ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
জামালগঞ্জে হাওরের বাঁধ কেটে দিলো দুষ্কৃতিকারীরা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

জামালগঞ্জে হাওরের বাঁধ কেটে দিলো দুষ্কৃতিকারীরা

হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনা হাওরে রাতের আঁধারে বেড়িবাঁধ কেটে দিয়েছে একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার সর্ববৃহৎ ফসলী জমির ভান্ডার হিসেবে খ্যাত ফেনারবাকঁ ইউনিয়নের গজারিয়া ও কামধরপুরের মাঝখানের ভরাটকৃত ক্লোজার টি গভীর রাতে কেটে দেয়া হয়েছ। স্থানীয়রা ধারনা করছেন মৎস্যজীবি একটি চক্র রাতের আধাঁরে মৎস্য আহরণের জন্য এই বেড়ি বাঁধটি ছিল তাদের বাধাঁর প্রধান অন্তরায় তাই চুরি করে মৎস্য আহরনের জন্য তারা এই বাধঁটি কেটে দিয়ে মৎস্য আহরনের পথটি সুগম করে দিলেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন গজারিয়া, কামধরপুর ও আলীপুর গ্রামের হাজারো আমন চাষী ও কৃষকরা। ক্লোজার দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করায় ফেনারবাকঁ ইউনিয়নের আমন চাষী ও কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে।

জানাযায়, গজারিয়া ভেরিবাঁধের ক্লোজার মাছ খেকোরা কেটে দেওয়ায় প্রায় ৫০০-৬০০ বিঘা আমন ধান রোপন করার স্বপ্ন ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেছে কৃষকের। আমন ধান রোপনের জন্য বীজ বপন করা হলেও কৃষকের চোখের সামনে তলিয়ে গেছে বীজ তলা। গজারিয়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন প্রবেল মিয়া বলেন, দুষ্কৃতি কারী চক্র তাদের নিজেদের সামান্য লাভের আশায় আবুড়া বেড়িবাঁধ কেটে গজারিয়া, কামধরপুর, আলীপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার কৃষক পরিবারের পেটে লাথি দিয়েছে। ওদের খুজে বেড় করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের নিকট দাবী জানান। কামধরপুর গ্রামের কৃষক তোফায়েল বলেন, বাঁধকাটার কারনে আামাদের গ্রামের প্রায় কৃষকের আমন বীজতলা ডুবে গেছে। এতে আমাদের আনেক ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাশরেফুল আলম বলেন, গজারিয়া বেরিবাঁধটি কেটে দেওয়ায় ২ হেক্টর আমন বীজতলা আক্রান্ত এর মধ্যে ১ হেক্টর বীজতলা পুরোপুরি নষ্ঠ হয়েছে। সঠিক সময়ে আমন চাষ করতে না পারলে এ এলাকার কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, গজারিয়া বেরিবাঁধের ক্লোজারটি যারা কেটে দিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে অনুসন্ধান চলছে। আমি নিজেও বিভিন্ন মাধ্যমে খোজ নিচ্ছি।

এদিকে, সুনামগঞ্জের ছাতকে গত এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে চলছে বর্ষণ। অতিবৃষ্টির ও উজান থেকে নেমে আসছে পাহাড়ি ঢল। বর্ষার শেষ সময়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় এখন নিমজ্জিত উপজেলার অধিকাংশ রোপা আমন ক্ষেত ও বীজতলা। যার ফলে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে পানি বৃদ্ধির কারনে যে সব জমিতে আমন ক্ষেতে চারা রোপন করা হয়ে ছিলো, সেই সব জমির অধিকাংশই ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসলের জমি থেকে পানি দ্রুত না নামলে বড় ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা। 

স্থানীয় কৃষি কার্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী পূরো উপজেলায় রোপা আমন জমির পরিমান ১৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর। চলতি বছরে আমন ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৯২ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে ধান উৎপাদন হবে ৩২ হাজার ৫শ’৯৮ মেট্রিকটন, এমনটাই লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয় কৃষি কার্যালয়ের। বন্যার কারনে আমনের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান এ পর্যন্ত ২০ হেক্টর জমির ধান ক্ষেত ও ১৫ হেক্টর জমির বীজ তলা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। আগষ্ট মাসের ১ম সপ্তাহে আমন রোপন শুরু করেন স্থানীয় কৃষকরা এবং রোপন শেষ হবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তবে বৃষ্টির কারনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমন রোপনের চারা রোপনে বিড়ম্বনায় পড়েছেন কৃষকরা।

এ উপজেলায় সরকারী ভাবে কৃষি পূর্নবাষন বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে মোট ৩৬০জন কৃষককে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও সরকারী খরচে বাছাইকৃত মোট ১৪০ জন কৃষককে ১ বিঘা জমি ফলনে উন্নত মানের উফসী জাতের বীজ ৩০টি প্রদর্শনীর জন্য সার ও বীজ বিতরণ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *