ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন
ভবিষ্যতে ভারতে খলিফা শাসন চায় কাবুল বিস্ফোরণে জড়িত আইসিস-কে, দাবি গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


ভবিষ্যতে ভারতে খলিফা শাসন চায় কাবুল বিস্ফোরণে জড়িত আইসিস-কে, দাবি গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির

 আফগানিস্তানে কাবুল বিমান বন্দরের বাইরে বৃহস্পতিবার জোড়া বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহভাজন আইসিস (খোরাসান) গোষ্ঠীর নিশানায় ভারত? তাদের আদর্শগত লক্ষ্যের মধ্যে ভারতে ভবিষ্যতে কোনও একদিন খলিফা শাসন কায়েমও রয়েছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আফগানিস্তানে পায়ের তলায় মাটি শক্ত হওয়ার পর আইসিস (কে) ‘মধ্য এশিয়ায়, পরে ভারতে জেহাদ রপ্তানি করা’র স্বপ্ন দেখছে। সন্ত্রাসবাদী হামলার পাশাপাশি নতুন নতুন যুবকদের রিক্রুট করা তাদের এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে বটে, তবে আদর্শের  দিক থেকে  তারা খলিফার শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সেই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ভারত। তারা বলেছে, কেরল, মুম্বই থেকে যুবকরা আইসিসে যোগ দিয়েছে, মৌলবাদী চিন্তাভাবনা করা লোকজনের মধ্যেও ওরা ভাল সাড়া পাচ্ছে। আইসিসের রিক্রুটমেন্ট প্ল্যান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনৈক কর্তা বলেন, উল্টো স্রোত শুরু হলে ভারতে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে অনেক সেল। আফগানিস্তান তালিবানের হাতে যাওয়ার পর ভারত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির চারণভূমিতে পরিণত হতে পারে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তানে ঘাঁটি  গেড়ে থাকা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জয়েশ-ই-মহম্মদ, যারা জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক হামলা চালিয়েছে, আফগানিস্তানের কান্দাহার সীমান্তঘেঁষা হেলমন্দ প্রদেশে সরে গিয়েছে। পাশাপাশি ২০০৮ এর মুম্বই নাশকতায় দায়ী লস্কর-ই-তৈবাও পূর্ব আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে সরে যাচ্ছে বলে সূত্রের খবর।  আইসিস-কে তাদের সঙ্গে দ্রুত হাত মেলাতে পারে বলে অনুমান।


একটি সূত্রের দাবি, কাবুলে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশ্য ছিল এটা দেখানো যে তালিবান যে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেটা দিতে পারবে না তারা। আইসিস-কে আফগানিস্তানের অন্যতম পাওয়ার-ব্রোকার হতে, আমেরিকাকে কোনও  না কোনওভাবে তার সন্ত্রাসবাদ দমন অভিযানের পরিধি বাড়াতে বাধ্য করতে চায়, যা তালিবানের বিরুদ্ধে তাদের দিকে পাল্লা ভারী করতে পারে।

খোরাসান প্রদেশের নামে তৈরি হওয়া আইসিস গোষ্ঠীটি প্রথম পূর্ব আফগানিস্তানে আত্মপ্রকাশ করে ২০১৪য়। চরম নৃশংস আচরণের জন্য কুখ্যাত গোষ্ঠীটি তৈরির পিছনে আছে পাকিস্তানি তালিবানের কট্টরপন্থী অংশটি যারা পাকিস্তানে দমনপীড়ন, অভিযান শুরু হতেই পালিয়ে গিয়েছিল আফগানিস্তানে।  আফগানরা ছাড়াও আইসিস কে গোষ্ঠীতে অন্য জঙ্গি দলগুলি থেকে পাকিস্তানিরা ঢুকেছে, উজবেক সন্ত্রাসবাদীরাও সামিল বলে মত মার্কিন কর্তাদের। তালিবান ও আফগানিস্তানে  পশ্চিমী মদতপুষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে আইসিস-কে লড়েছে, তবে সিরিয়া ও ইরাকে সক্রিয় প্রধান আইসিস গোষ্ঠীর সঙ্গে  তাদের অপারেশন সংক্রান্ত যোগাযোগ কতটা,  তা পরিষ্কার নয় । খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *