ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
আফগানিস্তান বিষয়ে বাইডেনের ভাষণ পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তনের আভাস
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

আফগানিস্তান বিষয়ে বাইডেনের ভাষণ পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তনের আভাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে এক ভাষণে বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপকে সামরিক মিশনের অবসান ঘটিয়ে বিভিন্ন দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছি’। তিনি বলেন, ‘এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, আমি কোনমতেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবো না এবং দশকের পর দশক ধরে সামরিক পন্থায় অন্য দেশ পুনর্গঠনের জন্য ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা ছিল একেবারেই অযথা’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন আরো বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে সামরিক মিশন বাস্তবায়নে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। আফগান যুদ্ধের ২০ বছর পরেও ওই যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে সেখানে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বহু আগেই এ যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত ছিল যা এখন আমরা করেছি’।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এ বক্তব্য থেকে মার্কিন নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াশিংটন গত ২০ বছরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমনের অজুহাতে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে এবং এরপর ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালায়। এরপর তারা ওই দুই দেশে সরকার গঠন ও পুনর্গঠনের কথা বলে। যদিও এ কাজ তারা কখনই করতে পারেনি। আফগানিস্তানে তালেবানের আধিপত্য সম্পর্কে বলা যায় গণতন্ত্রের মোড়কে ওই দেশ পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ২০ বছরের প্রচেষ্টার ইতি ঘটেছে। গত ২০ বছরে আফগানিস্তানে মার্কিন দখলদারিত্বের সময়ে সেখানে উন্নয়নমূলক কোনো কাজই হয়নি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস আফগানিস্তানে পাশ্চাত্যের ব্যর্থতাকে অনেক বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, আফগানিস্তানের ঘটনায় আমাদেরকে এ শিক্ষা নিতে হবে যে সামরিক হস্তক্ষেপ করেও ওই দেশটিতে কোনো সাফল্য আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে আফগানিস্তান পুনর্গঠনে তারা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে। তবে গত মার্চে প্রকাশিত মার্কিন সরকারের আফগানিস্তান পুনর্গঠন বিষয়ক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অংকের অর্থ নষ্ট হয়েছে। এতে বলা হয়েছে মার্কিন অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আফগানিস্তানে ব্যাপক দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে মার্কিন সরকার ওই দেশ পুনর্গঠনের কথা বললেও তা কোনো কাজে আসেনি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগান জনগণের কোনো কল্যাণে আসেনি।

প্রকৃতপক্ষে, আফগানিস্তানের বর্তমান ধ্বংসযজ্ঞ, দরিদ্রতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। গত ২০ বছরে তারা গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা কোনো কিছুই প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। অনেকের মতে, আফগানিস্তান পুনর্গঠনে তাদের ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপমূলক নীতির ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের দেয়া বক্তব্য থেকে বোঝা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের শক্তি ও প্রভাব ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসছে। শীতল যুদ্ধের পর মার্কিন সরকার নিজেদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল এবং নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় তাদের একক আধিপত্য ও পরাশক্তি হয়ে ওঠার কথা বলত। কিন্তু বর্তমানে তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে অবনতির আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকাল থেকে তাদের পতনের আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং তার আমলেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বর্তমান মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে আফগানিস্তান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। খবর পার্সটুডে /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *