ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
আইসিস-খোরাসান কারা, তালিবানের সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

আইসিস-খোরাসান কারা, তালিবানের সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক

 গোয়েন্দারা আগেই সতর্ক করেছিলেন, কাবুল বিমান বন্দরে আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। তার পরেও ঘটে গেল জোড়া বিস্ফোরণ। এর পিছনে আছে আইসিস-খোরাসান নামে এক জঙ্গি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণের পরে আশঙ্কা ছড়িয়েছে, তালিবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তান কি আইসিস জঙ্গিদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে দাঁড়াবে?

কাবুল বিমান বন্দরের বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। ২০১১ সালের পরে আর কখনও আফগানিস্তানে একই দিনে এতজন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়নি।


২০১৪ সালে আইসিস ইরাক ও সিরিয়ায় খেলাফত ঘোষণা করে। পাকিস্তানি তালিবানের একাংশ তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। আইসিস নেতা আবু বকর অল বাগদাদিকে নেতা বলে মেনে নেয় তারা। আফগানিস্তানের কুনার, নানগারহার এবং নুরিস্তান অঞ্চলে তারা বেশ শক্তিশালী। কাবুলেও তাদের স্লিপার সেল আছে। গত মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টে জানা যায়, আইসিস জঙ্গির সংখ্যা ৫০০ থেকে কয়েক হাজার।

গত কয়েক বছরে বেশ কিছু মারাত্মক হামলা চালিয়েছে আইসিসের পাকিস্তান-আফগানিস্তান শাখা। তাতে দুই দেশেরই বহু নিরীহ মানুষ মারা গিয়েছেন। গত বছর আইসিসের এক জঙ্গি কাবুলের শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলের হাসপাতালে ঢুকে পড়ে। তার গুলিতে মেটারনিটি ওয়ার্ডে ১৬ জন প্রসূতি মারা যান।

তালিবানের সঙ্গে আইসিসের সম্পর্ক আদৌ ভাল নয়। তাদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। ২০১৯ সালে তালিবান আইসিসের দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে। তালিবান কাবুলে ঢোকায় আইসিস আদৌ খুশি নয়। গতবছর তালিবানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল আমেরিকার। তাতে খুবই অসন্তুষ্ট হয় আইসিস। সম্প্রতি তারা ঘোষণা করেছে, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করে তালিবান জেহাদিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার কাবুল বিমান বন্দরে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আইসিস। প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটার পরেই কাবুলে ফ্রান্সের দূত সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিস্ফোরণ সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। ফরাসি দূত ডেভিড মার্টিনন টুইট করে বলেন, “আফগান বন্ধুদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা যদি বিমান বন্দরের গেটের কাছে থাকেন, অবিলম্বে সরে আসুন। কোনও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন। কারণ যে কোনও সময় আর একটি বিস্ফোরণ হতে পারে।”

এর পরেই ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণও। কিছুই করা যায়নি তার আগে। রক্তবন্যায় ভেসে গেছে সারি সারি ছিন্নভিন্ন দেহ। আফগান রিপোর্টার বিলাল সারওয়ারি বলেন, স্থানীয় মানুষ জানিয়েছেন, এক আত্মঘাতী বোমারু ভিড়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়। তারপরে আরও একটা। একজন গুলিও চালাতে থাকে। বিস্ফোরণে ও গুলিতে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, আরও বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করছে মার্কিন বাহিনী।। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *