ঢাকা, শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
চোর সন্দেহে ট্রাকে বেঁধে খুন, অভিযুক্তদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল জেলা প্রশাসন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


চোর সন্দেহে ট্রাকে বেঁধে খুন, অভিযুক্তদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল জেলা প্রশাসন

 গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের নামুচি জেলায় গণধোলাইয়ে (Mob Lynching) এক ব্যক্তি মারা যান। কানহাইয়ালাল ভিল নামে ওই ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে আটক করেছিল জনতা। তাঁকে ব্যাপক মারধর করে একটি ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়। ট্রাকটি তাঁকে কিছু দূর টেনে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পথেই তিনি মারা যান। এরপর রবিবার গণধোলাইয়ে অভিযুক্তদের বেআইনি বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন।

নিমুচ জেলার জেতিয়া গ্রামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। তিনি বানাদা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নিমুচ জেলার পুলিশ সুপার বলেন, “গণধোলাইয়ে জড়িত আটজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে পাঁচজন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও-র সাহায্যেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা গিয়েছে।” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন ও তফসিলী জাতি-উপজাতিদের ওপরে নির্যাতন রোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশ। রবিবার তাঁদেরই বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আর্থ মুভার দিয়ে একটি একতলা বাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামের সরপঞ্চের স্বামী মহেন্দ্র গুজ্জরের বাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।


জুলাইয়ের শেষে রাজস্থানে গণধোলাইয়ের বিরুদ্ধে বিধানসভায় বিল পেশ করা হয়। তার নাম রাজস্থান প্রোটেকশন ফ্রম লিঞ্চিং বিল। তাতে গণধোলাইয়ের ঘটনায় কারাদণ্ড ও জরিমানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, উন্মত্ত জনতার হামলা ঠেকানোর জন্য উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসাররা বিভিন্ন থানার মধ্যে সমন্বয় সাধন করবেন।

ওই বিল আইনে পরিণত হলে গণধোলাইয়ে যুক্ত ব্যক্তিদের সশ্রম কারাদণ্ড হবে। সেই সঙ্গে তাঁদের জরিমানা হবে এক লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। কাউকে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে মারলে দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। গণধোলাইয়ে যদি কেউ আহত হয় তাহলে দোষীদের কারাদণ্ড হবে ১০ বছর পর্যন্ত। আক্রান্ত ব্যক্তি কতদূর আহত হয়েছেন, তার ভিত্তিতে জরিমানা হবে ২৫ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

কেউ যদি আপত্তিকর কোনও বক্তব্য প্রচার করে, তার শাস্তি হতে পারে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত। ঘৃণার পরিবেশ সৃষ্টি করলে জেল হবে পাঁচ বছর। আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দিলেও পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হবে।

বিলে বলা হয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি এই আইনটি প্রযুক্ত হবে। এটি হবে স্পেশ্যাল ল। জনতা বলতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জোট বোঝানো হয়েছে। ‘মব লিঞ্চিং’ কথাটির সংজ্ঞা দিয়ে বলা হয়েছে, তা একপ্রকার হিংসাত্মক কাজ। ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ, জন্মস্থান, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, রাজনীতি অথবা জনজাতির ভিত্তিতে কারও ওপরে হামলা চালানোকে মব লিঞ্চিং বলা হবে। এই ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য রাজ্য স্তরে পুলিশের একজন কো-অর্ডিনেটর থাকবেন। তিনি হবেন ইনস্পেকটর জেনারেল পদমর্যাদার। তাঁকে নিয়োগ করবেন ডিজি। প্রতিটি জেলায় পুলিশের এসপি হবেন কো-অর্ডিনেটর। তাঁকে সাহায্য করবেন ডিএসপি র‍্যাঙ্কের একজন অফিসার। তাঁরা উন্মত্ত জনতার আক্রমণ ঠেকানোর কাজ করবেন । খবর দ্য ওয়ালের /২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *