ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
অত্যাচার করে বোনকে মেরেছিল তালিবান, প্রতিশোধ চান আফগানিস্তানের সালেহ
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

অত্যাচার করে বোনকে মেরেছিল তালিবান, প্রতিশোধ চান আফগানিস্তানের সালেহ

আমরুল্লাহ সালেহ। আফগানিস্তানের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি। তালিবান যখন গোটা দেশ দখল করে নিয়েছে, কাবুলের মসনদে যখন বসেছেন জঙ্গিদলের প্রধান, যখন দেশের রাষ্ট্রপতি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যত্র, তখনও তিনি হার মানতে নারাজ। হিন্দুকুশ পর্বতের কোনও এক গোপন ডেরায় বসে জঙ্গিরোধের ছক কষছেন আমরুল্লাহ সালেহ।

আফগানভূমের এই সাহসী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাজনীতিবিদের অতীত ইতিহাসের দিকে চোখ রাখলে কিন্তু অবাক হতে হয়। এখনও পঞ্চাশের কোঠায় পা রাখেননি সালেহ। আটচল্লিশ বছরে জীবনের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত। আর আফগানিস্তানের রুক্ষ মাটির কাঠিন্যই হয়তো আর আরও কঠোর করে তুলেছে তাঁকে।


আফগানিস্তানে মোট ৩৪টি প্রদেশ রয়েছে। তার মধ্যে একমাত্র প্রদেশ পাঞ্জশির যেখানে এখনও ঘেঁষতে পারেনি তালিবান। আর এই পাহাড়ি প্রদেশে বসেই নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন সালেহ। জানিয়েছেন, কোনওভাবেই মাথা নত করবেন না তিনি। যাঁরা তাঁর উপর ভরসা রেখেছে, তাঁদের হতাশ করবেন না। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন আমরুল্লাহ সালেহ।

ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন সালেহ। পাঞ্জশিরের অনাথ জীবনে অবহেলাই ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তখনও অন্তরের প্রতিজ্ঞা টলেনি। একসময় কচি বয়সেই তালিবান-বিরোধী ক্রিয়াকলাপে যোগ দেন সালেহ। আর তার ফলও ভুগতে হয়। তালিবানের আক্রমণে প্রাণ যায় সালেহ-র বোনের।

শোনা যায় ১৯৯৬ সালে তালিবানের কবলে পড়েন সালেহ-র বোন। অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে তিল তিল করে খুন করা হয় তাঁকে। একটি সাক্ষাৎকারে সালেহ জানিয়েছেন, সেদিন থেকে তালিবানি শাসন সম্পর্কে আমার ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায়। আর কখনও তার পরিবর্তন হবে না। তালিবান বিরোধী লড়াইয়ে কখনও বিরাম দেননি তিনি।

১৯৯৭ সাল থেকে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করতেন সালেহ। তাজিকিস্তানের আফগান দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন তিনি। তারপর আমেরিকায় ভয়ঙ্কর ৯/১১ হামলা ঘটে। আফগান যুদ্ধে অনুপ্রবেশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যান সালেহ। কাবুলিওয়ালার দেশ থেকে তালিবানি আগ্রাসন মুছে ফেলাই একমাত্র লক্ষ্য।

২০০৪ সালে আফগানিস্তান ইনটেলিজেন্স এজেন্সির প্রধান নিযুক্ত হন সালেহ। এই সময় থেকেই একটি শক্তিশালী স্পাই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছিলেন তিনি। পাকিস্তানের প্রতি একটা চূড়ান্ত ঘৃণা এই সময় থেকেই জন্ম নেয় সালেহ-র মনে। কারণ কাঁটাতারের ওপার থেকে জঙ্গি মদতের ঘটনা চোখের সামনে দেখেছেন তিনি। ওই বিশেষ মদতের জন্যেই দেশের অভ্যন্তরে তালিবান বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।

এরপর আফগানিস্তানের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন আমরুল্লাহ সালেহ। আমেরিকা সেনা প্রত্যাহারের পর তালিবানি আগ্রাসন বাড়তে থাকে। পাঞ্জশিরকে একার চেষ্টায় তালিবানমুক্ত রেখেছেন তিনি। তাঁর লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন আফগানরা। খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *