ঢাকা, শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
মাথা ভর্তি কালো চুলের জোয়ান ছেলেপুলে খুঁজছে ত্রিপুরার সিপিএম, ব্যাপারটা কী?
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

মাথা ভর্তি কালো চুলের জোয়ান ছেলেপুলে খুঁজছে ত্রিপুরার সিপিএম, ব্যাপারটা কী?

 রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লা সিপিএমে (CPM) থাকাকালে বরাবর বেশ ঠোঁটকাটা ছিলেন। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে পার্টিতে যখন গেল গেল রব, তখন তাঁর দাওয়াই ছিল, সিপিএমকে বাঁচাতে পারে এক মাথা ভর্তি কালো চুলওয়ালা জোয়ান ছেলেপুলে। তাঁর কথা পার্টি তখন কানে তোলেনি। রেজ্জাক মোল্লা শেষ পর্যন্ত পার্টি ছেড়ে তৃণমূলে গিয়ে ফের মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু একের পর এক নির্বাচনে বিপর্যয়ের জেরে সিপিএম এখন তারুণ্যের সন্ধানে নেমেছে বলা চলে। বঙ্গ সিপিএমের পর একই পথে এবার ত্রিপুরার (tripura) পার্টি।

বাংলায় ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর সিপিএমের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে নিষ্ক্রিয়তার সংক্রামক ব্যধি। বহু ওষুধ প্রয়োগ করেও কাজ হয়নি। বসে যাওয়াদের সদস্যপদও খারিজ হয়েছে বহু জায়গায়। এবার ভোট যখন দুয়ারে, তৃণমূল যখন আদাজল খেয়ে নেমেছে তখন ত্রিপুরা সিপিএমও সক্রিয়তার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা শুরু করে দিল।


সারা দেশেই সিপিএমের সাংগঠনিক বদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের গোড়া থেকে শাখাস্তরের সম্মেলন শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে এরিয়া, জেলা, রাজ্য সম্মেলন হয়ে আগামী বছর কেরলের কান্নুরে হবে পার্টি কংগগ্রেস। এই সম্মেলন প্রক্রিয়ায় শাখাস্তরের সম্মেলনগুলিতে বড়সড় বদলের পথে হাঁটছে ত্রিপুরা সিপিএম।

দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ শাখায় নিষ্ক্রিয়দের সম্পাদক পদ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বদলে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণদের। ত্রিপুরা পার্টির সম্পাদকমণ্ডলী বলেছে, শাখা যদি জীবন্ত, সজীব না হয় তাহলে রাজ্যস্তরে নতুন মুখ এনে কিছু হবে না। তাই পার্টিকে যদি লড়াইয়ের মাঠে থাকতে হয় তাহলে শাখাকেই করে তুলতে হবে প্রাণবন্ত।
আগরতলার রাজনগর এলাকায় শাখা সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বছর চব্বিশের এক ছাত্র নেতাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই এসএফআই নেতার বক্তব্য, বুথে দলকে শক্তিশালী করা, আরও বেশি মানুষকে আন্দোলনে নামানোই তাঁর লক্ষ্য।

ত্রিপুরা সিপিএম আরও একটা বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তা হল ২০১৮-র পর যে অংশ ভয়ে ঘরে ঢুকে গিয়েছিল, অথচ যাঁরা বিজেপি-র সমর্থক নয়, সেই অংশের কাছে পৌঁছে যাওয়া। ভয় ভাঙিয়ে রাস্তায় নামানোর লক্ষ্যে চলতে চাইছে সিপিএম।

একথা ঠিক ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর বাংলায় সিপিএম যেমন আন্দোলন বিমুখ হয়েছিল ত্রিপুরার ক্ষেত্রে তা হয়নি। এ ব্যাপারে অনেকে বলেন, ত্রিপুরায় এরকমটা না হওয়ার কারণ মানিক সরকারের সক্রিয়তা। মানিকবাবু ত্রিপুরা সিপিএমের মুখ। মুখ্যমন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার পর তিনিই বিরোধী দলনেতা। ফলে তাঁর ভূমিকা এক্ষেত্রে অস্বীকার করা মানে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা।

ত্রিপুরার সিপিএম নেতাদের দাবি, বহু নতুন মানুষ প্রতিদিন দলের আন্দোলনে শামিল হচ্ছেন। তবে সেটাকে ভোট বাক্সে প্রতিফলিত করা যে চ্যালেঞ্জ সেটা অস্বীকার করছেন না কেউই। সেই কারণেই নিচু তলায় নতুন মুখের উপর জোর দিচ্ছে আগরতলার মেলার মাঠের দশরথ দেব স্মৃতি ভবন। তা ছাড়া রাজ্য কমিটিতেও এবার বেশ কিছু অল্পবয়সী মুখ তুলে আনতে পারে ত্রিপুরা সিপিএম। তাঁদের মধ্যে সম্ভাবনা বেশি এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সন্দীপন দেব এবং যুব সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পলাশ ভৌমিকের । ​খবর  দ্য ওয়ালের/ এনবিএস/২০২১/এক

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *