ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
পড়তে বসে হাজারো ভুল, ডিসলেক্সিয়া নয় তো!‌
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

পড়তে বসে হাজারো ভুল, ডিসলেক্সিয়া নয় তো!‌

একে করোনা পরিস্থিতি। স্কুল–কলেজ বন্ধ। অন্যদিকে স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময়ও বয়ে যাচ্ছে। জীবন থেমে থাকলেও সময় থেমে থাকছে না। অধিকাংশ খুদে পড়ুয়ার কাছেই এখন স্কুল মানে ট্যাব বা মোবাইল স্ক্রিনে পাখির খোপের মতো জীবন, তাতেই পড়াশোনা। স্কুলের আনন্দ, ক্লাসরুমের মজা থেকেও বঞ্চিত ওরা। অথচ বাড়িতে পড়তে বসতে হচ্ছে নিয়ম করে। কখনও পড়তে বসলেই ঝিমিয়ে পড়ছে বাচ্চা। চোখ বেয়ে নেমে আসছে ঘুম। কেউ কেউ আবার রিডিং পড়তে বসলেই এক–দু লাইন অনায়াসে স্কিপ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। অঙ্ক খাতারও এক অবস্থাও;‌ ছোট ছোট সিলি মিস্টেকে ভর্তি পাতা। রোজই বকুনি জুটছে কপালে। অভিভাবকের এই একগুচ্ছ অভিযোগে কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন অন্য কথা। এই ভুলগুলো কিন্তু শুধু ভুল নয়। হতে পারে ডিসলেক্সিয়ার মতো মানসিক রোগের লক্ষণ।

ডিসলেক্সিয়া, ডিসগ্রাসিয়া ও ডিসক্যালকুলিয়া— এই তিন মানসিক রোগ এখনকার ঘরবন্দি খুদেদের বেশ ভোগাচ্ছে। এগুলো প্রত্যেকটিই মূলত শিক্ষা সংক্রান্ত অক্ষমতাজনিত রোগ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডিসলেক্সিয়া, ডিসগ্রাসিয়া বা ডিসক্যালকুলিয়া একে অপরের হাত ধরাধরি করে থাকে। তাই এক একটি রোগকে সহজে আলাদা করা যায় না। তবে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় ডিসলেক্সিয়ার কথা। ৬ থেকে ৯ বছরের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এই রোগে। ছেলে, মেয়ে উভয়েই আক্রান্ত হতে পারে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, ছেলেদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মূলত প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর বাচ্চাদের মধ্যে এই মানসিক রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

উপসর্গ কী কী?‌ * ঠিকভাবে রিডিং পড়তে না পারা * পড়তে গিয়ে লাইন স্কিপ করে যাওয়া * অক্ষর বিন্যাস বা শৃঙ্খল গুলিয়ে যাওয়া * লিখতে গিয়ে অজস্র ভুল করা * অঙ্কের ক্ষেত্রে সংখ্যা গুলিয়ে ফেলা * লেখা উল্টো দিক থেকে শুরু করার প্রবণতা * পড়ার ক্ষেত্রেও বাক্য ডানদিক থেকে বাঁদিকে পড়ার প্রবণতা * বাক্যগঠন বা বিন্যাস ঠিকমতো না করতে পারা

এইসমস্ত উপসর্গের সঙ্গে প্রচ্ছন্নভাবে এডিএইচডি বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিসঅর্ডারও লুকিয়ে থাকে। তাই সমস্যা আরও বড় জায়গায় যাওয়ার আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ প্রয়োজন।

কী করণীয়?‌ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে বাচ্চার সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। অসহনশীল হয়ে গিয়ে মারধর শুরু করে দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কোথায় অসুবিধা, সেটা আগে বুঝে, প্রয়োজনে ওদের চাহিদামতো স্পেশ্যাল এডুকেটর দিতে হবে। একজন সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিলে সবচেয়ে ভাল। সঠিক থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে ছোটবেলার সমস্যা বলে অবহেলা করা উচিত নয়।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *