ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১১:০০ পূর্বাহ্ন
দেড়মাসেই পতনের মুখে দাঁড়িয়ে কাবুল! আফগানিস্তানে পুনরুত্থান তালিবান-রাজের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

দেড়মাসেই পতনের মুখে দাঁড়িয়ে কাবুল! আফগানিস্তানে পুনরুত্থান তালিবান-রাজের


পতনের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। তালিবান সেনারা চারদিক থেকে ঢুকে পড়ছে কাবুলে। জালালাবাদের মতো কাবুলও বিনাযুদ্ধে তালিবানের হাত উঠে আসতে পারে। কেননা অফগানিস্তানের আশরাফ গনি সরকার আগে থেকেউই সমস্ত দফতর খালি করে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্যান্য দেশ নিজেদের দূতাবাস খালি করে দিয়েছে।

দেড়মাসেই পতনের মুখে দাঁড়িয়ে কাবুল! আফগানিস্তানে পুনরুত্থান তালিবান-রাজের
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি শনিবার জাতির উদ্দেশে এক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। এরপরই মাজার-ই-শরিফ দখল হয়ে যায়। তারপর থেকে আশরাফ গনিকে জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি। ফলে তাঁর দেশত্যাগের জল্পনাও তুঙ্গে উঠেছে।


তালিবানরা চাইছে না, ক্ষমতা হস্তান্তর গায়ের জোরে হোক। তারা চাইছে সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হোক। কোনওপক্ষই চাইছে না সাধারণ মানুষ যেন হিংসার বলি না হন। কাবুলের মানুষের জীবন বিপন্ন করে ক্ষমতা চান না তালিবানরা। তাই শহরের বাইরে যোদ্ধদের অপেক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছে তালিবানরা। মাত্র দেড় মাসেই তালিবানরা আফগানিস্তান দখলের জায়গায় চলে এসেছে।

আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করতে শুরু করেছিল ১০ মার্চ। তারপর জুন মাসের শেষ থেকে আফগান বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। আফগান বাহিনীকে পরাস্ত করে দেশের দক্ষিণপ্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে তালিবানরা। দেড় মাসের মধ্যেই আফগানিস্তান প্রায় দখল কর নেয় তারা। এর আগে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তি হয়ে গিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।

একের পর এক শহর দখল করে তালিবানরা জালালাবাদ দখল করে নেয় শনিবার। তারপর দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ করতে কাবুলের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে তালিবানরা। আফগানিস্তানের সমস্ত বড় শহরই রাজধানী কাবুল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাজধানী কাবুল দখল করে দখলদারি সম্পূর্ণ করতে তালিবানরা প্রবেশ করতে শুরু করে শহরের বুকে।


মাজার-ই-শরিফের উত্তরের তালিবান-বিরোধী ঘাঁটি দখল করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর জঙ্গিরা পূর্ব জালালাবাদ শহর দখল করে নেয়। তারপরই কাবুল অরক্ষিত হয়ে পড়ে একপ্রকার। পিছু হটে আফগান সেনারা। তালিবানরা কাবুলের বাইরে টহল দিতে শুরু করে। রবিবার তারা পিল পিল করে ঢুকে পড়ে কাবুলে।

রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন অতিরিক্ত এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে দূতাবাসের কর্মচারী এবং হাজার হাজার আফগান যারা আমেরিকান বাহিনীর জন্য কাজ করেছেন, তারা নিরাপদে ফিরতে পারেন এখন তালেবানদের প্রতিশোধের আশঙ্কা করছেন তাদের কাবুল থেকে জরুরী সরিয়ে নেওয়ার জন্য সাহায্য করেন। মে মাসে বাইডেন ঘোষণা করেছিলেন আফগানিস্তান থেকে সামরিক বাহিনী চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহারের। ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা ছিল। তার আগেই তালিবানরা দখল করে নিল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার/এনবিএস/২০২১্একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *