ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
মাইক্রো ইউএসবি এবং ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট দিয়ে কি কি করা সম্ভব? | Techtunes
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন। তো বন্ধুরা আমরা সকলেই এখন বর্তমানে জানি যে, বর্তমানে স্মার্টফোন গুলোতে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ব্যবহার করা হয়। আমরা এটা অনেক সময় ভেবে থাকি যে একটি ফোনে যদি ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দেওয়া হয় তবে সেটিতে ডাটা ট্রান্সফার রেট অনেক বেশি হবে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এর চাইতে। এছাড়াও আমরা অনেক সময় এটাও ভেবে থাকি যে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এর চাইতে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এ চার্জিং স্পিড ও বেশি হবে। তো, এসব বিষয় নিয়েই মূলত আলোচনা করবো এই টিউনে।

এক্ষেত্রে আপনার জানা উচিত একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং একটি ইউএসবি type-c পোর্ট সম্বন্ধে। এজন্য আপনার জানা উচিত একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং একটি ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর মধ্যে কি কি পার্থক্য রয়েছে। তো বন্ধুরা, আজকের এই টিউনে আমি আপনাদেরকে সেই বিষয়টি বলতে চলেছি। আজকের এই টিউন এর মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন একটি ইউএসবি type-c এবং একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এর মধ্যে কি কি পার্থক্য রয়েছে‌। এছাড়াও আপনি জানতে পারবেন কোন কোন পরিস্থিতিতে কোনটি ব্যবহার হয় সে সম্পর্কে। তবে এ জন্য সম্পূর্ণ টিউনটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর পার্থক্য

মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর পার্থক্য জানার আগে আমাদেরকে জানতে হবে এগুলোর ইতিহাস সম্পর্কে। সবার আগে আমরা যে ইউএসবি টি ব্যবহার করতাম সেটি হচ্ছে ইউএসবি Type-A; যেটিকে আমরা আজও পর্যন্ত ল্যাপটপ কম্পিউটার কিংবা পেনড্রাইভে ব্যবহার করে থাকি। এরপরে আসে ইউএসবি টাইপ-বি; যদিও ইউএসবি টাইপ বি ততটা জনপ্রিয় না হলেও এটিকে আমরা বিভিন্ন প্রিন্টার ব্যবহার করে থাকি এবং এছাড়া ইউএসবি টাইপ-বি এর অনেক মিনি এবং মাইক্রো ভার্সন রয়েছে। যেগুলোকে মাইক্রো ইউএসবি-বি এবং মাইক্রো ইউএসবি হিসেবেও চেনা যায়। যেগুলোকে কিনা ছোটখাটো গ্যাজেট; যেমন স্মার্টফোন এর মত গ্যাজেট গুলোতে ব্যবহার করা হয়।

এরপরে চলে আসে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট। ‌এখন যে এই ইউএসবি type-A ইউএসবি টাইপ বি এবং micro-usb এগুলো দিয়ে শুধুমাত্র এর কানেক্টর কে বুঝানো হয়। এসব পোর্ট দিয়ে ডাটা স্পিড কেমন হবে সেটা নির্ভর করে সেগুলোর জেনারেশনের উপর। যেখানে রয়েছে ইউএসবি 1.0, ইউএসবি 2.0, ইউএসবি 3.1 ইত্যাদি। এসব ইউএসবি জেনারেশন নিয়ে আমি একটু পরে আলোচনা করছি। এজন্য সবার আগে জানা যাক micro-usb এবং অন্যান্য ইউএসবি type-c পোর্ট এর মধ্যে কি কি পার্থক্য রয়েছে।

১. প্রথম পার্থক্য হচ্ছে এর স্থায়িত্ব

মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর মধ্যে সবার প্রথমে পার্থক্য হচ্ছে এর স্থায়িত্ব নিয়ে। ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট সবসময় অনেক স্থায়িত্ব হয়। যেটিকে আপনি সবসময় বেশি সময় ধরে ব্যবহার করতে পারবেন মাইক্রো ইউএসবি এর চাইতে। এছাড়া আপনি সবসময় এটি খেয়াল করে থাকবেন যে, মাইক্রো ইউএসবি পোর্টকে আপনি সবসময় একদিকে লাগাতে পারবেন। আপনি যদি মাইক্রো ইউএসবি পোর্টকে উল্টোদিকে লাগানোর চেষ্টা করেন তবে এক্ষেত্রে আপনার সেই ডিভাইসের পোর্ট টি হয়তোবা নষ্ট হয়ে যাবে কিংবা আপনি লাগাতেই পারবেন না।

মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট লাগানোর মত এই ঝামেলাটি ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর ক্ষেত্রে হয় না। ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট কে আপনি যে কোন দিকেই লাগাতে পারবেন এবং যেকোনো দিকেই ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট কে আপনি ব্যবহার করুন না কেন সেখানেই তা কাজ করবে। যেটা কিন্তু ইউএসবি type-c এর ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত সুবিধা। যেখানে আপনি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট লাগানোর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে সেখানে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ব্যবহার করে আপনাকে কোন ঝামেলাই পোহাতে হবে না। যেখানে আপনি যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে করে পোর্ট টি লাগাতে পারবেন।

সেজন্য তাকে দেখতে হবে না যে লাগানো উল্টো হলো নাকি সঠিক হল। বরং আপনি যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে লাগাতে পারবেন। যেটি মন ভোলা মানুষের জন্য একটি সুবিধাজনক বটে। অনেক সময় তো এমনও হয় যে, ভুল করে বিপরীত দিকে পোর্ট টি লাগানোর কারণে তা নষ্ট হয়। আর এই সমস্যার সমাধান হতে পারে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট।

২. উভয় ইউএসবি পোর্ট এর ক্ষেত্রে কানেক্টর পিন

তো দেখুন, সাধারণভাবে একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্টে পাঁচ থেকে দশটি পিন থাকে; আর অন্যদিকে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর সর্বোচ্চ 24 টি পিন থাকতে পারে। ‌ আর এই বেশি থাকার কারণে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দিয়ে যে পরিমাণ ডাটা টান্সফার করা সম্ভব সেটি কখনো মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট দ্বারা করা সম্ভব নয়। এছাড়া আমরা ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দিয়ে সর্বোচ্চ 100W পর্যন্ত পাওয়ার কে সাপ্লাই করতে পারি; আর অন্যদিকে আমরা মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট দিয়ে সর্বোচ্চ 60W পাওয়ার সাপ্লাই করতে পারি।

এছাড়া ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট multi-function পোর্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে এটি 3.mm হেডফোন জ্যাক এর কাজ করতে পারে। এছাড়া এটি এইচডিএমআই পোর্ট এর কাজ ও করতে পারে। অর্থাৎ, যে সমস্ত পোর্ট আমরা ল্যাপটপ কম্পিউটার ব্যবহার করি সে গুলোকে একটিমাত্র সিঙ্গেল ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর মাধ্যমে রিপ্লেস করা যেতে পারে। এছাড়া ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর সবচাইতে বড় এবং ভালো সুবিধা হচ্ছে এটি দিয়ে একসঙ্গে পাওয়ার ডেলিভারি করতে পারি এবং ডাটা কেও ট্রানস্ফার করতে পারি। অর্থাৎ একই সময়ে আপনি আপনার ডিভাইসকে চার্জ করছেন এবং একই সময়ে আপনার ডিভাইসে কোন ডেটা আদান প্রদান করছেন।

অর্থাৎ, এসবের মানে এটা নয় যে একটি ডিভাইসের যদি ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দেওয়া হয় তবে এক্ষেত্রে আপনি উপরে বলা সমস্ত সুবিধাগুলো পাবেন। এটি আপনার ব্র্যান্ড এর ওপর নির্ভর করে, এক্ষেত্রে আপনার ব্রান্ড নির্ধারণ করে দিতে পারে যে আপনার ফোনে কি কি ফিচার দিয়ে দিবে। ‌আমি যে সব কথাগুলো বললাম সেগুলো ইউএসবি টাইপ সি এর মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু করা সম্ভব এবং ফিজিক্যালি ভাবে করা অনেক পার্থক্য রয়েছে। আমরা ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর মাধ্যমে 100W পর্যন্ত পাওয়ার কে সাপ্লাই করতে পারি; তার মানে এটা নয় যে একটি ডিভাইসের যদি ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দেওয়া হয় সেই ডিভাইসটি 100W এ চার্জ হবে।

একটি ডিভাইসে যদি ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট থাকে তবে সেটি যে ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করবে তা নয়। আর এটির সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে, Redmi Note7 pro এবং Realme3 pro এর উদাহরণ। যেখানে Realme3 pro তে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ব্যবহার করেও ফাস্ট চার্জিং সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যেখানে এটি 20W এ চার্জ করতে পারে। আর অন্যদিকে Redmi Note7 pro তে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এখানে সর্বোচ্চ 18W-এ এটি চার্জ হতে পারে।

এখানে আমরা যদি দুইটি স্মার্টফোনের সঙ্গে তুলনা করি তবে বিষয়টি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারব। যেখানে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দেওয়া সত্বেও Redmi Note7 pro-তে Realme3 pro এর চাইতে কম ক্ষমতার চার্জিং সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যেখানে Realme3 pro কিন্তু Redmi Note7 pro এর চাইতে দ্রুত চার্জ হবে যদিও এখানে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট রয়েছে। আর যদি এখানে ডাটা ট্রান্সফার স্পিড এর কথা বিবেচনা করি তবে এখানে চলে আসে ইউএসবি পোর্ট এর জেনারেশন। যেখানে রয়েছে ইউএসবি 1.0, ইউএসবি 2.0, ইউএসবি 3.0, ইউএসবি 3.1 ইত্যাদি।

তো দেখুন, সবার প্রথমে আমরা ইউএসবি 1.0 ব্যবহার করতাম, যেখানে আমরা সর্বোচ্চ 1.5 এমবিপিএস স্পিডে ডাটা ট্রান্সফার করতে পারতাম। এবং এরপর চলে আসে ইউএসবি 1.1; যেখানে আমরা 12 এমবিপিএস পর্যন্ত ডেটা ট্রান্সফার স্পিড পেতাম। এবং এর পরবর্তীতে চলে আসে ইউএসবি 2.0; যেখানে আমরা 480 এমবিপিএস স্পিড ডাটা ট্রান্সফার করতে পারি। এছাড়া পরবর্তী সময়ে চলে আসে ইউএসবি 3.0 এবং ইউএসবি 3.1। যেগুলোর মাধ্যমে আমরা 5gbps এবং 10gbps স্পিড ডাটা ট্রান্সফার করতে পারি।

কিন্তু এখানে লক্ষ করার বিষয় হচ্ছে, একটি ইউএসবি টাইপ-এ ও 3.0 কে সাপোর্ট করতে পারে, মাইক্রো ইউএসবি 3.0 কে সাপোর্ট করতে পারে এবং ইউএসবি টাইপ-সি ও 3.0 কে সাপোর্ট করতে পারে। এখানে আপনাকে দেখতে হবে যে কত জেনারেশনের ইউএসবি আপনাকে দেওয়া হচ্ছে। যেটির ওপরে আপনার ডাটা ট্রান্সফার স্পিড কত হবে তা নির্ভর করে।

এর উদাহরণ হিসেবে একটি স্মার্টফোনে যদি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট দেওয়া হয় আর সেখানে যদি থাকে ইউএসবি 3.0 এর সাপোর্ট, আর অন্যদিকে যদি একটি ফোনে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দেওয়া হয় আর সেখানে যদি সাপোর্ট থাকে ইউএসবি 2.0; তাহলে এখানে যে ডেটা ট্রান্সফার এর স্পিড হবে তা অবশ্যই মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এর চাইতে বেশি হবে‌ ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এর চাইতে।

তো বন্ধুরা আমি আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এর মধ্যে কিসের কিসের পার্থক্য রয়েছে এবং কোন মুহূর্তে কোনটি ব্যবহার হয়। যদি আপনার টিউনটি ভাল লেগে থাকে তবে জোসস করুন, টিউনমেন্ট করুন, আর আপনি যদি আমাকে এখনও ফলো করে না রাখেন তবে এখনই ফলো করে রাখুন। যাতে করে আমার নতুন কোন টিউন প্রকাশিত হলে আপনি টেকটিউনস এর হোমপেজে সর্বদা দেখতে পান এবং আজ না কাল তো এর চাইতেও কোন ভালো টিউন নিয়ে আসতে পারি আপনাদের জন্য।

আজ তবে এই টিউনটি থেকে এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই যে যার অবস্থানে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করুন এবং সেই সঙ্গে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। পরবর্তীতে কোন টিউনে আরো নতুন কোন টপিক নিয়ে আলোচনা করা যাবে ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *