ঢাকা, সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৭ অপরাহ্ন
নেটফ্লিক্স কাঁপাচ্ছে ভুলে ভরা ‘মিমি’, কোথায় গলদ, বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন, জানুন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

নেটফ্লিক্স কাঁপাচ্ছে ভুলে ভরা ‘মিমি’, কোথায় গলদ, বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন, জানুন

নেটফ্লিক্সের পর্দায় ‘মিমি’ মুক্তি পেয়েছে এখনও এক মাসও কাটেনি। আইএমডিবি-র রেটিং বলছে ৮.১। এরইমধ্যে বলিউডে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে দু’ঘণ্টা একুশ মিনিটের এই ছবি।

পঙ্কজ ত্রিপাঠী, কৃতি শ্যাননদের অনবদ্য অভিনয় তো আছেই, তার সঙ্গে রয়েছে ছবির কাহিনিপটে নতুনত্ব। ‘মিমি’ হিট করার মূল চাবিকাঠি এটাই।

কী কাহিনি? চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অনন্য পদ্ধতির কথা তুলে ধরেছে ‘মিমি’। তা হল ‘সারোগেসি’। সন্তান ধারণে অক্ষম বাবা-মায়েরা এই পদ্ধতিতেই একরত্তিকে পৃথিবীতে আনেন। কিন্তু এই ‘সারোগেসি’ নিয়ে ছবি বানাতে গিয়ে ‘মিমি’ নির্মাতারা অনেক ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য পরিবেশন করেছেন। যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে নানা মহলে। দর্শকের মনোরঞ্জন শুধু নয়, ছবির মধ্যে দিয়ে অনন্য এক বার্তা দিয়েছেন পরিচালক লক্ষ্মণ উতেকর। নেটফ্লিক্সের পর্দায় ‘মিমি’ তাই ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়ে চলেছে অনবরত। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই ছবি দেখে খুব একটা খুশি হতে পারেননি।

কী ভুল তথ্য রয়েছে ‘মিমি’-তে? ভারতবর্ষে সারোগেসি নিয়ে যে আইন রয়েছে, এই ছবি তার ধারেকাছে ঘেঁষেনি। ছবিতে দেখানো হয়েছে এক আমেরিকান দম্পতি ভারতে এসে সারোগেট মায়ের খোঁজ করেছেন। পছন্দমত মহিলাকে জোগাড় করে টাকার বিনিময়ে জন্ম দিয়েছেন সারোগেট শিশুর। কিন্তু এই পদ্ধতি ভারতে সারোগেসিতে প্রয়োগ করা যায় না। তার কারণ ২০১৫ সালেই বাইরের দেশ থেকে এদেশে এসে সারোগেট শিশুর জন্ম দেওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

যদিও ছবির শুরুতে জানানো হয়েছিল এই কাহিনির প্রেক্ষাপট ২০১৩ সাল। তবু সারোগেসি নিয়ে অজস্র ভুল ধারণা ছড়াতে পারে ‘মিমি’।

অনেক সময়েই দেখা যায় আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইউরোপের দেশগুলি থেকে পূবের দেশে সারোগেট মায়ের খোঁজে চলে আসেন দম্পতিরা। এর পিছনে আছে মূলত দুটি কারণ। প্রথমত, পশ্চিমের দেশগুলিতে সন্তান ধারণের ক্ষমতা দিন দিন অনেক কমে এসেছে। আর দুই, এশিয়া আফ্রিকার দেশে সারোগেসির খরচ তুলনায় অনেক কম। ‘মিমি’তেও এই ছবিই তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতারা। কিন্তু ভারতের পাসপোর্ট ছাড়া এদেশে সারোগেসি করাই যায় না।

ভারতের সারোগেসি আইন বলছে, সারোগেট সন্তান শরীরে ধারণ করার জন্য মা’কে অবশ্যই বিবাহিত হতে হবে। দরকার হবে তাঁর পরিবারের লিখিত সম্মতিপত্র। এছাড়া অন্তত এক সন্তানের জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে সারোগেট মায়ের। ‘মিমি’ ছবিতে কৃতি শ্যাননের বয়স মাত্র ২৫। তিনি অবিবাহিত। বাড়ির সবার কাছে লুকিয়ে টাকার লোভে সারোগেট মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

গলদ আছে সারোগেসির চুক্তিপত্রেও। চুক্তি অনুযায়ী, সারোগেসিতে ইচ্ছুক দম্পতি কখনও সন্তানকে ছেড়ে যেতে পারেন না। জন্মে আগে হোক বা পরে, সন্তানের দায়িত্ব তাঁদের নিতেই হয়। আর ‘মিমি’ ছবিতে ডাক্তার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘সাদা চামড়ার লোকজন প্রায়ই সারোগেটের খোঁজে আসেন, আর মাঝপথে সন্তানকে ছেড়েই ফিরে যান।’ আইন অনুযায়ী তা কার্যত অসম্ভব। এমনটা করলে অন্তত ১০ বছরের জেল হতে পারে।

‘মিমি’ ছবিতে দেখানো হয়েছে, গর্ভাবস্থায় সারোগেট সন্তানের ডাউন সিন্ড্রোম ধরা পড়ে। তাই বিদেশী যুগল মিমিকে আকুল সমুদ্রের মাঝে ফেলে ফিরে যান আমেরিকায়। ‘অস্বাভাবিক’ সন্তানের দায়িত্ব নিতে চান না তাঁরা। সেসময় মিমির গর্ভধারণ প্রায় পরিপূর্ণ।

অথচ আইন বলছে, গর্ভধারণের অন্তত ৩ মাসের মধ্যেই বাবা-মাকে সন্তানের ডাউন সিন্ড্রোমের খবর জানিয়ে দেওয়া উচিত। যাতে চাইলে তখনই গর্ভপাত করা যায়। যদিও গর্ভপাত কাম্য নয় কখনওই। ‘মিমি’ ছবির গল্পের গরু এখানেও গাছে উঠেছে তরতরিয়ে।

এমনকি টাকা নিয়ে সারোগেসি অর্থাৎ কমার্শিয়াল সারোগেসির ক্ষেত্রেও ভারতে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। এর বিরুদ্ধ বিলটি লোকসভায় পাশ হয়েছে। রাজ্যসভার অনুমোদন পেলেই তা আইনে পরিণত হয়ে যাবে।

সব দেখেশুনে তাই ‘মিমি’-র প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেননি ডাক্তাররা। তাঁদের অভিযোগ, এই ছবির মাধ্যমে সারোগেসির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় সম্বন্ধে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। আগামী দিনে যাঁরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে চাইবেন, যাঁরা এই ছবি দেখে সারোগেসি সম্পর্কে আগ্রহী হবেন, তাঁদের জন্য অপেক্ষা করবে চরম বিভ্রান্তি, তেমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই ‘মিমি’ আবার প্রমাণ করল, কিছু কিছু জিনিস রুপোলি পর্দার চাকচিক্যেই মানায়, বাস্তবের মাটিতে নয়। খবর দ্য ওয়ালের

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *