ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
রহস্যময় হাভানা সিনড্রোমে ভুগছেন মার্কিন কূটনীতিকরা, ছিঁড়ে যাচ্ছে মাথার শিরা,স্মৃতিনাশ হচ্ছে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

রহস্যময় হাভানা সিনড্রোমে ভুগছেন মার্কিন কূটনীতিকরা, ছিঁড়ে যাচ্ছে মাথার শিরা,স্মৃতিনাশ হচ্ছে

 ২০১৬ সালেই খবর রটেছিল এক বিরল অসুখ ছড়াচ্ছে মার্কিন কূটনীতিক, রাজনীতিবিদদের মধ্যে। বিশেষ করে মার্কিন দূতাবাসে কাজ করেন যে কূটনীতিকরা বা পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের মধ্যেই এই ধরনের অজানা অসুখ দেখা যাচ্ছে বলে খুব হইচই হয়েছিল সে সময়। মাঝের সময়টা অসুখ-আতঙ্ক ধামাচাপা পড়লেও, এখন আবার সে রোগ ফিরে এসেছে বলে তুমুল শোরগোল হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ব্যাপারটা প্রকাশ্যে আসে গত ২৪ অগস্ট। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সিঙ্গাপুর থেকে ভিয়েতনাম যাওয়ার কর্মসূচী বাতিল করে দেওয়ার পরেই নামী সংবাদসংস্থাগুলি এর কারণ অনুসন্ধানে নেমে পড়ে। তাতেই নতুন করে এই বিরল অসুখ ফিরে আসার খবর সামনে আসে। হ্যারিস কেন তাঁর কর্মসূচী বাতিল করলেন সে বিষয়ে পেন্টাগনের তরফে কিছু জানানো হয়নি, তবে কানাঘুষোয় শোনা গেছে কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। সে জন্যই ভিয়েতনাম যাত্রা বন্ধ করতে হয়েছে।


২০১৬ সালে কিউবার হাভানায় এক অজানা রোগের প্রকোপ দেখা দেয় মার্কিন কূটনীতিকদের মধ্যে। সেই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, কিউবায় মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর কোনও গোপন অস্ত্রের প্রয়োগ হচ্ছে। এর পরের বছর চিনের মার্কিন দূতাবাসেও একই রোগ দেখা দেয়। অস্ট্রিয়া, জার্মানির মার্কিন দূতাবাস থেকেও একই খবর মেলে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দাবি করে, রাশিয়া কোনও এক মারণাস্ত্রের প্রয়োগ করছে যে কারণেই এই রোগ হচ্ছে। ২০১৮ সালে একটি সায়েন্স জার্নালেও এই বিষয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। হইচই পড়ে যায় আন্তর্জাতিক মহলে।

এমন এক রোগ যেখানে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়ে। মার্কিন কূটনীতিক যাঁরা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁদের পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রত্যেকেরই ঝিমুনি, বমি ভাব, প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি চলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মাথার ভেতরে প্রচণ্ড চাপ অনুভব করছেন সকলে। ভার্টিগো দেখা দিচ্ছে অনেকের, শরীরের ভারসাম্য থাকছে না, পেশির ওপর নিয়ন্ত্রণ কমছে, দৃষ্টি শক্তি ও শ্রবণ শক্তি কমে যাচ্ছে। কানে যন্ত্রণা ও একটানা আওয়াজ শোনার কথাও বলেছেন অনেকে।

গবেষকরা বলছেন, এটা একধরনের ‘সাইকোজেনিক ডিজিজ’ । মূলত ব্রেনে প্রভাব পড়ে। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিক সায়েন্স এই ব্যাপারে একটি রিপোর্ট পেশ করে জানায়, মাথার শিরা ক্ষতিগ্রস্থ হতে দেখা গেছে হাভানা সিনড্রোমে। ঠিক যেন মনে হয়, মাথার ভেতরে প্রচণ্ড চাপ বা রেডিয়েশনের কারণে শিরা ছিঁড়ে গেছে।


হাভানা সিনড্রোন নিয়ে সঠিক তথ্য এখনও জানা যায়নি। কেন এই রোগ হচ্ছে, কী থেকেই বা হচ্ছে তা গত পাঁচ বছর ধরেই রহস্য। মার্কিন গোয়েন্দাদের অনুমান, মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র বা ওই জাতীয় গোপন মারণাস্ত্রের প্রয়োগে এটা হয়ে থাকতে পারে। মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র গোপনে অনেক দেশই বানাচ্ছে, এক ধরনের ‘হিট রে’বা উত্তপ্ত রশ্মি বের হয় এর থেকে। যদি মানুষের শরীরে এই রশ্মি ঢোকে তাহলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। শরীরের জল শুষে নিতে পারে এই রশ্মি। যার প্রভাব পড়ে অঙ্গপ্রতঙ্গগুলিতে। প্রচণ্ড মাথাযন্ত্রণা, বমি ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। খুব গোপনে নিঃশব্দে এই অস্ত্রের প্রয়োগ করা যায়, সঠিক নিশানায় যা লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে। হাভানা সিনড্রোমও তেমনই কোনও অস্ত্রের জেরে হচ্ছে কিনা তা নিয়ে এখন মাথা ঘামাচ্ছেন গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীরাই।   ​খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/এক

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *