ঢাকা, রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
কোভিড ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা অনেকে সার্টিফিকেট পাননি একবছর পরেও
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কোভিড ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা অনেকে সার্টিফিকেট পাননি একবছর পরেও

৬৫ বছর বয়সী এ কে খান্না একসময় ওষুধ কোম্পানিতে উঁচু পদে চাকরি করতেন। গতবছর সেরাম ইনস্টিটিউট পরীক্ষামূলকভাবে যে পাঁচজনকে প্রথম কোভিশিল্ড ইঞ্জেকশন দিয়েছিল, খান্না তাঁদের মধ্যে একজন। ২০২০ সালে অগাস্টে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকেও পরীক্ষামূলকভাবে ওই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার একবছর বাদেও প্লেনে উঠতে গেলে তাঁদের আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতে হয়। কারণ তাঁরা ভ্যাকসিনেটেড হিসাবে সরকারি সার্টিফিকেট পাননি। ট্রায়াল সেন্টার থেকে তাঁদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল ঠিকই কিন্তু অনেকে মনে করেন, তার কোনও দাম নেই।

খান্না জানান, সম্প্রতি জম্মু বিমানবন্দরে ট্রায়াল সেন্টার থেকে দেওয়া তাঁর সার্টিফিকেট বাতিল করে দেওয়া হয়। বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের ধারণা হয়েছিল, ওই সার্টিফিকেট জাল। খান্নার কথায়, “আমি জানতাম ট্রায়াল সেন্টারের দেওয়া সার্টিফিকেট অনেকে মানতে চাইবে না। তাই আমি আগেই আরটি-পিসিআর টেস্ট করিয়েছিলাম।” পরে তিনি বলেন, তাঁরা সকলের আগে সাহস করে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার এখনও তাঁদের ভ্যাকসিনেটেড বলে সার্টিফিকেট দেয়নি। তাঁদের ওপরে অন্যায় করা হচ্ছে।


কোভিশিল্ডের পরীক্ষায় ১৬০০ স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেছিলেন। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ২৫ হাজার ৮০০ জন। ভারত বায়োটেকের এক অফিসার জানিয়েছেন, যে স্বেচ্ছাসেবকরা তাঁদের কোম্পানিকে সাহায্য করেছেন, তাঁদের ৫০ শতাংশকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। বাকি অর্ধেককে দেওয়া হয়েছিল প্ল্যাসেবো। অর্থাৎ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শেষ হওয়ার পরে ওই ৫০ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁদের সবাইকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা কো-উইন অ্যাপ থেকে সার্টিফিকেট পাননি।

পুনের শিল্পপতি হেমন্ত কাটাক্কার কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ৬৪ বছর বয়সী কাটাক্কার আরও অন্তত ২০ জনকে স্বেচ্ছাসেবক হতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। কাটাক্কার জানান, ট্রায়ালের সময় কেউ জানতেন না কাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে আর কারা পাচ্ছেন প্ল্যাসেবো। পরে অবশ্য স্বেচ্ছাসেবকদের সব জানানো হয়।

গত মার্চে কাটাক্কার ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন। এখনও তিনি কো-উইনের সার্টিফিকেট পাননি। তিনি অভিযোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসেও চিঠি লিখেছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনও কোনও সমাধান হয়নি। কাটাক্কারের এক বন্ধুও স্বেচ্ছাসেবক হয়েছিলেন। ব্যবসার কাজে তাঁর দুবাই যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ট্রায়াল সেন্টারের সার্টিফিকেটকে কেউ গ্রাহ্য করছে না। কো-উইনের সার্টিফিকেট পাননি বলে তিনি বিমানে উঠতে পারছেন না। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১ একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *