ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:১০ অপরাহ্ন
তুমুল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার, তাই এখনও সরকার গড়তে পারেনি তালিবান
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

তুমুল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার, তাই এখনও সরকার গড়তে পারেনি তালিবান

 দোহা আর হাক্কানি। তালিবানের এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধী ক্রমশ হয়ে উঠছে তীব্রতর (infighting)। তাই কাবুল দখলের পরে প্রায় ২০ দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও সরকার গড়তে পারেনি তালিবান। একটি সূত্রে সোমবার এই খবর জানা গিয়েছে। এর আগে স্থির হয়েছিল, তালিবানের শীর্ষ নেতা হবেন হাইবাতুল্লা আখুন্দজাদা। কিন্তু হাক্কানি গোষ্ঠী তাঁকে নেতা বলে মানতে রাজি নয়।


এর আগে আফগানিস্তানে যে সরকার ছিল, তার দুই কর্তাব্যক্তিকে নতুন সরকারে নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়েও দুই গোষ্ঠীর মতভেদ রয়েছে। হাক্কানি গোষ্ঠী মনে করে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও দু’বারের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আবদুল্লা আবদুল্লাকে সরকারে নেওয়া ঠিক হবে না। অন্যদিকে দোহা গোষ্ঠী তাঁদের সরকারে নেওয়ার পক্ষে।

তালিবানের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এখন সংঘর্ষ চলছে বলে জানা যায়। এমনই এক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন তালিবানের শীর্ষ নেতা মোল্লা বরাদর। আখুন্দজাদা স্থির করেছিলেন, নতুন সরকারে মোল্লা বরাদর হবেন প্রেসিডেন্ট। তালিবানের মধ্যে গোলমাল দেখে রবিবার আফগানিস্তানে উড়ে গিয়েছেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআইয়ের প্রধান ফৈয়াজ হামিদ। তিনি তালিবানের দুই গোষ্ঠীকে বুঝিয়ে একটা সমঝোতায় নিয়ে আসতে চান।


তালিবান যোদ্ধাদের মধ্যে হাক্কানিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। গত সপ্তাহে তালিবান ও আফগানিস্তানের অন্যান্য নেতা বলেন, সরকার গঠনের জন্য তাঁরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। সরকারি পরিষদে শীর্ষস্থানে থাকবেন আখুন্দজাদা। সরকারের দৈনন্দিন কাজকর্ম দেখাশোনা করবেন মোল্লা বরাদর। ব্লুমবার্গের এক রিপোর্টে জানা যায়, তালিবান নেতা বিলাল করিমি বলেছেন, “আর কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করব।” তার পরে কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মন্ত্রিসভা গঠিত হয়নি।

রয়টার্স সূত্রে খবর, নতুন সরকারে থাকবেন মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব। তিনি তালিবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে। তাছাড়া মন্ত্রিসভায় থাকবেন মহম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই। তালিবানের একটি সূত্রে জানা যায়, তাদের শীর্ষ নেতারা সকলেই কাবুলে পৌঁছেছেন।

গত ১৫ অগাস্ট কাবুল দখল করে তালিবান। তারপরে আমেরিকা ও অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনী ফিরে যায় আফগানিস্তান থেকে। তাছাড়া তালিবানের ভয়ে দেশ ছাড়েন হাজার হাজার মানুষ। এর আগে ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করেছিল তালিবান। তারা দেশ জুড়ে কঠোর শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিল। এবার অবশ্য তারা বলেছে, অত কড়াকড়ি করবে না। যদিও অনেকেই তাদের কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। সোমবারই খবর এসেছে, এক অন্তঃস্বত্তা পুলিশ কর্মীকে গুলি করে মেরেছে তালিবান।খবর দ্য ‍ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *