ঢাকা, সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক, লক্ষণ চিনুন, জেনে নিন কী করবেন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক, লক্ষণ চিনুন, জেনে নিন কী করবেন

হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ক্রমেই বাড়ছে। আর এর জন্য দায়ী আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন। ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড, তেল–ঝাল–মশলাদর খাবার এখন আমাদের খুবই প্রিয়। ফলে রক্তে বাড়ছে কোলেস্টেরলের পরিমাণ। আর এই কোলেস্টেরল হার্টের অন্যতম প্রধান শত্রু। করোনারি ধমনীর দেওয়ালের ভেতরের দিকে ধীরে ধীরে কোলেস্টেরলের চর্বি জমে। ফলে আর্টারি বা ধমনী সরু ‌হয়ে বন্ধ করে দেয় হার্টে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল। যার অর্থ হার্টের সমস্যা, বুকে ব্যথা। এ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান তো রয়েছেই। এখন আমাদের শরীরচর্চা করতে ইচ্ছে করে না। ফলে দেখা দিচ্ছে ওবেসিটির সমস্যা, যা হার্টের অসুখের অন্যতম একটি রিস্ক ফ্যাক্টর।

হার্ট অ্যাটাক কী? – হার্টের আর্টারি বা ধমনীতে প্লাঙ্ক বা চর্বি জমে সরু হয়ে গেলে সেখানে রক্ত সঞ্চালন আর স্বাভাবিক থাকে না, রক্ত জমাট বাঁধে বা রক্তের ক্লট তৈরি হয়। এর ফলে আর্টারিতে রক্ত সঞ্চালন পুরোপুরি বা বেশিরভাগটাই বন্ধ হয়ে যায়। আর তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়।

হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ – বুকে ব্যথা হলেই সেটা সবসময় হার্টের ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাক নয়। আগে নিশ্চিত হতে হবে কীসের ‌জন্য হচ্ছে। হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কিনা তা কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যায়—

● হার্ট অ্যাটাকের কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে, যেমন— উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, বংশগত করোনারি হার্ট ডিজিজ, অতিরিক্ত ধূমপান করেন এমন ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেশি।

● হার্ট অ্যাটাক হলে হঠাৎ করে বুকের মাঝখানে ও বাঁদিকে ব্যথা হবে। ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে বাঁ বা ডান হাতে, পিঠে, চোয়ালে, গলায়। অনেক সময় পেটের ওপরের অংশেও ব্যথা হয়। এর পাশাপাশি প্রচণ্ড ঘাম হয়। তখনই বুঝতে হবে সেটা হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা। ● হঠাৎ করে শ্বাসকষ্টও হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম উপসর্গ।

হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকে কী করণীয়? ● উপসর্গ দেখে হার্ট অ্যাটাক নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমেই রোগীকে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর আর্টারিতে জমাট বাধা রক্তের ক্লটকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গলিয়ে দিতে হয়। আর সেটা হাসপাতাল ছাড়া সম্ভব নয়। আর এটা যত দেরি হবে হার্টের পেশি তত বেশি ড্যামেজ হতে থাকবে।

● হাসপাতালে পৌঁছে সবার আগে রোগীর ইসিজি করা হয়। যদি সেখানে ইকো–কার্ডিওগ্রামের সুবিধা থাকে তাহলে সেটা করাই ভালো। এই পরীক্ষার মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় চিকিৎসা।

● হার্ট অ্যাটাকের রোগীর চিকিৎসায় প্রথম ২–৩ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির সুযোগ নেই সেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে করোনারিতে জমা রক্তের ক্লট গলানোর জন্য সরাসরি ভেন–এ ইঞ্জেকশন (থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি) দেওয়া হয়।

● তবে হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে দ্রুত সুস্থ করতে সবচেয়ে ভাল ও কার্যকরি চিকিৎসা হল প্রাইমারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি। অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করে হার্টের আর্টারির কোথায়, কতটা ব্লক আছে সেটা দেখার পর প্রাইমারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়। বর্তমানে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হার্টের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা।

● হার্ট অ্যাটাক হলে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা দরকার। চিকিৎসা শুরু করতে যত দেরি হবে জটিলতাও ততই বাড়বে। খবর দ্য ওয়ালের

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *