ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী পেলেন ‘ব্রেকথ্রু’, জিনের জটিল রহস্য লহমায় ভেদ করবে তাঁর গবেষণা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী পেলেন ‘ব্রেকথ্রু’, জিনের জটিল রহস্য লহমায় ভেদ করবে তাঁর গবেষণা

 জিনের গঠন বিন্যাস বের করার পদ্ধতি তথা ডিএনএ সিকুয়েন্সিংয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কার করে তথ্যপ্রযুক্তির ‘নোবেল’ সম্মান মিলেনিয়াম টেকনোলজি পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রসায়নবিদ শঙ্কর বালাসুব্রহ্মণ্যম (Shankar Balasubramanian)। তাঁর গবেষণা নাড়িয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে। এই গবেষণাতেই এবার বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা সম্মান ‘ব্রেকথ্রু পুরস্কার’ জিতে নিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় বংশোদ্ভূত অধ্যাপক।


ইউরি মিলনার ও জুলিয়া মিলনারের উদ্যোগে প্রতি বছরই জীববিজ্ঞান, গণিত ও ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্সে সেরা গবেষক ও আবিষ্কর্তাদের ব্রেকথ্রু পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা এই পুরস্কার নোবেলের থেকে কোনও অংশে কম নয়। এ বছর জীববিজ্ঞানে জিনবিদ্যায় যুগান্তকারী গবেষণার জন্য এই সম্মান জিতেছেন শঙ্কর বালাসুব্ররহ্মণম ও ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যর ডেভিড ক্লেনারম্যান ।


১৯৬৬ সালে চেন্নাইয়ে জন্ম গবেষক শঙ্করের। ১৯৬৭ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে ব্রিটেনে পাড়ি দেন। সেখানেই পড়াশোনা। চেশায়ারের প্রত্যন্ত এলাকা রানকমে বেড়ে উঠেছেন তিনি। ব্রিগেডিয়ার হাইস্কুল থেকে পাশ করে কেমব্রিজের ফিট্‌জউইলিয়াম কলেজে ন্যাচারাল সায়েন্স ট্রাইপস নিয়ে পড়াশোনা করেন। রিঅ্যাকশন মেকানিজম নিয়ে গবেষক ক্রিস অ্যাবেলের অধীনে গবেষণা করেছেন শঙ্কর। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির মেডিনিশাল কেমিস্ট্রি বিভাগের তিনি অধ্যাপক।  পাশাপাশি ব্রিটেনের ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গ্রুপ লিডার। নিউক্লিক অ্যাসিড নিয়ে তাঁর গবেষণা বিজ্ঞানীমহলে বেশ প্রসিদ্ধ।


ডিএনএ সিকুয়েন্সিং বা জিনের বিন্যাস বের করার অনেক রকম পদ্ধতিই আছে। কিন্তু এত দ্রুত ও সঠিক বিশ্লেষণের পদ্ধতি খুবই জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। সেই অসম্ভব কাজকেই সহজ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রসায়নবিদ। তাঁদের আবিষ্কৃত পদ্ধতির নাম নেক্সট জেনারেশন ডিএনএ সিকুয়েন্সিং (NGS) বা দ্বিতীয় প্রজন্মের ডিএনএ সিকুয়েন্সিং। সোলেক্সা টেকনোলজিতে জিনের বিন্যাস বের করার নতুন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন শঙ্কর বালাসুব্রহ্মণ্যম।লহমায় ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে ফেলা যাবে আস্ত জিনের বিন্যাসকে। প্রতিটি খণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে গোপন রহস্যের হদিশ পাবেন বিজ্ঞানীরা। এই গবেষণা দুরারোগ্য রোগব্যাধির চিকিৎসায় ও মহামারী রুখতে বিশ্বকে পথ দেখাবে।


যে কোনও প্রাণীর চরিত্র বুঝতে হলে তার জিন বা ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)– গঠন বিন্যাস জানতে হয়। মানুষের দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা করতে হলেও জিনের বিন্যাস সাজিয়ে দেখে নিতে হয় গণ্ডগোলটা কোথায় হয়েছে, বা রোগের ধরন কী, কোথা থেকে এই রোগ এল ইত্যাদি। ঠিক তেমনই কোনও মহামারী ঠেকাতে হলেও জানতে হয় কোন ভাইরাস বা পরজীবী থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তাকে রোখার উপায় বের করতে হলেও সেই জিনের বিন্যাস বের করারই প্রয়োজন হয়। ভারতীয় বংশোদ্ভত গবেষক এই কাজটাকেই খুব সহজ করে দিয়েছেন।

কীভাবে?  দুই বিজ্ঞানী নেক্সট জেনারেশন সিকুয়েন্সিং (এনজিএস) বা সেকেন্ড জেনারেশন সিকুয়েন্সিং পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে নতুন পথের হদিশ দিয়েছেন। এই পদ্ধতিতে জিনের বিন্যাস বের করা যায় খুব দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ম্যাসিভ প্যারালাল সিকুয়েন্সিং’। ১৯৯৪-১৯৯৮ সালের মধ্যে এই পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল। বর্তমান সময়ে সেই গবেষণাকেই আরও উচ্চমানে নিয়ে গিয়েছেন শঙ্কর। খবর দ্য ওয়ালের / ২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *