ঢাকা, শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
মাগুরা জেলার চাঞ্চল্যকর সাগরিকা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

মাগুরা জেলার চাঞ্চল্যকর সাগরিকা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত

মাগুরা জেলার শালিখা থানা এলাকার বহুল আলোচিত সাগরিকা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন আসামী গ্রেফতার এবং ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান ও মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই ঝিনাইদহ।

মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত  আসামী মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্যা (৪২), পিতা-মৃত  জিন্দার মোল্যা, সাং-খলশী, থানা বাঘারপাড়া, জেলা-যশোরকে ইং ২২ আগস্ট ২০২১ তারিখ পৌনে দুইটার দিকে তার নিজ গ্রাম খলশী হতে গ্রেফতার করা হয়। 

গত ১১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ সকাল অনুমান ১১টার দিকে ভিকটিম সাগরিকা স্বামী-জাহাঙ্গীর শেখ, সাং-কদমতলা, থানা-কালিয়া, জেলা-নড়াইল তার নিজ বাড়ী হতে শিশু সন্তানসহ নড়াইলে বাচ্চার রিক্সা কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ী হতে বাহির হয় পরবর্তীতে আর বাড়ী ফিরে যায় নাই। গত ইং ২৯/০১/২০২০ তারিখ দুপুর অনুমান ০২.৪৫ ঘটিকার সময় সাগরিকার লাশ মাগুরা জেলার শালিখা থানাধীন দেশমুখপোড়া গ্রামাস্থ চিত্র নদীতে বস্তা বন্দী গলিত অবস্থতি পাওয়া যায়। এ সংক্রান্তে নিহতের স্বামী বাদী হয়ে মাগুরা জেলার শালিখা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে শালিথা থানার মামলা নং-০৬, তারিখ-৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে এজাহার দায়ের করেন।

মামলাটি শালিখা থানা পুলিশ তদন্তকালীন অবস্থায় ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে তদন্তভার পিবিআই এর উপর ন্যাস্ত করেন এবং পরবর্তীতে তদন্তের জন্য পিবিআই ঝিনাইদহকে নির্দেশ প্রদান করেন।

ডিআইজি পিবিআই জনাব বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম(বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই ঝিনাইদহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, জনাব মুহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান এর সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ) মোঃ গোলাম রসুল পিপিএম মামলাটি তদন্ত করেন।

এটি একটি ১ বছর ৬ মাস আগের হত্যা ঘটনা। আসামী পূর্বে ধলগা রাস্তার বাজারে মোটর সাইকেল পার্টস এর দোকানদারী করিত। সেই সময় ভিকটিম সাগরিকার সাথে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম সাগরিকার সাথে তার পূর্বের স্বামী মিরাজের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে আসামী নিজ বাড়ীতে তাদের ডেকে উপস্থিত লোকজনের সাক্ষাতে স্থানীয় মাওলানার মাধ্যমে তালাক প্রদান করে দেয়। এরপর থেকে এই আসামী ভিকটিম সাগরিকার সহিত সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং একপর্যায়ে ২য় স্ত্রী হিসাবে বিবাহ করে। এক বছর সংসার করার পর ভিকটিম আসামীকে তালাক প্রদান করে। এর অনুমান ৩ মাস পর কাজীর কাছে গেলে বলে তালাক হয় নাই এবং তারা ঘর সংসার করতে থাকে। পরে আবার ভিকটিম সাগরিকা আসামী শহিদুল ইসলামকে  তালাক প্রদান করে আজিজুরকে বিবাহ করে। ভিকটিম সাগরিকা আজিজুরকে তালাক দিয়ে আবার গ্রেফতারকৃত আসামী শহিদুলকে বিবাহ করে। এর ১ বছর পর আসামী শহিদুল মোটর সাইকেল মামলায় জেল হাজতে গেলে ভিকটিম সাগরিকা আসামী শহিদুলকে তালাক দিয়ে এই মামলার বাদী জাহাঙ্গীর শেখকে নিয়ে বোম্বে চলে যায়। পরে বোম্বে থেকে ফিরে এলে আসামী শহিদুল এর সাথে ভিকটিমের মোবাইলে কথা বার্তা হতো। 

ভিকটিম সর্বশেষ আসামীকে ছেড়ে জাহাঙ্গীরকে বিবাহ করার কারণে এবং বারবার বিবাহ ও তালাক প্রদান করায় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে উঠে। অপরদিকে স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউ,পি সদস্য মোছাঃ আলেয়া বেগম এর সাথে স্থানীয় মফিজুলের জমি জায়গা নিয়ে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। আলেয়া বেগম এই আসামীকে ডেকে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে যে, সাগরিকা কে হত্যা করে মফিজুলের বিরুদ্ধে মামলা দিতে হবে। এই ষড়যন্ত্র হিসাবে আসামী শহিদুল সাগরিকার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে এবং ঘটনার তিন দিন পূর্বে সাগরিকা মিস কল দেয়। তখন আসামী শহিদুল কলদিলে সাগরিকা বলে আমি একবারে তোমার কাছে চলে আসবো। তখন আসামী বলে তোকে নিয়ে আমার আর ছিনিমিনি খেলার সময় নাই। এরপর আসামী শহিদুল স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর আলেয়ার সাথে উক্ত বিষয় নিয়ে আলাপ করলে মেম্বর বলে সাগরিকাকে ডেকে নিয়ে আয় প্লান করে মারতে হবে। সেই প্লান অনুযায়ী আসামী শহিদুল ইং ১১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ ফোন করে ভিকটিম সাগরিকাকে নড়াইল টার্মিনালে আসতে বলে। আসামী শহিদুল ও অন্যান্য আসামীদের পূর্র্ব পরিকল্পনা  অনুযায়ী ভাড়া মটর সাইকেল নিয়ে আসামী গোলাম রসুলকে নড়াইল টার্মিনালে যেতে বলে। সকল আসামীদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখান থেকে গোলাম রসুল সাগরিকাকে তার দেড় বছরের ছেলে সহ মাইজপাড়া বাজারে মোটর সাইকেল যোগে নিয়ে আসে। এদিকে আলেয়ার মোটর সাইকেলে আসামী শহিদুল চালক হিসাবে আলেয়া ও তার স্বামী সোহরাব মোল্যাকে নিয়ে সন্ধ্যার দিকে চিত্রা নদীর পাড়ে পোড়াডাঙ্গির ঘাটে আলেয়া ও সোহরাবকে নামিয়ে রাখে। আসামী শহিদুল মটর সাইকেল নিয়ে মাইজপাড়া বাজারে যায়। সেখানে অপেক্ষামানরত আসামী গোলাম রসুলকে মটর সাইকেল নিয়ে আলেয়া ও সোহরাবের নিকট পোড়াডাঙ্গির ঘাটে পাঠিয়ে দেয়। আসামী শহিদুল মাইজপাড়া বাজারে সাগরিকাকে সঙ্গে নিয়ে তার জন্য একটি থ্রী পিছ ক্রয় করে এবং সময় ক্ষেপন করিতে থাকে। 

আসামী শহিদুল রাত্র অনুমান ৮টার দিকে মাইজপাড়া বাজার থেকে সাগরিকা ও তার শিশু বাচ্চাসহ মটর সাইকেল যোগে পোড়াডাঙ্গীর ঘাটে আসে। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আলেয়া মেম্বার শিশু বাচ্চাটিকে সাগরিকার নিকট হতে কোলে নিয়ে নেয়। আসামী শহিদুল নদীর পাড়ে থাকা জালের ছেড়া অংশ দিয়া ভিকটিম সাগরিকার পা বেঁধে ফেলে। আসামী গোলাম রসুল ভিকটিমের ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দিয়া গিট বেধে ফেলে। ভিকটিম সাগরিকার শ্বাসরোধে মৃত্যু হলে আসামী শহিদুল পাশ্ববর্তী একটি বাড়ী থেকে ঘরের সামনে রাখা পাপোষ হিসাবে ব্যবহৃত একটি পুরাতন বস্তা নিয়া লাশ বস্তায় ভোরে ফেলে আসামী শহিদুল আলেয়া ও শিশু বাচ্চাসহ মটর সাইকেল যোগে রওনা দেয়। আসামী গোলাম রসুল ও সোহরাব বস্তা ভর্তি লাশটি নদীতে ফেলে দেয়। আসামী শহিদুল ও আলেয়া শিশু বাচ্চাটাকে নিয়ে মাইজপাড়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের রাস্তার পাশে বিছালীর গাদার নিকট শিশুটিকে রেখে যে যার মত বাড়ী চলে যায়।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *