ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন
আমরা যুদ্ধে জিতেছি, শেষ দফায় মার্কিন সেনা অপসারণের পরেই দাবি তালিবানের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

আমরা যুদ্ধে জিতেছি, শেষ দফায় মার্কিন সেনা অপসারণের পরেই দাবি তালিবানের

সোমবার আন্তর্জাতিক সময় সন্ধ্যা সাতটা বেজে ২৯ মিনিটে শেষ দফায় মার্কিন সৈনিকদের নিয়ে কাবুল থেকে উড়ে যায় বিমান। তার পরেই তালিবানের শীর্ষস্থানীয় মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ দেশবাসীকে অভিনন্দন (Congratulation Afganistan) জানান। তিনি বলেন, এই জয় আমাদের সকলের। পরে তিনি মন্তব্য করেন, আমরা আমেরিকা ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাবুলে শূন্যে গুলি ছুড়ে আনন্দ প্রকাশ করতে থাকে তালিবান যোদ্ধারা। তালিবানের কর্তারা দাবি করেন, মার্কিন সেনাদের প্রত্যাবর্তনের এই মুহূর্তটি ঐতিহাসিক। পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ৩১ অগাস্টের মধ্যে সব মার্কিন সেনাকে সরিয়ে আনা যাবে কিনা, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় ছিল। গত কয়েকদিনে খুব দ্রুত কয়েক হাজার মার্কিন নাগরিককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যে আফগান নাগরিকরা মার্কিন সেনাকে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদেরও সরিয়ে আনা হয়েছে আফগানিস্তান থেকে।


মার্কিন সেনাকর্তা সোমবার ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি ঘোষণা করছি, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের অল্পদিন পরেই যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এদিন রাতে তা শেষ হল।” আনাস হাক্কানি নামে এক শীর্ষস্থানীয় তালিবান নেতা বলেন, “এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে আমি গর্বিত।”

গত ১৫ অগাস্ট তালিবান সেনা কাবুল দখল করে। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ২৩ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক ও তাঁদের সহযোগীদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আমরা আশা করব, তালিবান আগামীদিনে আফগান জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। সেদেশে রাষ্ট্রপুঞ্জ ও অন্যান্য দেশের ত্রাণ সংস্থাগুলিকে কাজ করতে বাধা দেবে না।

এতদিন কাবুল বিমান বন্দর ছিল আমেরিকার সৈনিকদের হাতে। তারা ফিরে আসার পরে কারা ওই বিমান বন্দরের দায়িত্বে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোন কোন দেশের বিমান এখন কাবুলে ওঠানামা করবে, তাও তালিবান জানায়নি।

গত রবিবার কাতার থেকে তালিবান নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই বলেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চান। এরপরে তালিবান সম্পর্কে কী অবস্থান নেওয়া যায়, খতিয়ে দেখছে ভারত। ভারতীয় প্রশাসনের কর্তারা লক্ষ করেছেন, তালিবান শক্তিশালী হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় বদলেছে শক্তির ভারসাম্য। প্রভাব বেড়েছে চিন ও রাশিয়ার। তালিবান কাবুল দখল করার আগেই রাশিয়া থেকে ভারতকে বলা হয়েছিল, জঙ্গিদের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ায় আসাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পরে চিনও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে সাহায্য করবে। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *