ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ, স্থাপনা ভাঙ্গন যেন রহস্য ঘেরা!
নবাবগঞ্জ সংবাদদাতা
আব্দুল মালেক বিশ্বাসের বাড়ি

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ, স্থাপনা ভাঙ্গন যেন রহস্য ঘেরা!

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন আগলা ইউনিয়ন এলাকার টিকরপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র লুৎফর রহমান, একই গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মৃত রামপাল বিশ্বাসের পুত্র নরেশ বিশ্বাসের নিকট থেকে ২০১৭ সালের ১১ জুন তারিখে ৩.৬৭ শতাংশ জমি প্রায় পৌনে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে খরিদ করেন। যার উত্তরে সুশিল সরকার, দক্ষিণে হালট, পূর্বে রাস্তা, পশ্চিমে ইছামতি নদী। লুৎফর রহমান তার খরিদ করা জায়গায় আধাপাকা বাড়ী নির্মাণ করার সময় তার জায়গার পাশে থাকা ইছামতি নদীর পতিত কিছু জায়গার উপর স্থাপনা নির্মাণ করেন। 

তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, ইছামতি নদীর জায়গার উপর শুধু লুৎফর রহমানই স্থাপনা নির্মাণ করে নাই, এখানে আরো বেশি করে নদীর জায়গায় ঘর নির্মাণ করে ঝাঁকজমকভাবে খাবার হোটেল বসিয়ে দেদারছে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আলাউদ্দিন মেম্বারের পুত্র লিটন এবং বসত বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করছেন আব্দুল মালেক বিশ্বাস, রামার মেয়ের জামাই বেকা সুশীল, কোকিল বিশ্বাসসহ আরো অনেকে। এ ক্ষেত্রে কুচক্রী মহলের যোগসাজসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একতরফা সিদ্ধান্ত বা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ২০ মে ২০২১ তারিখে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে শুধুমাত্র লুৎফর রহমানের স্থাপনাটুকু ভেঙ্গেই ভাঙ্গন কাজের সমাপ্তি করেন। অন্যদের স্থপনা না ভেঙ্গে যেন আশির্বাদ করে গেলেন। এটা কেমন কান্ড?

আলাউদ্দিন মেম্বারের পুত্র লিটনের খাবার হোটেল

এলাকাবাসীর কথা লুৎফর রহমান এলাকার নিরিহ মানুষের স্বার্থে নিজস্ব অর্থায়নে নদীর জায়গায় একটি পাকা ঘাটলা নির্মাণ করে দিলেন। যে ঘাটলার সুফল পাচ্ছে এলাকার মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের লোকেরা সহ সর্বস্তরের মানুষ। সেই ঘাটলাটি ভাঙ্গার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কুচক্রীমহলের লোকেরা কিছু বলছে না। শুধুমাত্র লুৎফর রহমানের বাড়ী ভাঙ্গনের ব্যাপারে এত মরিয়া হয় কেন? যারা একই জায়গায় খাবার হোটেলসহ বসত বাড়ী নির্মাণ করে সমান অপরাধের অপরাধী, যারা ওই সমস্ত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে এক পাশে থাকা হিন্দুদের দুর্গা মন্দিরে পূজা করতে আসা ভক্ত ও অনুস্বারীদেরসহ দর্শনার্থীদের আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে, তাদের স্থাপনা কেন ভাঙ্গা হলো না? তাদেরকে কেন নদীর জায়গা আরো বেশি করে দখল করার জন্য উল্লাসিত করা হলো? তাদের স্থাপনা না ভাঙ্গার কারণ কি? তাদের সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোন সখ্যতা, আত্মীয়তা বা অবৈধ সমঝোতা আছে কি? রাষ্ট্রীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা ভেবে দেখবেন। আমরা নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এরূপ প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের অবসান চাই।

এ ব্যাপারে একাধিক পত্রিকায় গত ১৩ জুন ২০২১ তারিখে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *