ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
বিমানের বিবেক দংশন, করোনার মধ্যে দলের সভায় গাদাগাদি ভিড় দেখে বললেন, ‘এ তো অপরাধ’
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

বিমানের বিবেক দংশন, করোনার মধ্যে দলের সভায় গাদাগাদি ভিড় দেখে বললেন, ‘এ তো অপরাধ’

করোনা বিধি (covid rule) ভেঙে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ (political gathering) করার অভিযোগ কম বেশি সব দলের বিরুদ্ধেই আছে। সব নেতাই তা নিয়ে সাফাই দিয়ে থাকেন। উল্টো পথে হাঁটলেন বিমান বসু (Biman Basu)। কোভিড পরিস্থিতিতে জমায়েত যখন প্রায় নিষিদ্ধ তখন বড় জমায়েতের আয়োজন করেছিল হুগলি সিপিএম (CPIM)। রাজ্যের প্রাক্তন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী তথা হুগলি সিপিএমের প্রাক্তন সম্পাদক প্রয়াত সুদর্শন রায়চৌধুরির স্মরণসভা ছিল রবিবার। সিপিএমের হুগলি জেলা কমিটির ডাকে শ্রীরামপুর রবীন্দ্র ভবনে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই দেখা গেল গাদাগাদি ভিড়। শারীরিক দূরত্বের কোনও বালাই নেই। মাস্কও নেই অনেকের মুখে। যা দেখে ওই সভাতে দাঁড়িয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য বিমান বসু।

এদিন একাধিক বামফ্রন্টের নেতা সহ সুদর্শনবাবুর স্মৃতিচারণা করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান। সভার শেষ বক্তা ছিলেন বিমান বাবু। তিনি বলতে উঠে বলেন, ‘যেভাবে এখানে সভা হচ্ছে সেটা হওয়া উচিত নয়। এটা অপরাধ।‘বিমান বসু এও উল্লেখ করেন, সামনের সারিতে এমন কিছু লোক বসে আছেন যাদের মুখে মাস্কও নেই। দেখা যায়, বর্ষীয়ান বিমান যখন একথা বলছেন তখন অনেকেই একে অন্যের দিকে চাওয়াচাওয়ি শুরু করে দিয়েছেন। অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল থুতনির কাছে নামানো। তারাও তা তুলতে শুরু করে দেন।

পার্টির জমায়েতে দাঁড়িয়ে তারই অব্যবস্থা নিয়ে বিমান বসুর এই সরব হওয়ায় দৃশ্যতই জেলা নেতৃত্বও বিব্রত হয়ে পড়েন। দেখা যায় প্রধান বক্তা বিমান এতটাই বিরক্ত হন যে মাত্র বারো মিনিটেই থামিয়ে দেন নিজের বক্তৃতা।সিপিএমের অনেকেই বলেন, বিমান বসুর মেজাজ হচ্ছে চেরাপুঞ্জির মতো। এই মেঘ তো এই রোদ। বিমান বাবু হঠাৎ রেগে যান, হঠাতই খিলখিলিয়ে হেসে ওঠেন। এদিন জমায়েতের পদ্ধতি নিয়ে বিমান বসুর প্রকাশ্য সমালোচনা শুনে জেলা সিপিএমের অনেক নেতাই ঘনিষ্ঠ মহলে বলছেন সুদর্শনদাকে বিমানদা চেনেন সেই ছাত্র বয়স থেকে। তাই শেষ পর্যন্ত বসেছিলেন এবং কিছু কথা বলেছেন। অন্য কর্মসূচি হলে হয়তো উঠেই চলে যেতেন, শেষ পর্যন্ত থাকতেনই না।

সেপ্টেম্বর মাসের গোড়া থেকে সিপিএমের শাখাস্তরের সম্মেলন শুরু হয়ে যাবে। অক্টোবর থেকে শুরু হবে এরিয়া সম্মেলন। তার আগে সম্মেলন সংক্রান্ত বিধি পার্টি চিঠি আকারে প্রকাশ করেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কম বয়সীদের একটি ও বেশি বয়সীদের জোড়া ভ্যাকসিন নিয়ে রাখতে হবে।

তিন নম্বর পার্টি চিঠিতে লেখা হয়েছে, “প্রতিনিধিদের মধ্যে পঁয়তাল্লিশ—ঊর্ধ্ব সব কমরেডদের ভ্যাকসিনের দুটি ডোজই নেওয়া থাকতে হবে। আঠারো থেকে চুয়াল্লিশ বছর বয়সী কমরেডদের ক্ষেত্রেও সম্ভব হলে দুটি, নাহলে অন্তত একটি ডোজ যাতে নেওয়া থাকে, তার চেষ্টা করতে হবে।” অর্থাৎ ৪৫ ঊর্ধ্বদের জন্য জোড়া ডোজ ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এমনিতে সিপিএমের রেওয়াজ রয়েছে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বড় সভা-সমাবেশ করার। বিশেষ করে প্রতিটি জেলা সম্মেলনকে সামনে রেখে বড় সমাবেশ কার্যত রুটিনে করে ফেলেছে সিপিএম। কিন্তু এবার সেসবে না করে দিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। বলে হয়েছে, “মিছিল বা জনসভা করা যাবে না। ক্ষেত্রবিশেষে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে তুলনামূলকভাবে কম জমায়েত নিয়ে ছোট সভা করা যেতে পারে।”

সম্মেলনের স্থান নিয়েও কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে সিপিএম। বলা হয়েছে, “বদ্ধ জায়গায় সম্মেলন করা যাবে না। সম্মেলনস্থলে যেন পর্যাপ্ত সংখ্যায় জানলা বা খোলা জায়গা দিয়ে হাওয়া চলাচল করতে পারে, সেইদিকে নজর রাখতে হবে। প্রতিনিধিদলের বসার ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে যেন তিন থেকে ছয় ফুটের শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

এদিন সেই বদ্ধ ঘরেই হল স্মরণ সভা। ঠাসাঠাসি ভিড়ে। যা নিয়ে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিলেন বিমান। তবে দলের অনেকেই একান্তে বলছেন, স্মরণসভার ভিড় থেকে আবার বোঝা গেল দলের প্রতি টান উবে যায়নি। খবর দ্য ওয়ালের  /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *