধরনের হামলা চালানোর ছক কষেছিল। বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ হয়। এক জঙ্গি মারা গিয়েছে। পালিয়েছে আরও এক জঙ্গি। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গিয়েছে। তাঁর মধ্যে রয়েছে রকেট লঞ্চারও।

বৃহস্পতিবার বিকালে কুলগাম জেলায় শ্রীনগর-জম্মু হাইওয়ে দিয়ে বিএসএফের একটি কনভয় যাচ্ছিল। জঙ্গিরা কনভয়ের ওপরে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। পাল্টা গুলি চালায় বিএসএফ। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় পুলিশ। ১৫ ঘণ্টা ধরে চলে এনকাউন্টার।


বিজয় কুমার জানান, পুলিশের কাছে খবর ছিল জঙ্গিরা কাজিগুন্দ-পন্থ চৌকে বারামুলা-শ্রীনগর রোডে হামলা চালানোর ছক কষেছে। সুতরাং পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষী সংস্থা তৈরি ছিল।

একটি সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ অনেক বেড়েছে। সীমান্তে পেরিয়ে ঢুকে পড়েছে পাক জঙ্গিরা। উপত্যকার একাধিক জঙ্গি সংগঠনও সক্রিয়। তাদের খতম করতে একের পর এক এনকাউন্টার চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। সাফল্য এসেছে গত দু’মাসে।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্র বলছে, জঙ্গি দমন অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় বাহিনী। রিপোর্ট বলছে, চলতি বছর ১৫ জুলাই অবধি মোট ৮৬ জন জঙ্গি নিকেশ হয়েছে উপত্যকায়। মোট ১৬টি এনকাউন্টার হয়েছে। যার মধ্যে জুলাই মাসেই গত ২০ দিনে দশ বার জঙ্গি দমন অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। খতম হয়েছে ২০ জন জঙ্গি, যাদের মধ্যে চারজন পাকিস্তানের বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

জুলাইয়ের শেষে শোপিয়ানে এনকাউন্টার চালায় কাশ্মীর পুলিশ, সেনাবাহিনীর ৩৪ নম্বর রেজিমেন্ট ও সিআরপিএফ। দুই জঙ্গিকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে লস্কর-ই-তৈবা সংগঠনের উচ্চপদস্থ কম্যান্ডারও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।  ২০১৭ সাল থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় নাশকতার কাজে যুক্ত ছিল এই লস্কর কম্যান্ডার, নাম  ২০১৭ সাল থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় নাশকতার কাজে যুক্ত। গত তিন মাসে শোপিয়ানে সেনাবাহিনীর এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।

বস্তুত, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ধারে ড্রোনের আনাগোনা লক্ষ করা যাচ্ছে প্রায়ই। জম্মু এলাকায় ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানঘাঁটিতে পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা ড্রোন হামলা চালায়। এর পর থেকেই কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি ও এনকাউন্টার চালাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। চলতি মাসেই রাজৌরি এলাকায় দুই সন্দেহভাজন পাক জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়। হিজবুল মুজাহিদিনের এক সক্রিয় কম্যান্ডারেরও মৃত্যু হয়েছিল সেই এনকাউন্টারে।

সূত্র জানাচ্ছে, সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে ১৫ জন জওয়ান ও ১৯ জন গ্রামবাসীরও মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে জম্মু বিমানবন্দরের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে জোড়া বিস্ফোরণ চালিয়েছিল জঙ্গিরা। ৬ কেজির মতো বিস্ফোরকও উদ্ধার হয়েছিল। এক লস্কর জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

 খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *