ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন
ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে যথেষ্ট হারে, জানালেন বিজ্ঞানীরা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে যথেষ্ট হারে, জানালেন বিজ্ঞানীরা

 ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও যে হারে অনেকে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন, তাতে আশ্চর্য হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভ্যাকসিন যে মানুষের শরীরে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার পরেও ভ্যাকসিন অতিমহামারী প্রতিরোধে যত ভাল কাজ করবে ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে তা হচ্ছে না। ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে ঠিক কত শতাংশ মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তার নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এসম্পর্কে যেটুকু জানা গিয়েছে, তার ভিত্তিতেই করোনা মোকাবিলার নতুন পদ্ধতি স্থির করতে হচ্ছে।

বিদেশে অনেক অফিসে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভ্যাকসিন নিলেও মাস্ক পরে আসতে হবে। অনেক অফিস এখনও কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলেছে। আমেরিকায় সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের প্রাক্তন ডিরেক্টর টম ফ্রিডেন বলেন, “করোনা সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানি না। সেকথা স্বীকার করে নেওয়াই ভাল।” ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ছোঁয়াচে রোগ বিশেষজ্ঞ মণিকা গান্ধী বলেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা সকলেই অন্তত এমন একজনকে চিনি যে প্রতিষেধক নেওয়ার পরে ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যদিও এসম্পর্কে কোনও ক্লিনিক্যাল ডাটা আমাদের কাছে নেই।


এর মধ্যে চিন্তা বাড়াচ্ছে কোভিডের ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্ট। ভারত সহ কয়েকটি দেশে ওই নতুন ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব টের পাওয়া গিয়েছে। মহারাষ্ট্রে মোট ১০৩ জন কোভিডের ঐ নতুন ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছেন। মুম্বইতে কোভিড পজিটিভ ১৮৮ জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১২৮ জনের নমুনায় ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্ট ধরা পড়েছে। অর্থাৎ নতুন ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ শতাংশ কোভিড রোগী।

আক্রান্তদের দু’টি নমুনায় পাওয়া গিয়েছে আলফা ভ্যারিয়ান্ট। ২৪ টি নমুনায় পাওয়া গিয়েছে কাপ্পা ভ্যারিয়ান্ট। মহারাষ্ট্রে এখন নিয়মিত কোভিড আক্রান্তদের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার জানতে চায়, কোন ভ্যারিয়ান্ট কতদূর ছড়িয়েছে।

সোমবার মহারাষ্ট্রে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬৪৩ জন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারির পরে এদিনই আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে কম। সোমবার কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৭৯৫ জন। রাজ্যে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যাও নেমেছে ৫০ হাজারের নীচে। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে মহারাষ্ট্রে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ লক্ষ ২৮ হাজার ২৯৪ জন। মারা গিয়েছেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬৭ জন। সেরে উঠেছেন ৬২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। রাজ্যে সুস্থতার হার ৯৭.০৫ শতাংশ। মৃত্যুহার ২.১১ শতাংশ।

সোমবার মহারাষ্ট্রের পুনেতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। সেখানে ১৬২৮ জন সংক্রমিত হয়েছেন। কোলাপুর অঞ্চলে সংক্রমিত হয়েছেন ৭৫৭ জন। নাসিকে আক্রান্ত হয়েছেন ৬২৮ জন। মুম্বইতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮১ জন।

মহারাষ্ট্রে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব প্রথমবার লক্ষ করা যায় জুলাইয়ের শেষে। তখন মুম্বইতে ৬৩ বছরের এক মহিলা প্রথম ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন এমন দু’জনের শরীরেও ওই ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফে জানানো হয়, মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে ঘাটকোপার অঞ্চলে গত ২৭ জুলাই এক মহিলা মারা যান। জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর সাহায্যে জানা যায়, তিনি করোনার ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই মহিলা কোভিশিল্ডের দু’টি ডোজ নিয়েছিলেন। কিন্তু ২১ জুলাই তিনি করোনা পজিটিভ হন । খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *