ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
হাজার যাত্রী নিয়ে ছ’টি বিমান দাঁড়িয়ে আছে আফগানিস্তানে, ওড়ার অনুমতি দিচ্ছে না তালিবান
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

হাজার যাত্রী নিয়ে ছ’টি বিমান দাঁড়িয়ে আছে আফগানিস্তানে, ওড়ার অনুমতি দিচ্ছে না তালিবান

আফগানিস্তানের উত্তরে মাজার-ই-শরিফ (Mazar-I-Sharif) শহরের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে ছ’টি বিমান। তাতে আছেন ১ হাজার যাত্রী। তাঁদের মধ্যে আছেন আমেরিকানরাও। তালিবানের কবল থেকে পালানোর জন্য তাঁরা তৈরি। কিন্তু তালিবান বিমানগুলিকে ওড়ার অনুমতি দিচ্ছে না। যাত্রীদের এক প্রতিনিধির অভিযোগ, মার্কিন বিদেশ দফতরের জন্যই তাঁরা আফগানিস্তান ছাড়তে পারছেন না। বিদেশ দফতর অনুরোধ করলেই তালিবান বিমানগুলিকে উড়তে দেবে। কিন্তু এখনও কেউ তালিবানকে অনুরোধ করেনি।


রবিবার আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ফরেন অ্যাফেয়ার কমিটির সদস্য মাইক ম্যাকুল বলেন, মাজার-ই-শরিফ বিমান বন্দরে ছ’টি বিমান দাঁড়িয়ে আছে। তাতে আমেরিকানরা আছেন। তাঁদের আফগান দোভাষীরাও আছেন। তালিবান বিমানগুলিকে ওড়ার অনুমতি দেয়নি। ম্যাকুলের দাবি, তালিবান ওই বিমানগুলির যাত্রীদের পণবন্দি করেছে। যদিও একথা অনেকে মানতে চাননি। মার্কিন কংগ্রেসের আর এক রিপাবলিকান সদস্য মাইক ওয়ালজ বলেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন যাতে আমেরিকানদের নিয়ে ওই বিমানগুলি আফগানিস্তান থেকে উড়তে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেছেন, মাজার-ই-শরিফে কোনও আমেরিকান আটকে পড়েছেন বলে খবর নেই। পরে অবশ্য তিনি বলেন, আমরা তালিবানের কাচ্ছে অনুরোদহ জানিয়েছি, যাঁরা আফগানিস্তান ছেড়ে আসতে চান, তাঁদের যেন না আটকানো হয়।


গত ১৫ অগাস্ট কাবুল দখল করে তালিবান। কিন্তু তারা এখনও সরকার গঠন করতে পারেনি। তালিবান চায় নতুন সরকার ঘোষণার আগেই পঞ্জশির থেকে বিরোধীদের নির্মূল করে ফেলতে। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণের সময় থেকেই স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখছে পঞ্জশির। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান ক্ষমতায় থাকার সময়েও পঞ্জশিরকে বশ মানানো যায়নি। কাবুল থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে ওই উপত্যকায় তালিবান বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র জমা করেছে বলে জানা যায়।

পঞ্জশির উপত্যকায় তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে প্রয়াত আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদের বাহিনী। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহ। গত কয়েকদিন ধরেই তালিবান ও স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ছিল পঞ্জশির। দুপক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেখানে আঞ্চলিক মিলিশিয়া ও প্রাক্তন সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর অবশিষ্ট অংশ আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বে লড়ছে। তালিবানের তিনটি সূত্রের দাবি, শুক্রবার তারা পঞ্জশির দখল করেছে। এক তালিবান কম্যান্ডার বলেছেন, আল্লাহর আশীর্বাদে গোটা আফগানিস্তান আমাদের নিয়ন্ত্রণে। বাধা সৃষ্টিকারীরা হটে গিয়েছে। পঞ্জশির এখন পুরোপুরি আমাদের দখলে। কিন্তু ওই দাবির কিছুক্ষণের মধ্যে আবার শোনা যায়, লড়াই তীব্রতর হয়েছে পঞ্জশিরে। ​। খবর দ্য ওয়ালের/২০২১ / এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *