ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
গত সোমবার এক কোটির বেশি কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ভারতে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

গত সোমবার এক কোটির বেশি কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ভারতে

 চলতি বছরের মধ্যে ভারতের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককে কোভিড ভ্যাকসিন (Vaccine) দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে মোদী সরকার। মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য টুইট করে জানান, গত জানুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ৭০ কোটি মানুষকে। দ্রুতগতিতে টিকাকরণ চালানোর জন্য মন্ত্রী স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিনন্দন জানান। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে টিকাকরণ চলছে দ্রুতগতিতে। এখনও পর্যন্ত ৭০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সেজন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিনন্দন জানাই।”


এরপরে মন্ত্রী জানান, সোমবার দেশে মোট ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৫৭১ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে গত ১১ দিনে তিনবার দৈনিক ১ কোটির বেশি টিকা দেওয়া সম্ভব হল। কীভাবে দেশে টিকাকরণের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, টিকাকরণ শুরু হওয়ার পরে প্রথম ৮৫ দিনে ১০ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। তার পরের ৪৫ দিনে টিকা নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ২০ কোটি। তার পরের ১০ কোটি টিকা দেওয়া হয় ২৯ দিনের মধ্যে। তার পরের ২৪ দিনে ভ্যাকসিন নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৩০ কোটি থেকে বেড়ে হয় ৪০ কোটি। তার পরের ২০ দিনে আরও ১০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে কোভিড বাদে অন্যান্য ভ্যাকসিন দেওয়া নিয়ে সমীক্ষা করেছিল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক সমীক্ষক দল। তারা জানায়, বিসিজি, পোলিও, হাম এবং ডিপিটি-র টিকা ভারতে যথেষ্ট সংখ্যক শিশু পায়নি। বহু শিশু ভ্যাকসিনের একটি ডোজ নিয়েছে। কিন্তু পরের ডোজগুলি নেয়নি। সমীক্ষকদের ধারণা, প্রথম ডোজের পরে শিশুদের বাবা-মায়েরা বাকি ডোজগুলি দেওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। সম্ভবত তাঁরা বাচ্চাকে টিকা দেওয়াতে নিয়ে গিয়ে কোনও সমস্যার মুখে পড়েছিলেন।


কম খরচে কোনও রোগ প্রতিরোধ করতে হলে টিকা নিতে হয়। টিকা নিলে যে রোগগুলির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এমন রোগে এখনও প্রতি বছর বিশ্বে মারা যায় ২০ লক্ষের বেশি শিশু। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশে ৬২ শতাংশ শিশু সব টিকা নিয়েছিল।

এর আগে অপর একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছিল, নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে, বার বার মনে করিয়ে দিয়ে এবং এলাকায় ‘ভ্যাকসিন অ্যাম্বাসাডর’ নিয়োগ করে টিকাকরণের হার বাড়ানো যায়। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এস্থার ডাফলোর সমীক্ষকদল হরিয়ানার সাতটি জেলায় সমীক্ষা করে দেখেছে, ওই পদ্ধতিতে সত্যিই টিকাকরণ বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা।

সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, হরিয়ানা সরকার টিকাকরণে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে বটে, কিন্তু তা সত্ত্বেও কয়েকটি জেলায় বহু শিশু প্রতিষেধক নেয়নি। সেখানে ১২ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের ৮৬ শতাংশ তিনটি টিকা নিয়েছে। শিশুদের মাত্র ৩৯ শতাংশ সবক’টি টিকা নিয়েছে। ১৫ মাস বয়স হওয়ার আগে হামের টিকা নিয়েছে ২০ শতাংশেরও কম শিশু।খবর দ্য ওয়ালের  /২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *