ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
ফেক নিউজ বাড়ছে, সত্যের জন্য শুধু সরকারকে ভরসা করা যায় না, বললেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ফেক নিউজ বাড়ছে, সত্যের জন্য শুধু সরকারকে ভরসা করা যায় না, বললেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়

 রাষ্ট্রের মিথ্যা ভাষণ উন্মোচনের কর্তব্য পালনে’ জনজীবনে পরিচিত বুদ্ধিজীবীদের আবেদন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের। গণতান্ত্রিক দেশে মিথ্যাচার, মিথ্যা ভাষণ ও ফেক নিউজের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ থাকা, সরকারকে তার দায়িত্ব পালন করানো জরুরি বলে অভিমত জানিয়েছেন তিনি।

এক আলোচনাসভায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক  ও চলতি প্রেক্ষাপটে মেডিকেল সংক্রান্ত তথ্যের ব্যাপারে সরকারের ওপর বেশি ভরসা করা নিয়েও সাবধান করেন তিনি। উদাহরণ হিসাবে তিনি কোভিড ১৯ বিষয়ক তথ্য বিকৃতির কথা বলেন। বলেন, সত্যের জন্য শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকা যায় না। একনায়কতন্ত্রী সরকার ক্ষমতার ওপর নিরঙ্কুশ দখল রাখতে লাগাতার মিথ্যাচারের ওপর ভরসা করে। দেখতে পাচ্ছি, দুনিয়াব্যাপী কোভিড ১৯ সংক্রান্ত তথ্য এদিকওদিক করার প্রবণতা বাড়ছে।


নানা দেশে সরকার করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকৃত ছবি আড়ালে রাখতে কোভিড সংক্রান্ত তথ্য বিকৃত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, সমাজকর্মীদের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটেই এহেন মতামত জানালেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। তিনি বলেন, ফেক নিউজ ছড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংখ্যা (হু) কোভিড অতিমারীর সময় এটা চিহ্নিত করেছিল, একে ইনফোডেমিক আখ্যা দিয়েছিল। চাঞ্চল্যকর খবরের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণ আছে, যা প্রায়ই মিথ্যার ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে করোনা যখন দুনিয়াব্যাপী ছড়াতে শুরু করে, তখনই হু সোস্যাল মিডিয়ায় ইচ্ছে করে ভুল তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা সহ ফেক নিউজ, অপপ্রচারের ঢল নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

বিচারপতি চন্দ্রচূড়ও বলেন, ট্যুইটার, ফেসবুকের মতো সোস্যাল মিডিয়া মঞ্চগুলির মিথ্যা তথ্যের জন্য অবশ্যই দায় নেওয়া উচিত, কিন্তু সাধারণ লোকজনকেও সাবধান, সতর্ক থাকতে হবে। পড়াশোনা, বিতর্ক করা, এমনকী ভিন্ন  মত স্বীকারেও রাজি হতে হবে।

পোস্ট ট্রুথ বিশ্বের প্রসঙ্গ তোলেন  তিনি। বলেন, ‘আমার সত্যি’ বনাম ‘তোমার সত্যি’র লড়াই চলছে। কারও ধারণার সঙ্গে খাপ না খেলেই ‘সত্যি’কে উপেক্ষার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। আমরা উত্তর-সত্যের দুনিয়ায় বাস করছি। সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি দায়ী। কিন্তু নাগরিকরাও দায়ী। আমরা নিজের ধারণার সঙ্গে মিল থাকা কথা শুনতে ভালবাসি, বিরুদ্ধ মত পছন্দ করি না। এমন এক বিশ্বে রয়েছি যা ক্রমাগতঃ সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় লাইনে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা শুধু নিজেদের বিশ্বাসের সঙ্গে খাপ খাওয়া সংবাদপত্র পড়ি, আমাদের মতের পক্ষে নন,  এমন কারও লেখা বই এড়িয়ে যাই। কোনও বিরুদ্ধ মত শুনলে টিভি মিউট করে দিই। নিজে ঠিক থাকা নিয়ে যতটা ভাবি, ততটা সত্যের জন্য মাথা ঘামাই না। এর মোকাবিলায় গণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে জোরদার করতে বলেন তিনি।  খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *