ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
৩১ অগাস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সবাইকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, বললেন মার্কিন কর্তা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

৩১ অগাস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সবাইকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, বললেন মার্কিন কর্তা

তালিবান কাবুল দখল করার পর থেকেই আফগানিস্তানে আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে শুরু করে আমেরিকা। একসময় মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছিল, অগাস্টের মধ্যে সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের ইনটেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম শিফ বলেন, ৩১ অগাস্টের মধ্যে সকলকে ফিরিয়ে আনা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “আফগানিস্তান থেকে বহু সংখ্যক নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ৩১ অগাস্টের মধ্যে অতজনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে।”

রবিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইঙ্গিত দেন, তাঁর প্রশাসনের ভিতরে আলোচনা চলছে যে, মার্কিন বাহিনী সরানোর চূড়ান্ত সময়সীমা ৩১ আগস্টের পর বাড়তেও পারে। আফগানিস্তানের বর্তমান নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলার জন্য বিশ্বব্যাপী সমালোচিত বাইডেন কাবুল বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার অভিযান প্রক্রিয়া মসৃণ করার জন্য সময়সীমা বাড়ানোর কথা চিন্তাভাবনা করছেন। ওদিকে কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় করেছেন তালিবানি শাসনে দেশ ছাড়তে মরিয়া আফগানরা। কিন্তু তালিবান আমেরিকাকে ৩১ আগস্টের পর আর সময় দিতে নারাজ। আমেরিকার সঙ্গে তালিবানের নাকি বোঝাপড়া হয়েই রয়েছে যে,৩১ আগস্ট পর্যন্ত তারা নতুন সরকার ঘোষণা করতে পারবে না। ৩১ আগস্টের  সময়সীমা পেরিয়ে গেলে সেই প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হবে।


মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যে জি ৭ গোষ্ঠীর জরুরি বৈঠক ডেকেছেন, সেখানেও ব্রিটেন আমেরিকাকে সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ করতে পারে বলে খবর। পাশাপাশি ব্রিটেন গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলির সামনে তালিবানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাবও নাকি পেশ করবে। গোষ্ঠীতে আমেরিকা, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, কানাডাও আছে। ব্রিটেনের ধারণা, তালিবান মানবাধিকার  ভঙ্গ করে চললে, সন্ত্রাসবাদীদের আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলে তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ত্রাণও আটকে দেওয়া যায়।

জনসন রবিবার ট্যুইট করেন, নিরাপদে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার  প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতে, মানবতার সংকট এড়াতে , গত ২০ বছরের ফায়দা সুরক্ষিত রাখতে আফগান জনগণকে সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের একজোট হওয়াটা জরুরি।
সোমবার সন্ধ্যায় আফগান মহিলাদের প্রতি সংহতি জানাতে দিল্লির যন্তর মন্তরে উপস্থিত হলেন কয়েকশ মহিলা। তাঁদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘সেভ আফগান উওমেন’। এক বিক্ষোভকারী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আফগান মহিলারা বিপদে পড়েছেন। তাঁদের হয়ে বলার জন্য আমি এখানে এসেছি।” তাঁর মতে, তালিবান নরমপন্থী মনোভাব নিয়ে চলবে বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা মিথ্যা। সেদেশে মহিলাদের বাড়ির বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। অনেককে যৌনদাসী করে রাখা হয়েছে। আফগানিস্তানে এখন সবচেয়ে সংকটে আছে মহিলা ও শিশুরা।

নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, আফগানিস্তানে মহিলাদের ওপরে আগের মতোই অত্যাচার চালাচ্ছে তালিবান। গত শুক্রবার নাজলা আয়োবি নামে এক দেশত্যাগী আফগান আইনজীবী স্কাই নিউজকে জানান, আফগানিস্তানের অনেক মহিলার সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের প্রতি তালিবানের দুর্ব্যবহার, নির্যাতনের অজস্র কাহিনি জেনেছেন।  উত্তর আফগানিস্তানে গত কয়েক সপ্তাহে মেয়েদের কফিনে পুরে যৌন ক্রীতদাসী হিসাবে ব্যবহারের জন্য পড়শি দেশগুলিতে পাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাজলা। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *