ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়! যুক্তি নেই, সমাপতন আছে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়! যুক্তি নেই, সমাপতন আছে

অদ্ভুত এক পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এই সভ্যতা। ঘুমিয়েও যেন স্বস্তি নেই। নিষ্ফল জীবনযাপন, একঘেয়েমি, মহামারীর ভয়াবহতা, কর্মহীন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা– এসব কিছুতেই যেন পিছু ছাড়ছে না। উল্টে দুঃস্বপ্ন হয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বারবার। সকালে উঠে মুখে চোখে জল দিয়েও সম্বিৎ ফিরছে না যেন। দুঃস্বপ্ন যদি সত্যি হয়!

স্বপ্ন সত্যি হওয়া নিয়ে হাজারও মত আছে। তার মধ্যে একটা খুব প্রচলিত ও সাধারণ কথা হল, ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়। তবে সত্যিই কি তাই? এর কি কোনও যুক্তিগ্রাহ্য ভিত্তি আছে? এ বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন মনোবিদেরা?

মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী রাতের প্রথম দিকের সময়ে স্বপ্ন মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও রাত বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে। কারণ রাতের শেষভাগেই ঘুমের ‘R E M’ বা ‘Rapid Eye Movement’ পর্যায়টা দীর্ঘ হয়, অর্থাৎ ঘুম পাতলা হয়ে আসে। তার পরে আমরা জেগে সচেতন হই, অর্থাৎ আমাদের ঘুম ভাঙে। তার আগের এই আধা-সচেতন সময়ের স্বপ্নই আমরা কার্যত খানিকটা মনে রাখতে পারি।

তার আগে মাঝরাতে দেখা স্বপ্ন আমাদের মনে থাকে না। যদি সে স্বপ্ন দেখে তৎক্ষণাৎ ঘুম ভাঙে, তবেই তা নিয়ে ভাবার অবকাশ পাওয়া যায়, নইলে তা ঘুমের অতলেই শেষ হয়ে যায়। জাগ্রত স্মৃতিতে তার স্থান নেই। তবে স্বপ্নের ধাক্কায় ঘুম ভাঙলে তা নিয়ে আমরা ভাবি, মনে রাখি সেই স্বপ্নকে।

এখন ভোরের স্বপ্ন সত্যি হবেই– এমন কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই। তবে ক্ষেত্র বিশেষে স্বপ্ন বাস্তবের সঙ্গে মিলে গেলে মানুষ ভাবতে ভালবাসে যে স্বপ্নই হয়তো সত্যি হল। তবে গবেষণা বলছে বিষয়টি নিতান্তই কাকতলীয়। এখনও পর্যন্ত এর কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

তবে এমনটা হতে পারে, ভোরের দিকের পাতলা ঘুমের যে স্বপ্ন, তাতে বাস্তবে ঘটা আশপাশের কিছু শব্দ, আলো প্রভাব ফেলে। সে জন্যই হয়তো তার সঙ্গে পরেও বাস্তবের মিল পাওয়া যায়। তবে এ নিয়ে নানা মনোবিদের নানা মত রয়েছে, রয়েছে নানা পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যাও। এক কথায় বলতে গেলে, ভোরের স্বপ্ন সরাসরি সত্যি হয় না তবে স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের সমাপতন ঘটে প্রায়ই।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *