ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে কাবুলের পথে এখন শত শত উদ্বাস্তু
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে কাবুলের পথে এখন শত শত উদ্বাস্তু

 দেশ ছেড়ে পালালে কি নিরাপত্তা পাওয়া যাবে? নাকি দেশে থাকলেই সবাই নিরাপদে থাকবে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজছে অনেক আফগান পরিবার। অনেকে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য ভিড় করেছেন কাবুল বিমান বন্দরে। আরও শত শত মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কাবুলের পথে। তাঁদের অনেকে রয়েছেন পার্কে। তাঁরা ভিক্ষা চাইছেন। আশ্রয়ের খোঁজ করছেন।

কাবুলের পথে পুরো পরিবারের সঙ্গে বসে আছেন জাহিদা বিবি। গৃহবধূ জাহিদা বলেন, আমরা খুবই কষ্টে আছি। আমার মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে। আমার পেটেও কিছু নেই। উত্তর আফগানিস্তান থেকে উদ্বাস্তু হয়ে কাবুলে এসেছেন আহমেদ ওয়াসিম। তিনি বলেন, আমরা পার্কে খোলা আকাশের নীচে পড়ে রয়েছি। আশা করি সরকার আমাদের দিকে নজর দেবে। তালিবানের এক মুখপাত্র বলেন, বিমান বন্দরে ও পার্কে যারা ভিড় করেছে, তাদের খেতে দেওয়া হবে না। তাহলে আরও অনেকে ভিড় করবে।


আফগানিস্তানের উত্তরে থাকতেন ফালওয়ান সমীর। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। তাঁদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে তাঁরা কাবুলে পালিয়ে এসেছেন। হু জানিয়েছে, আফগানিস্তানে এখন যে পরিমাণ ওষুধ আছে, তাতে এক সপ্তাহ চলতে পারে। রাষ্ট্রপুঞ্জের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানে অন্তত ২০ কোটি ডলারের খাবার চাই।

রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরই এখন ত্রাণ প্রয়োজন। আফগানিস্তানের শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স পাঁচের নীচে, তাদের অর্ধেক অপুষ্টিতে ভুগছে।

আফগানিস্তান বরাবরই গরিব দেশ। সেখানকার ৭০ শতাংশ মানুষের দৈনিক আয় দুই ডলারের কম। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী দিনে দেশটি আরও দরিদ্র হতে চলেছে। তাঁদের ধারণা, চলতি আর্থিক বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই দেশের জিডিপি কমবে ২০ শতাংশ। আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হাজি ইদ্রিস এতদিন তালিবানের অর্থনীতির দায়িত্বে ছিলেন। তালিবানের আশা, আগামী দিনে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারবেন।

তালিবান কাবুলে ক্ষমতা দখলের পরে আফগানিস্তানে বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে হাজি ইদ্রিসকে।

একটি সূত্রে জানা যায়, তালিবান কাবুলে ঢোকার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা আফগানদের ১ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি ফ্রিজ করে দেয়। তাছাড়া আইএমএফ এবং বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়ে দিয়েছে, আর ঋণ পাবে না আফগানিস্তান। ২০১২ সালে জেনিভায় অনুষ্ঠিত এক কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আগামী চার বছরে আফগানিস্তানকে ১২০০ কোটি ডলার দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতিও আপাতত পালিত হওয়ার । কোনও আশা নেই  খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *