ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:২২ অপরাহ্ন
ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা, মোদী-মমতাকে এক আসনে বসিয়ে সরব নওশাদ! ব্যাপক সমর্থন সোশ্যাল মিডিয়ায়
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা, মোদী-মমতাকে এক আসনে বসিয়ে সরব নওশাদ! ব্যাপক সমর্থন সোশ্যাল মিডিয়ায়

তৃণমূল এবং বিজেপিতে বাদ দিলে বিধানসভায় তৃতীয় কোনও দলের একমাত্র প্রতিনিধি হলেন আইএসএফ (isf)-এর নওশাদ সিদ্দিকি(nawsad siddique) । সেই জায়গা থেকে নিজের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করার চেষ্টা করলেন নওশাদ। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে সিলেবাস ছাঁটাই নিয়ে কেন্দ্রের মোদী (narendra modi) এবং রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে সরব হলেন তিনি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসের কথা উল্লেখ শুক্রবার গভীর রাতে করা ফেসবুক পোস্টে নওশাদ অভিযোগ করেছেন, সুপরিকল্পিতভাবে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি সাহিত্যের সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মহাশ্বেতা দেবীর ছোটগল্প দ্রোপদীকে। যা কিনা সাঁওতাল সমাজদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পটভূমিকায় লেখা।

 তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের দোপদি মেঝান এবং তাঁর স্বামী দুলনা মেঝান স্বেরাচারী জমিদারি প্রথা এবং ঘুষখোর আইনরক্ষকদের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের লড়াই নিয়ে জল্প উচ্চবর্ণের বাবুদের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সঙ্গে তিনি দুই দলিত লেখিকা বামা ফস্তিনা সুসইরাজ এবং সুকির্থরানীর ছোট গল্প সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ ইতিহাস ও জাতিগত সামাজিক শোষণকে খুব সুন্দরভাবে ঢেকে দেওয়ার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত বিষের মতো ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। মাধ্যমিকের সিলেবাস ছাঁটাইয়ের কড়া সমালোচনা রাজ্যে মাধ্যমিক সিলেবাস ছাঁটাইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন নওশাদ সিদ্দিকি।

 পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিকের সিলেবাস থেকে বামপন্ধী, নারী, প্রান্তিক জনগণ, শ্রমিক কৃষক আন্দোলন বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ছাত্রছাত্রীদের মন থেকে খুব সুন্দরভাবে বিষয়গুলিকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজ্যের বড় অংশের মানুষ কি এসব দেখার জন্যই একটি রাজনৈতিকদলকে ভোট দিয়ে মসনদে বসালো, সেই প্রশ্ন করেছেন তিনি। ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না নওশাদ সিদ্দিকি বলেছেন, একটা প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাতে কারও হুঁশ নেই, একবারও চিন্তা নেই, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোন দিকে যেতে চলেছে, তারা কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, তা কেউ ভেবে দেখছেন না। তিনি বলেছেন, শুধু ক্ষমতা দখলের রাজনীতি চলেছে। কটাক্ষ করে নৌশাদ বলেছেন, সংখ্যার জেরে বছরের পর বছর ভুলকে ঠিক বলে গিলিয়ে দেওয়া যায়, সংখ্যার জেরে ছাত্র সমাজকে ধ্বংস করা যায়, সংখ্যার জেরে দেশকে বিক্রি করা যায়, কিন্তু সংখ্যার জেরে ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। তিনি বলেছেন, যে শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে না, সেই শিক্ষা সভ্য সমাজের জন্য লজ্জা ছাড়া আর কিছু নয়। দীক্ষা নিয়ে নয়, শিক্ষা নিয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

প্রতিবাদের ডাক বিধানসভায় আইএসএফ-এর একমাত্র প্রতিনিধি এব্যাপারে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিরোধীরা প্রশ্ন করলে শাসকের রক্তচক্ষু দেখিয়ে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই আঘাত রুখতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মেক কথা ভেবে দেশ ও রাজ্য জুড়ে্ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এব্যাপারে শিক্ষানুরাগীদেরও এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষের সমর্থন নওশাদ সিদ্দিকির এই পোস্টকে বহু মানুষ সমর্থন করেছেন। কেউ বলছেন ২ টাকা কেজি চাল আর ৫০০ টাকায় যেখানে মানুষ গরু ছাগলের মতো বিকোচ্ছে সেখানে শিক্ষাকে প্রাসঙ্গিক রাখার ঝুঁতি শাসক নেবে কেন? নওশাদ সিদ্দিকির অবস্থানকে সমর্থন করে অনেকেই বলেছেন, বিধানসভায় একমাত্র বিরোধী ও বিকল্পের কণ্ঠস্বর।

 যে সরকারের কোনও নীতি নেই, কোনও আদর্শ নেই, শুধু আছে ক্ষমতা দখলের প্রয়াস। পাঠক্রম থেকে বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাসকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা দেখে তাঁরা অবাক হননি, কেননা ইতিহাস এমন একটা বিষয় যেখানে বিজেপি কিংবা তৃণমূলের কোন স্থান কিংবা অবদান কোনওটাই নেই। এভাবে চুপ করে থাকলে প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। কেউ বলছেন, যেভাবে মানুষ ৫০০ টাকার জন্য ভিড় করছে, সেটা থেকে স্পষ্ট মানুষ কী চায়। ফ্রিতে বিষ দিলও এরা হামলে পরবে খাওয়ার জন্য কটাক্ষ করেছেন কেউ কেউ। অনেকে আবার বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে পথে থাকার পরিলপ্না যে কবে বূে, শুধু সেই সময়ের সন্ধিক্ষণের দিকে চেয়ে রয়েছেন। আগামী প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে সবাই মিলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলেছেন কেউ কেউ। ​খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *