ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
পাকিস্তানের জন্যই তালিবান মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন দুই হাক্কানি নেতা, উদ্বেগ ভারতে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

পাকিস্তানের জন্যই তালিবান মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন দুই হাক্কানি নেতা, উদ্বেগ ভারতে

 তালিবানের অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভায় কুখ্যাত হাক্কানি নেটওয়ার্কের (Haqqani Network) একাধিক নেতা স্থান পাওয়ায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে বিশ্ব জুড়ে। দিল্লির ধারণা, পাকিস্তানের অনুরোধেই তালিবান সিরাজুদ্দিন হাক্কানিকে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী নিয়োগ করেছে। আফগানিস্তানে যে পাকিস্তানের প্রভাব বাড়ছে তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।


হাক্কানি নেটওয়ার্ক নামে জঙ্গি সংগঠনটি তৈরি করেছিলেন জালালুদ্দিন হাক্কানি। তিনি সিরাজুদ্দিন হাক্কানির পিতা। হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। সিরাজুদ্দিন বাদে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন খলিল হাক্কানি। তিনি জালালুদ্দিনের ভাই। খলিলকে শরণার্থী বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, তাঁর পরামর্শেই কট্টরপন্থী তালিবান নেতা মোল্লা হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে। একসময় শোনা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী হবেন মোল্লা আবদুল গনি বরাদর। তিনি তালিবানের দোহা গোষ্ঠীর সদস্য। ওই গোষ্ঠীর নেতারা বাস্তববাদী বলে জানা যায়। সম্ভবত পাকিস্তানের বাধায় মোল্লা বরাদর প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি।


পর্যবেক্ষকদের ধারণা, পাকিস্তানের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন দোহা গোষ্ঠীর নেতারা। ওই গোষ্ঠীর নেতা শের আব্বাস স্তানেকজাই কাতারে ভারতের দূতের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি হয়েছেন উপ বিদেশমন্ত্রী।

সিরাজুদ্দিন ও খলিল হাক্কানির নাম এখনও রয়েছে আমেরিকার সন্ত্রাসবাদী তালিকায়। ২০১৬ সালে সিরাজুদ্দিনের মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ কোটি ডলার। অর্থাৎ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

হাক্কানিরা প্রবল ভারত বিরোধী বলে পরিচিত। ২০০৮ সালে কাবুল ভারতীয় দূতাবাসের সামনে তাঁরা বিস্ফোরণ ঘটায়। ৫৮ জন নিহত হন। শোনা যায়, ওই আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ছক কষেছিল আইএসআই। যদিও পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে।

রাষ্ট্রপুঞ্জে আফগানিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি গুলাম ইসাকজাই টুইট করে বলেন, “তালিবান মন্ত্রিসভার ৩৩ জন সদস্যের মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। তাঁদের মধ্যে আছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী, দুই উপপ্রধানমন্ত্রী, অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী।”

তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ মঙ্গলবার বলেন, “আমরা কোনও বিশেষ উপজাতির সংগঠন নই। আমেরিকার সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল বটে কিন্তু আমরা তাদেরও বন্ধু হতে চাই। আশা করি সব দেশই আমাদের ইসলামি সরকারকে স্বীকৃতি দেবে।”

তালিবান মন্ত্রিসভা ঘোষিত হওয়ার পরে মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র বলেন, কয়েকজন মন্ত্রীর অতীতের কার্যকলাপ মোটেই ভাল নয়। আমরা লক্ষ করেছি, কোনও মহিলাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়নি। আফগানিস্তানের দিকে এখন নজর রাখছে সারা বিশ্ব।খবর দ্য ওয়ালের  /২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *