ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
আফগানিস্তানে যে কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপের নিন্দা করুন, পাকিস্তানকে বার্তা ইরানের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


আফগানিস্তানে যে কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপের নিন্দা করুন, পাকিস্তানকে বার্তা ইরানের

 পঞ্জশির উপত্যকায় তালিবানের আক্রমণের তীব্র নিন্দা করল ইরান (Iran)। তালিবান সোমবার জানায়, ওই উপত্যকায় বিরোধীদের প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর পরেই ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র খাতিবজাদে বলেন, “পঞ্জশির থেকে যে খবর আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা করছি।” গত ১৫ অগাস্ট তালিবান কাবুল দখল করার পরে এই প্রথমবার তাদের নিন্দা করল ইরান।


কাবুল দখল করার তিন সপ্তাহ পরে, সোমবার তালিবান দাবি করে, আমাদের দেশে যুদ্ধ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে তালিবানের বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট জানিয়েছে, পঞ্জশিরে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি তাদের দখলেই আছে।

খাতিবজাদে এদিন বলেন, আমরা চাই, প্রবীণদের উপস্থিতিতে তালিবানের সঙ্গে বিরোধীদের শত্রুতার অবসান হোক। পরে তিনি বলেন, তালিবানের উচিত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা। তারা যেন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। আফগানিস্তানে যাতে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার তৈরি হয়, সেজন্য ইরান সবরকম চেষ্টা করবে।


পাকিস্তানের নাম না করে খাতিবজাদে বলেন, “আফগানিস্তানের মাটিতে সবরকম বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে ইরান।” তিনি পরে বলেন, “যাঁরা অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে আফগানিস্তানে ঢুকেছেন, তাঁদের উদ্দেশে আমরা বলতে চাই, ওই দেশের মাটি বিদেশি হানাদারদের সহ্য করে না।”

ইরানের সঙ্গে আফগানিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে যখন তালিবান ক্ষমতায় এসেছিল, ইরান তাদের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তালিবানের ভয়ে ইতিমধ্যে ৩৫ লক্ষ আফগান পালিয়ে গিয়েছেন ইরানে। তেহরানের আশঙ্কা, আগামী দিনে তাদের দেশে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

ইতিমধ্যে তালিবানের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল বিরোধ শুরু হয়েছে বলে জানা যায়। তাদের একটি গোষ্ঠীর নাম দোহা, অপরটির নাম হাক্কানি। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য কাবুল দখলের পরে প্রায় ২০ দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও সরকার গড়তে পারেনি তালিবান। এর আগে স্থির হয়েছিল, তালিবানের শীর্ষ নেতা হবেন হাইবাতুল্লা আখুন্দজাদা। কিন্তু হাক্কানি গোষ্ঠী তাঁকে নেতা বলে মানতে রাজি নয়।

অতীতে আফগানিস্তানে যে সরকার ছিল, তার দুই কর্তাব্যক্তিকে নতুন সরকারে নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়েও দুই গোষ্ঠীর মতভেদ রয়েছে। হাক্কানি গোষ্ঠী মনে করে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও দু’বারের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আবদুল্লা আবদুল্লাকে সরকারে নেওয়া ঠিক হবে না। অন্যদিকে দোহা গোষ্ঠী তাঁদের সরকারে নেওয়ার পক্ষে।

তালিবানের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এখন সংঘর্ষ চলছে বলে জানা যায়। এমনই এক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন তালিবানের শীর্ষ নেতা মোল্লা বরাদর। আখুন্দজাদা স্থির করেছিলেন, নতুন সরকারে মোল্লা বরাদর হবেন প্রেসিডেন্ট। তালিবানের মধ্যে গোলমাল দেখে রবিবার আফগানিস্তানে উড়ে গিয়েছেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআইয়ের প্রধান ফৈয়াজ হামিদ। তিনি তালিবানের দুই গোষ্ঠীকে বুঝিয়ে একটা সমঝোতায় নিয়ে আসতে চান । খবর দ্য ওয়ালের/২০২১ / এনবিএস/একে 

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *