ঢাকা, শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
শাসক দল-পুলিশকর্তা ‘মাখামাখি’ বিপজ্জনক প্রবণতা, বলল সুপ্রিম কোর্ট
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


শাসক দল-পুলিশকর্তা ‘মাখামাখি’ বিপজ্জনক প্রবণতা, বলল সুপ্রিম কোর্ট

শাসক দলের সঙ্গে পুলিশের গাঁটছড়া আছে, যে দলই মসনদে থাকুক, পুলিশ তার অঙ্গুলি হেলনেই চলে, এহেন অভিযোগকেই স্বীকৃতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও হরদম এমন অভিযোগ  তোলে বিরোধীরা। বাম জমানাতেও উঠত, তৃণমূল আমলেও উঠছে।  একাধিক রাজ্য থেকে শাসক দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে বিভিন্ন তদন্তে পুলিশকে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলল, পুলিশ অফিসারদের আইনের শাসন অক্ষরে অক্ষরে পালন করা উচিত। শাসক-পুলিশ অফিসার দহরম মহরম দেশের সামনে ‘বিপজ্জনক প্রবণতা’ বলে উল্লেখ করল প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানার নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ। শাসক দলের সুনজরে থাকার জন্য পুলিশ অফিসাররা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী  রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করে বলে কড়া অভিমত জানিয়েছেন বিচারপতিরা।

ছত্তিশগড়ের  সাসপেন্ড হওয়া, রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায় অভিযুক্ত এক পুলিশ অফিসারের পিটিশনের শুনানিতে বেঞ্চ বলেছে, শাসক দলের সঙ্গে পুলিশের ‘মাখামাখি’র উদ্বেগজনক প্রবণতার জন্য পুলিশকেই দায়ী করা উচিত । প্রধান বিচারপতি মৌখিক  মন্তব্য করেন, দেশের পরিস্থিতি দুঃখজনক। একটি দল ক্ষমতায় এলে পুলিশ কর্তারা তার পক্ষ নেন। পরে নতুন দল সরকারে এসে ওই পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে। এটা নতুন প্রবণতা, যা বন্ধ হওয়া দরকার।


১৯৯৪ ব্যাচের এক আইপিএস অফিসার  গুরজিন্দর পাল  সিং, সর্বোচ্চ আদালতে আর্জি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ছত্তিশগড় সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ এনে দায়ের করা এফআইআরগুলি বাতিল করা হোক। রাজ্যের  কংগ্রেস সরকার তাঁর পিছনে লেগেছে, ব্যতিব্যস্ত করে মারছে আগের বিজেপি সরকারের সময় তিনি তাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ তুলে, বলেন গুরজিন্দর।

জুলাইয়ে ছত্তিশগড় দুর্নীতি দমন ব্যুরো ও আর্থিক অপরাধ দমন শাখা তল্লাসি চালিয়ে দাবি করে, গুরজিন্দরের বাড়ি থেকে প্রচুর  নথি মিলেছে, যা প্রমাণ করছে,  তিনি সরকার, জনপ্রতিনিধিদের বিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত। বেনামি লেনদেনের মাধ্যমে অর্জিত ১০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করে তারা। তিনি আয়ের ঘোষিত উত্সের চেয়ে বেশি সম্পত্তির মালিক, বেআইনি সম্পত্তি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

গুরজিন্দর ছত্তিশগড় হাইকোর্টে এফআইআরগুলি খারিজ  করার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট রাজি হয়নি। সুপ্রিম  কোর্টে যান তিনি।

তবে গুরজিন্দরকে ৪ সপ্তাহ গ্রেফতার করতে পারবে না ছত্তিশগড় সরকার, বলেছে সর্বোচ্চ আদালত। পাশাপাশি ছত্তিশগড় সরকারের প্রতিক্রিয়াও চেয়েছে  বেঞ্চ।   ​খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/এক

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *