ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, উদ্বেগজনক, রাষ্ট্রপুঞ্জে জানালেন ভারতের প্রতিনিধি
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, উদ্বেগজনক, রাষ্ট্রপুঞ্জে জানালেন ভারতের প্রতিনিধি

 আন্তর্জাতিক মহলকে (International Community) দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুক তালিবান। আফগানিস্তান যেন আগামী দিনে লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের অবাধ বিচরণভূমি না হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার এভাবেই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে তালিবান নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রকাশ করলেন ভারতের প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এখন খুবই অস্থিতিশীল।”


নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “আফগানিস্তানের মাটি থেকে কেউ যেন অন্য দেশকে হুমকি না দেয়। কাউকে আক্রমণ না করে। সেখানে যেন জঙ্গিদের আশ্রয় না দেওয়া হয়। কোনও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ না দেওয়া হয়।” রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি তিরুমূর্তি বলেন, “গত মাসে কাবুল বিমান বন্দরে যে হামলা হয়েছে, তা খুবই নিন্দনীয়। আফগানিস্তানে এখনও সন্ত্রাসবাদের বিপদ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তালিবান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা তাদের রক্ষা করা উচিত।”

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ব্রিকসের মঞ্চ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “আফগানদের নানা পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসা হোক। ওই দেশে ফিরে আসুক স্থিতিশীলতা, শান্তি ও আইনের শাসন।”


একইসঙ্গে ব্রিকসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া উচিত। বিশেষত নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন।”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্রিকস গোষ্ঠী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাসবাদীরা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে না যেতে পারে, তারা যাতে কোথাও নিরাপদ আশ্রয় না পায়, কোনও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক যাতে তাদের অর্থ না জোগাতে পারে, সেজন্যও চেষ্টা করা হবে।”

ব্রিকস গোষ্ঠীতে আছে পাঁচটি দেশ। সেগুলি হল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিন ব্রিকসের ভারচুয়াল সম্মেলনে মোদী বলেন, “আফগানিস্তান যেন প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে বিপজ্জনক না হয়ে ওঠে। সেখানে যেন জঙ্গিরা ঘাঁটি না বানাতে পারে। সেখান থেকে যেন অন্যান্য দেশে মাদক পাচার না হয়।” পরে তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের মানুষ কয়েক দশক ধরে লড়াই করছেন। নিজেদের মতো করে দেশকে গড়ে তোলার অধিকার তাঁদের আছে।”

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা চলে আসায় নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান কীভাবে আন্তর্জাতিক মহলকে বা প্রতিবেশী দেশগুলিকে প্রভাবিত করবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।” পরে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। খবর দ্য ওয়ালের /২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *