ঢাকা, শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
‘কালো চামড়া’র বয়স্করা বর্ণবৈষম্যের শিকার আমেরিকায়! বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছে রেস্তোরাঁ
bangla24bd news


‘কালো চামড়া’র বয়স্করা বর্ণবৈষম্যের শিকার আমেরিকায়! বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছে রেস্তোরাঁ

 বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ মার্কিন মুলুকে নতুন নয়। অতীতে একাধিকবার কালো চামড়ার মানুষদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে উত্তাল হয়েছে আমেরিকা। সাম্প্রতিককালে কালো চামড়ার জর্জ ফ্লয়েডের কি নির্মম পরিণতি হয়েছে আমেরিকার রাস্তায়, তা দেখে আঁতকে উঠেছে সকলেই। মার্কিন মুলুকে সাদা চামড়ার লোকেদের এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এক রেস্তোঁরা। নাম, হার্ট অফ ডিনার।

এশিয়ার দুই তরুণী মিলে এই রেস্তোঁরা গড়ে তুলেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য, আমেরিকায় বৈষম্যের শিকার হন যে সমস্ত বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা, তাঁদের কাছে বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়া, তাঁদের একাকীত্বে, অবহেলায় খানিক ভালবাসার প্রলেপ লাগানো।


ফেসবুকে ‘হিউম্যানস অফ নিউ ইয়র্ক’ পেজ থেকে নিজেদের কাজকর্মের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন ওই দুই তরুণী। তাঁরা জানিয়েছেন কী তাঁদের উদ্দেশ্য। কেন হঠাৎ এই কাজ শুরু করলেন তাঁরা।

তাঁরা লিখেছেন, আমেরিকায় এশিয়ান রেস্তোঁরা গুলোই সবার আগে বন্ধ হয়ে যায়। এশিয়ান কমিউনিটিকেই সবার আগে বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়। চারিদিকে বৈষম্যের বীজ ছড়ানো আছে। কালো চামড়ার বয়স্ক মানুষের উপর কী ধরণের আচরণ হয় তথাকথিত ‘উন্নত’ আমেরিকায়, একদিন রাতে টিভিতে তার নমুনা দেখেছিলেন তাঁরা। তারপরেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন।

সেখানে দেখানো হয়েছিল, পেট চালানোর জন্য অ্যালুমিনিয়ামের ক্যান সংগ্রহ করছিলেন কালো চামড়ার একজন বৃদ্ধ। তাঁর উপর রাতের অন্ধকারে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। তাঁর সমস্ত সম্বল ছিনতাই করে নেওয়া হয়। ইংরাজিতে কথা বলতে না পারার জন্য তাঁকে নানাভাবে হেনস্থাও করা হয়। এই বৃদ্ধের মধ্যে সমস্ত এশিয় দাদু-দিদার ছাপ দেখতে পেয়েছিলেন ওই দুই তরুণী। তারপর থেকেই কাজে লেগে পড়েন।

নিজের হাতে রান্না করে আমেরিকার রাস্তায় কালো চামড়ার অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধাকে সাধ্যমতো খাওয়ানোর ভার নেন তাঁরা। খোলেন ‘হার্ট অফ ডিনার’। প্রথমে নিজেদের ৩০০ স্কোয়ারফিটের ছোট্ট ফ্ল্যাটে সপ্তাহে ২০০ জনের রান্না করতেন তাঁরা। খাবারের প্যাকেটের মধ্যে শুভেচ্ছাবার্তা লিখে দিতে ভুলতেন না। গত ১৮ মাস ধরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার এশিয় বৃদ্ধ-বৃদ্ধার মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন তাঁরা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের দৌলতে এসেছে অনেক সাহায্যও। সেসব পেয়ে ধীরে ধীরে আরও বড় হয়ে উঠছে ‘হার্ট অফ ডিনার’।

আইনি পথে নয়, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজেদের মতো করে নিজেদের প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন এই দুই এশিয় তরুণী। তাঁদের উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলেই।  ​খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/এক

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *