ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন
ডেলিভারি দিতে দেরি, রেস্তোরাঁ মালিককে গুলি করল সুইগির এজেন্ট
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ডেলিভারি দিতে দেরি, রেস্তোরাঁ মালিককে গুলি করল সুইগির এজেন্ট

: গ্রেটার নয়ডায় (Greater Noida) মিত্রা নামে এক আবাসনের মধ্যে রেস্তোরাঁ চালাতেন সুনীল আগরওয়াল (Sunil Agarwal)। মঙ্গলবার রাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সুইগির (Swiggy) এক এজেন্ট এসে সেই রেস্তোরাঁয় চিকেন বিরিয়ানি আর পুরি সবজি অর্ডার দেন। বিরিয়ানি যথাযথ সময়ে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছিল। রেস্তোরাঁর এক কর্মী সুইগির এজেন্টকে জানান, পুরি সবজি তৈরি হতে আরও কিছুক্ষণ সময় লাগবে। এজেন্টের সঙ্গে সেই কর্মচারীর তর্ক শুরু হয়। এজেন্ট সেই কর্মীকে গালিগালাজ করেন।

এর মধ্যে সুনীল আগরওয়াল এসে দু’জনের ঝগড়া মেটাতে চেষ্টা করেন। তখন ওই এজেন্ট রিভলভার বার করে গুলি করেন সুনীলের মাথায়। রেস্তোরাঁর কর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ডাক্তাররা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গিয়েছেন। সুইগির ওই এজেন্ট পলাতক। পুলিশ সিসিটিভি-র ফুটেজের (CCTV footage) ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাঁর সন্ধানে চলছে তল্লাশি।


রেস্তোরাঁর কাছেই থাকেন রাকেশ নাগার। তিনি বলেন, “রেস্তোরাঁর কর্মীরা আমাকে এসে বললেন, মালিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমি যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছলাম, তখনও সুনীল জীবিত ছিলেন। আমি ১০০ নম্বরে ডায়াল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকলাম। পরে অন্য একটি গাড়িতে তাঁকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই।” পুলিশ অফিসার বিশাল পাণ্ডে বলেন, “ডেলিভারি দিতে দেরি হওয়ার জন্য সুইগির ওই এজেন্ট রেস্তোরাঁ মালিককে গুলি করেন। তাঁকে ধরার জন্য পুলিশের বিশেষ টিম তৈরি হয়েছে।”

কিছুদিন আগে গুরগাঁওতে এক দলিত কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। পশ্চিম দিল্লিতে এক দলিত দিনমজুর তাঁর স্ত্রী ও ১৩ বছরের কিশোরী কন্যাকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বাস করতেন। বাড়িওয়ালার সঙ্গে তাঁদের ভাল সম্পর্ক ছিল। বাড়িওয়ালার অনুরোধে মেয়েকে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন ওই দিনমজুর। প্রবীণ নামে সেই আত্মীয় গুরগাঁওতে থাকেন। প্রবীণের মেয়ে ওই দলিত কিশোরীর সমবয়সী। বাড়িওয়ালার স্ত্রী বলেছিলেন, গুরগাঁওতে গেলে দলিত কিশোরী প্রবীণের মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলো করতে পারবে।

গত ১৭ জুলাই ওই কিশোরী প্রবীণের সঙ্গে তাঁর গুরগাঁওয়ের বাড়িতে যায়। তার বাবা জানিয়েছেন, ২৩ অগাস্ট দুপুর তিনটের সময় ফোনে তাঁদের জানানো হয়, মেয়েটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে মারা গিয়েছে। চার ঘণ্টা পরে বাড়িওয়ালার স্ত্রী প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েটির দেহ দিল্লিতে নিয়ে আসেন। এরপর বাড়িওয়ালারা দ্রুত মেয়ের শেষকৃত্য করার জন্য দিনমজুরের ওপরে চাপ দিতে থাকেন। তাঁরা কাঠ ও পুজোর অন্যান্য সামগ্রী কিনে আনেন। মেয়েটির পরিবার তখন দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। এমন সময় হস্তক্ষেপ করেন প্রতিবেশীরা। তাঁরা মেয়েটির মৃতদেহ দেখতে চান। দেহ দেখে চমকে ওঠেন সকলে। তার মুখে ও পিঠে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তখন মেয়েটির বাবা পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ দেহটি ময়না তদন্তে পাঠায়। প্রবীণকে গ্রেফতার করা হয়। বাড়িওয়ালা ও তাঁর স্ত্রী মেয়েটিকে খুন করার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন কিনা, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ময়না তদন্তে জানা যায়, মেয়েটির গোপন অঙ্গে আঘাত করা হয়েছিল। তাকে ধর্ষণের পরে খুন করা হয়েছে  ।খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *