ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
সেনা পাঠানোর চেষ্টা করো না, ফল খুব খারাপ হবে, ভারতকে হুঁশিয়ারি তালিবানের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

সেনা পাঠানোর চেষ্টা করো না, ফল খুব খারাপ হবে, ভারতকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

তালিবান দাপটে ছিন্নভিন্ন আফগানিস্তান। একের পর এক প্রদেশ তালিবাদনদের কব্জায়। কাবুলের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে তালিবান বাহিনী। আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এদিকে আফগানিস্তানে শান্তি ফেরানোর জন্য একের পর এক বৈঠক হচ্ছে দোহাতে। তাতে যোগ দিয়েছে ভারতও। আফগানিস্তানে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয়াদিল্লি। সেই প্রসঙ্গও উঠেছে বৈঠকে। তাতে তালিবানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতীয় দূতাবাসের কোনও ক্ষতি করবে না তালিবান, কিন্তু যদি ভারত আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েনের চেষ্টা করে তাহলে ফল ভাল হবে না।

আফগানিস্তানে হিংসা বন্ধ করার জন্য ভারত, জার্মানি, কাতার, তুরস্ক সহ কয়েকটি দেশ আবেদন জানিয়েছে। ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীর মদতে আফগানিস্তানে সরকার গড়লে তা কখনওই মেনে নেওয়া হবে না। আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে জঙ্গি বাহিনী ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তার যোগ্য জবাব দিতেও পিছপা হবে না ভারত।


দোহাতে এই নিয়ে দুটি আন্তর্জাতিক বৈঠক হয়েছে। জুলাই মাসের বৈঠকে ছিলেন আমেরিকা, পাকিস্তান, চিন, উজবেকিস্তান, ব্রিটেন, কাতার, রাষ্ট্রপুঞ্জ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। অগস্টের বৈঠকে ভারত, জার্মানি, নরওয়ে, কাতার, তাজকিস্তান, তুরস্ক, তুর্কমেনিস্তান, রাষ্ট্রপুঞ্জ ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা। তালিবান ও আফগান সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করাই এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। তালিবান মুখপাত্র মহম্মদ সুহেল শাহিন বলেছেন, আফগানিস্তান কখনওই ভারত বিরোধী কোনও পদক্ষেপ নেবে না। কিন্তু অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলে ভারত যদি আফগানিস্তানে সেনা পাঠানোর চেষ্টা করে তাহলে ফল ভাল হবে না। বস্তুত, কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েনের কথা বলেছিলেন।


আফগানিস্তান থেকে পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তালিবান হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে আফগান সেনাবাহিনী। প্রায় ১২টি প্রাদেশিক রাজধানী এখন তালিবানের দখলে। গোটা দেশে ৭০ শতাংশের বেশি এলাকায় তালিবান সাম্রাজ্য তৈরি হয়ে গেছে। এখন কাবুল দখল করতে চলেছে তালিবান বাহিনী। কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস-সহ সহ মোট চারটি কনস্যুলেট রয়েছে ভারতের। ভারতীয় সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও রয়েছেন সেখানে। তাই নিরাপত্তার প্রশ্ন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।  সম্প্রতি মাজার-ই-শরিফ এবং কন্দহর শহরের ভারতীয় কনস্যুলেট বন্ধ করা হয়েছে। সেখানে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক এবং নিরাপত্তাকর্মীদের দেশে ফেরানোর কাজও চলছে।  কারণ, বিগত দু’দশকে একাধিক বার জঙ্গি নিশানা হয়েছে ওই দূতাবাস। এরই মধ্যে আফগান সীমান্তে পাক সেনা মোতায়েনের ঘটনায় আফগানিস্তানে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকা, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর, পাকিস্তান তথা আইএসআই–এর মদতে গড়ে ওঠা জঙ্গিসংগঠন আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।  খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *