ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
কারবালার শহীদদের লাশ দাফনের বর্ণনা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কারবালার শহীদদের লাশ দাফনের বর্ণনা

কোনো কোনো বর্ণনার আলোকে মনে করা হয় যে ১৩ মহররম ইমাম হুসাইন (আ) ও তার সঙ্গীদের লাশ দাফন করা হয়েছিল বনি আসাদ গোত্রের লোকদের মাধ্যমে ১৩৮২ চন্দ্রবছর আগে। আবার কেউ কেউ বলেন হযরত যায়নুল আবেদিনই তাঁর পিতার লাশ দাফন করেছিলেন।

[ইরশাদ’ গ্রন্থে আছে] যখন উমর বিন সা'আদ চলে গেল, বনি আসাদের একটি দল এলো, যারা গাযিরিয়াতে বসবাস করতো। তারা ইমাম হুসাইন  (আঃ) ও তার সাথীদের লাশের জানাযার নামাজ পড়লো এবং তাকে সেখানে দাফন করলো যেখানে তার কবর বর্তমানে অবস্থিত। তারা আলী আকবার (আঃ)-কে দাফন করলো ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর পায়ের কাছে; আর তার পরিবার ও সাথীদের মধ্যে যারা শহীদ হয়েছিলো, যারা তার চারপাশে (প্রাণ হারিয়ে) মাটিতে পড়েছিলেন, তাদের সবাইকে একটি কবরে তার পায়ের পাশে দাফন করা হল। তারা আব্বাস বিন আলী (আঃ)-কে গাযিরিয়ার দিকে যে রাস্তা গেছে তার ওপরে দাফন করলো যেখানে তিনি শহীদ হয়েছিলেন এবং বর্তমানে সেখানেই তার কবর অবস্থিত।

(কামিল-ই-বাহাই’-তে বর্ণিত হয়েছে যে, আল হুর বিন ইয়াযীদকে তার আত্মীয়রা দাফন করেছিলো তার শাহাদাতের জায়গাটিতে। বলা হয়েছে যে, আরবদের সব গোত্রের মধ্যে বনি আসাদ ইমাম হুসাইন  (আঃ) এবং তার সাথীদের লাশের জানাযা পড়া ও দাফন করার সম্মান লাভ করেছিলো।

ইবনে শাহর আশোব এবং মাসউদি বলেন যে, গাযিরিয়ার লোকেরা, যারা বনি আসাদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল, ইমাম হুসাইন  (আঃ) এবং তার সাথীদের দাফন করেছিলো তাদের শাহাদাতের একদিন পর। বলা হয় যে, তাদের বেশীর ভাগের কবরই প্রস্তুত পাওয়া গিয়েছিলো এবং সাদা পাখীদের দেখা গিয়েছিলো তাদেরকে তাওয়াফ করছে।

সিবতে ইবনে জাওযি তার তাযকিরাহ’-তে বর্ণনা করেছেন যে, যুহাইর বিন ক্বাইন শহীদ হয়েছিলেন ইমাম হুসাইন  (আঃ) ও তার সাথীদের সাথে । তার স্ত্রী তার দাসকে পাঠিয়েছিলেন এ কথা বলে, “যাও, তোমার মালিককে কাফন পরিয়ে দাও।" সে গেলো এবং দেখল ইমামের দেহ বিবস্ত্র পড়ে আছে। সে নিজেকে বলল, “কীভাবে সম্ভব যে আমি আমার মালিককে কাফন পরাবো আর ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর দেহ বিবস্ত্র থাকবে? না, আল্লাহর শপথ।” একথা বলে সে ইমাম হুসাইন  (আঃ)-কে কাফন পরিয়ে দিলো এবং অন্য একটি দিয়ে তার মালিককে কাফন পরিয়ে দিলো ।

মনে রাখা উচিত যে, এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, একজন নিষ্পাপ ব্যক্তিকে (মাসুম) কাফন পরানো এবং দাফন করতে পারেন শুধু একজন নিষ্পাপ ব্যক্তি, অন্য কেউ নয়। আর একজন ইমামের লাশকে শুধু একজন ইমামই গোসল দিতে পারেন, অন্য কেউ নয়। যদি কোন ইমাম মৃত্যুবরণ করেন পূর্ব দিকে এবং তার উত্তরাধিকারী (আরেক জন ইমাম) থাকেন পশ্চিমে, আল্লাহ তাদেরকে একত্রিত করবেন।

ইমাম মুহাম্মাদ আল জাওয়াদ (আঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইন্তেকাল করলেন, জিবরাঈল অন্য ফেরেশতাদেরসহ এবং রুহুল কুদ্দুস, যারা ক্বদরের রাতে অবতরণ করেছিলেন, অবতরণ করলেন। আমিরুল মুমিনীন ইমাম আলী (আঃ)-এর চোখের উপর থেকে পর্দা উঠিয়ে ফেলা হয়েছিলো, তিনি দেখলেন আকাশগুলো খুলে গেছে। তারা তাকে গোসল দিতে সাহায্য করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর লাশের জানাযার নামাজ পড়লেন এবং তার কবর প্রস্তুত করলেন। আল্লাহর শপথ, তারা ছাড়া আর কেউ তার কবর খুঁড়েনি এবং তারা তাকে সাহায্য করেছিলেন দাফন করা পর্যন্ত। যখন তারা তাকে দাফন করছিলেন এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের সাথে কথা বলছিলেন। ইমাম আলী (আঃ) তাদের কথাবার্তা শুনছিলেন যে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফেরেশতাদেরকে তার বিষয়ে আদেশ করছিলেন। ইমাম আলী (আঃ) কাঁদলেন এবং ফেরেশতারা জবাব দিলো, “আমরা তার বিষয়ে কৃপণের মত আচরণ করবো না। নিশ্চয়ই তিনি আপনার পরে আমাদের ওপর কর্তৃপক্ষ এবং কেউ এরপরে আমাদের আর দেখবে না।”

বিশ্বাসীদের আমির ইমাম আলী (আঃ)-এর শাহাদাতের পর ইমাম হাসান (আঃ) এবং ইমাম হুসাইন  (আঃ) একই জিনিস প্রত্যক্ষ করলেন তার দাফনের সময়। তারা দেখলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজে ফেরেশতাদের সাহায্য করছেন। আর যখন ইমাম হাসান (আঃ)-কে শহীদ করা হল একই পরিস্থিতি ছিল এবং দেখা গিয়েছিলো যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং ইমাম আলী (আঃ) ফেরেশতাদের সাহায্য করছেন তার দাফন প্রক্রিয়ায়। এরপর যখন ইমাম হুসাইন  (আঃ)-কে শহীদ করা হল, ইমাম আলী বিন হুসাইন  (আঃ) একই জিনিস প্রত্যক্ষ করলেন।

বর্ণিত হয়েছে যে, ‘ওয়াক্বিফি’-দের সামনে ইমাম আলী আল রিজা (আঃ) তার যুক্তিতর্ক পেশ করার সময় আলী বিন আবি হামযা তার কথার প্রতিবাদ করলো এ বলে যে, “আমরা আপনার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে হাদীস পেয়েছি যে, একজন ইমামের জানাযা ও দাফন করবেন একজন ইমাম, অন্য কেউ নয়।”

যেহেতু ওয়াক্বিফি-রা ইমাম আল রিজা (আঃ)-এর ইমামত অস্বীকারকারী ছিল, তাই তারা বুঝাতে চাচ্ছিল যে, যখন ইমাম মূসা কাযিম (আঃ) শহীদ হলেন, তিনি মদীনায় ছিলেন। আর তার পিতার লাশ ছিল হারুনের সর্দারদের কাছে যারা তাকে বাগদাদে দাফন করেছিলো। যদি তিনি সত্যিকারভাবেই ইমাম হতেন তাহলে তিনি দাফনের সময় উপস্থিত থাকতেন। যেহেতু তিনি অনুপস্থিত ছিলেন তাই এটি প্রমাণ করে যে তিনি ইমাম ছিলেন না (আউযুবিল্লাহ)। ইমাম আল রিজা (আঃ) জবাব দিলেন, “আমাকে বলো, যেন আমি জানতে পারি, কে ইমাম হুসাইন  (আঃ)কে দাফন করেছে? সে কি একজন ইমাম ছিল নাকি অন্য কেউ? তিনি বললেন, “দাফনকারীদের প্রধান ইমাম আলী বিন হুসাইন  (যায়নুল আবেদীন) ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না।”

ইমাম জিজ্ঞেস করলেন, “আলী বিন হুসাইন  কোথায় ছিলেন? তিনি কি কুফাতে উবায়দুল্লাহর অধীনে বন্দী ছিলেন না?” তিনি বললেন, “তিনি তাদের অজান্তে বেরিয়ে এসেছিলেন এবং তার পিতার দাফন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং এরপর ফিরে এসেছিলেন। এরপর ইমাম আল রিজা (আঃ) বললেন:

যিনি আলী বিন হুসাইন  (আঃ)-কে ক্ষমতা দিয়েছিলেন কারবালায় যেতে এবং তার পিতার দাফন প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে তিনিই দিয়েছিলেন একই ক্ষমতা ইমামকে (তার নিজেকে) বাগদাদে আসার জন্য (মদীনা থেকে) এবং তার পিতার জানাযা সম্পাদন করতে, যদিও সে বন্দী ছিল না এবং না ছিল কারাগারে।”

শেইখ তুসি তার বর্ণনাকারীদের ক্রমধারার মাধ্যমে ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন সকালে উম্মু সালামা (আঃ) কাঁদতে শুরু করলেন এবং তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি জবাব দিলেন,

“গতরাতে আমার সন্তান হুসাইনকে শহীদ করা হয়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে তার ইন্তেকালের পর স্বপ্নে কখনো দেখি নি গতরাতে ছাড়া, আমি তাকে দেখলাম শোকাহত ও দুঃখে বিপর্যস্ত অবস্থায়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন তাকে এমন নিদারুণ শোকাহত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখছি; তিনি উত্তর দিলেন যে, তিনি সকাল থেকে হুসাইন  (আঃ) ও তার সাথীদের কবর খুঁড়ছেন।”

শেইখ সাদূৰ্ক বর্ণনা করেছেন ইবনে আব্বাস থেকে যে, আমি দুপুর বেলা স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে দেখলাম। তিনি ছিলেন বিপর্যস্ত অবস্থায় ও ধুলোয় মাখা এবং তার হাতে একটি রক্তে ভর্তি বোতল। তিনি বললেন, “এ হল আমার হুসাইনের রক্ত যা আমি জমা করছিলাম সকাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত।” তিনি ঐ দিনটির তারিখ লিখে রাখলেন এবং পরে তা ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর শাহাদাতের দিনটির সাথে মিলে গেলো।

ওপরের হাদিসটির মত আরও বেশ কিছু হাদীস আছে। [মানাক্বি]-এ বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে আব্বাস স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে দেখলেন ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর শাহাদাতের পর, তার চেহারা ধুলোয় মাখা, খালি পা এবং নিদারুণ শোকাহত চোখ এবং তার জামার লম্বা অংশটি গুটিয়ে কোমরে বাঁধা। তিনি কোরআনের এ আয়াতটি তেলাওয়াত করছিলেন:

“ভেবো না, জালেমরা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল; তিনি তাদেরকে শুধু ঐ দিন পর্যন্ত সময় দেন যে দিন চোখগুলো পলকহীন খোলা থাকবে (আতঙ্কে)।” (সূরা ইবরাহীম: ৪২)।

এরপর তিনি বললেন, “আমি কারবালা গিয়েছিলাম এবং আমার হুসাইনের রক্ত মাটি থেকে জমা করছিলাম যা এখন আমার জামার নিচের অংশে লেগে আছে। আমি এখন আমার রবের কাছে যাবো এবং তার কাছে ফরিয়াদ করবো (ন্যায়বিচারের জন্য)।”

ইবনে আসীরের কামিল-এ বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে আব্বাস বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে স্বপ্নে দেখলাম ঐ রাতে যেদিন ইমাম হুসাইন  (আঃ) শহীদ হয়েছিলেন। তিনি তার হাতে একটি বোতল ধরেছিলেন যার ভেতরে ছিল রক্ত। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “হে রাসূলুল্লাহ, এটি কী?” তিনি জবাব দিলেন, “এটি হল হুসাইন  ও তার সাথীদের রক্ত যা আমি আল্লাহর কাছে নিয়ে যাচ্ছি।”

যখন সকাল হল ইবনে আব্বাস লোকজনের কাছে ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর শাহাদাতের কথা জানিয়ে দিলেন এবং তার স্বপ্ন বর্ণনা করলেন। পরে তা প্রতিষ্ঠিত হল যে, সে দিনটি ছিল যেদিন ইমাম হুসাইন  (আঃ) শহীদ হয়েছিলেন।

আমি (লেখক) বলি যে, ইমাম হুসাইন  (আঃ) ও তার সাথে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের দাফন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষসমূহের বইগুলোতে বিস্তারিত বর্ণিত হয় নি। শেইখ তুসি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, বনি আসাদ গোত্রের লোকেরা একটি নতুন চাটাই এনে তা ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর দেহের নিচে বিছিয়ে দিয়েছিলো। দীযাজ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে সে বলেছে, “আমি আমার দাসদের বিশেষ একদলকে নিয়ে ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর কবর খুঁড়ে উন্মুক্ত করলাম। আমি দেখলাম একটি নতুন চাটাইয়ের ওপর ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর দেহ শোয়ানো আছে, আর তা থেকে মেশকের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। আমি ঐ চাটাইটি আগের জায়গাতেই রেখে দিলাম যার ওপরে ইমামের দেহ শোয়ানো ছিল। এরপর আমি আদেশ দিলাম মাটি দিয়ে ভরে দিতে এবং তার ওপর পানি ছিটিয়ে দিতে।

আবিল জারুদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রথমে ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর কবর মাথার দিক থেকে উন্মোচন করা হল, এরপর পায়ের দিকে। মেশকের সুগন্ধ তা থেকে ছড়িয়ে পড়ছিলো এবং কারো এতে সন্দেহ ছিলো না।

 যায়েদাহ থেকে একটি সুপরিচিত হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের শেষে আমরা উদ্ধৃত করেছি যে, জিবরাঈল রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বললেন, “আপনার এ নাতি”, তিনি তা বললেন ইমাম হুসাইন  (আঃ)-এর দিকে ইশারা করে, “শহীদ হবে আপনার পরিবার, বংশ এবং আপনার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত ধার্মিক একদল মানুষের সাথে ফোরাত নদীর তীরে, জায়গাটির নাম কারবালা।” তিনি আরও বললেন, “যখন তারা লুটিয়ে পড়বে তাদের আরামের জায়গায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের আত্মাগুলোকে নিজের হাতে হরণ করবেন, আর সপ্তম আকাশের ফেরেশতারা আসবে লালমি ও পান্না-এর ট্রে নিয়ে যা পূর্ণ থাকবে চির জীবন লাভের পানি দিয়ে এবং থাকবে জান্নাতের চাদর ও সুগন্ধি, এরপর তারা দলে দলে তার লাশের জানাযার নামাজ পড়বে। 

এরপর আল্লাহ আপনার উম্মতের মধ্যে একটি দলকে ক্রিয়াশীল করবেন, যাদেরকে মুশরিকদের রাজ্য চিনতে পারবে না, না তারা তার সাথে রক্ত, বক্তব্য, ধারণা ও কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবে। তারা তাদেরকে দাফন করবে এবং একটি নিদর্শনকে দাঁড় করাবে শহীদদের সর্দারের জন্য ঐ মরুভূমির বুকে, যা সৎকর্মশীলদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসাবে কাজ করবে এবং বিশ্বাসীদের জন্য সমৃদ্ধির মাধ্যম হবে এবং প্রতিদিন প্রত্যেক আকাশ থেকে একশ লক্ষ ফেরেশতা একে তাওয়াফ করবে এবং তার প্রতি সালাম পেশ করবে। তারা আল্লাহর তাসবিহ করবে এবং তাঁকে অনুরোধ জানাবে তাদেরকে নাজাত দেয়ার জন্য যারা তার কবর যিয়ারতে গেছে। এরপর তারা যিয়ারাতকারীদের নাম লিখে নিবেপার্সটুডে/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *