ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
লকডাউনে বিপন্ন দাম্পত্যও, বাড়ছে সন্দেহপ্রবণতার ‘অ-সুখ’
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

লকডাউনে বিপন্ন দাম্পত্যও, বাড়ছে সন্দেহপ্রবণতার ‘অ-সুখ’

ঘরবন্দি জীবনে অনেকে যেমন ছন্নছাড়া সম্পর্কগুলোকে এই লম্বা অবসরে আবার বেঁধে নিচ্ছেন, তেমন অনেক সম্পর্কেই বাসা বাঁধছে নতুন অসুখ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হয়তো আগেও ছিল এমনটা, কিন্তু ২৪ ঘণ্টা একই ছাদের তলায় থাকতে থাকতে আরও তীব্রভাবে ধরা পড়ছে এই সমস্যা। কখনও সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ফোনের ওপর অহেতুক তদারকি বা কখনও নিছক অনুমানে ভর করে তুমুল অশান্তি, এমনভাবেই এখন দিন কাটছে কিছু দম্পতির। সুখ-শান্তির বিঘ্ন ঘটছে প্রতিনিয়ত। লকডাউনে আরও জোরদার হচ্ছে এই ভয়াবহ রোগ— যার চলতি নাম ‘‌সন্দেহপ্রবণতা’‌।

সাধারণভাবে, সন্দেহপ্রবণতা অল্পবিস্তর সকলের মধ্যেই থাকে। সব ক্ষেত্রেই কিন্তু এই প্রবণতাকে রোগের তকমা দেওয়া যায় না। মনোবিদরা বলছেন, সন্দেহপ্রবণতা তখনই রোগ, যখন কেউ এর বশবর্তী হয়ে অদ্ভুত আচরণ করেন, যখন তাঁকে কোনওভাবেই আর বোঝানো বা সামলানো যায় না, বা তিনি নিজেই যখন নিজেকে অমূলক সন্দেহ করা থেকে বিরত রাখতে পারেন না।

অনেক সময় দেখা যায়, নিজের সঙ্গীটিকে সন্দেহ করে তাঁর সমস্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে অনেকে নজরদারি চালান বা প্রতি পদক্ষেপে তাঁর অনুসারী হন বা তাঁকে ফলো করেন। চাইলেও এই অনধিকারচর্চা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন না, বাস্তবিকভাবে এই ধরনের কাজগুলি তাঁকে কষ্ট দেয়। তাই সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তিরা নিজেরা যে এসব কার্যকলাপে আত্মসন্তুষ্টি লাভ করেন এমনটা নয়। কিন্তু তাঁরা তাঁদের সন্দেহপ্রবণতার কারণে হওয়া অযাচিত দুঃখ পাওয়া থেকে নিজেদের যখন কোনওভাবেই আটকাতে পারেন না, এমন অবস্থাতেই সন্দেহপ্রবণতা রোগের পর্যায়ে পৌঁছয়।

বিশিষ্ট মনোবিদ ডঃ সঞ্চিতা পাকড়াশির কথায়, “দৈনন্দিন জীবন, জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে বেরোলে আগে নিজেদের মধ্যে কিছুটা স্পেস থাকত। এই স্পেস প্রতিটা মানুষের প্রয়োজন। কিন্তু এখন এই ঘরবন্দি জীবনে একে অপরকে না জানার ছোট ছোট বিষয়গুলোও বড্ড বেশি চোখে পড়ে যাচ্ছে। ফলে আরও তীব্রতর হচ্ছে সন্দেহপ্রবণতা।”

মুক্তি কীভাবে?‌ সমঝোতা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, ভালবাসার জায়গাটা যদি অটুট থাকে, তবে খানিক সমাধান সেখানেই সম্ভব। আর অবশ্যই একে অপরের থেকে খানিক অবসরও প্রয়োজন। একই বাড়িতে থাকলেও পরস্পরকে একটু স্পেস দিতে হবে। যাতে সারাদিনের অন্তত কিছুটা সময় তারা নিজেদের মতো কাটানোর অবকাশ পায়। অন্তত এমনটাই মনে করছেন মনোবিদ ডঃ পাকড়াশি।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ব্যক্তির সন্দেহপ্রবণতা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে তাঁর রোগ মুক্তিও। সন্দেহপ্রবণতা একেবারে প্রথম স্তরে থাকলে নিজে নিজেই যদি কেউ বুঝতে পারেন তিনি অমূলক সন্দেহ করছেন বা তিনি নিজে থেকেই বিষয়টা যুক্তি দিয়ে ভাবতে সচেষ্ট হন,‌ তবে অনেকটা রোগমুক্তি সেখানেই হয়ে যায়।

তবে সন্দেহপ্রবণতা জটিল অবস্থায় উপনীত হলে বা রোগী নিজেই যদি না ধরতে পারেন তাঁর কোনও সমস্যা হচ্ছে, তবে একটা পেশাদারি সাহায্যের প্রয়োজন হয়। একজন মনস্তত্ত্ববিদ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে মনঃসমীক্ষা করানো সেক্ষেত্রে বিশেষ দরকার। এই সময়ে অনলাইনেই ঘরে বসে কোনও এক্সপার্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *