ঢাকা, শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন
হিন্দু মেয়েদের ‘ফাঁদে ফেলার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

হিন্দু মেয়েদের ‘ফাঁদে ফেলার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর

 “যারা হিন্দু মেয়েদের ফাঁদে ফেলে (Trapping Hindu Girls) এবং গোপনে বিয়ে করে, তাদের ছাড়বে না আমাদের সরকার।” শুক্রবার এভাবেই হুমকি দিলেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজইয় রূপানি। আমেদাবাদের বৈষ্ণোদেবী সার্কেলে এদিন তিনি মালদহরি সম্প্রদায়ের জমায়েতে ভাষণ দেন। ওই সম্প্রদায়ের মানুষ প্রধানত গরু পালন করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা গোহত্যায় যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে বিজেপি সরকার।


মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমার সরকার কয়েকটি কঠোর আইন তৈরি করেছে। গোরক্ষা, জমি দখল এবং ছিনতাই, সব অপরাধেই কড়া শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।” এরপরে তিনি বলেন, “আমরা লাভ জিহাদ বন্ধের জন্য আইন এনেছি। যারা হিন্দু মেয়েদের ফাঁদে ফেলে, গোপনে তাদের বিয়ে করে, সেই দুষ্কৃতীদের আমরা ছাড়ব না।”

কয়েকমাস আগে গুজরাতের ‘লাভ জেহাদ’ বিরোধী আইনের ছ’টি ধারা এখনই প্রয়োগ করতে নিষেধ করেছে হাইকোর্ট। তার মধ্যে একটি ধারায় অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হয়, সে নিরপরাধ। হাইকোর্ট এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে বলে, ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিবাহে যদি বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার প্রমাণ না থাকে, তাহলে লাভ জেহাদ আইন প্রয়োগ করা যাবে না। বিচারপতিরা স্পষ্ট বলেছেন, “ভিন্ন ধর্মের নারীপুরুষ যদি পরস্পরের সম্মতিতে বিবাহ করে, কাউকে লোভ দেখানো বা প্রতারণা না করা হয়, তাহলে বলা যাবে না যে, ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে ওই বিবাহ হয়েছিল।”


২০২১ সালে গুজরাতের লাভ জেহাদ আইনে কিছু সংশোধন করা হয়। তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে এক ব্যক্তি বলেছিলেন, ওই সংশোধনীতে ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। বিচারপতিরা বলেন, “লাভ জেহাদ আইনের ছ’টি ধারা নিয়ে আগামী দিনে শুনানি হবে। এক ধর্মের ব্যক্তি যদি অপর ধর্মের কাউকে প্রতারণা না করে বিবাহ করেন, তাকে বেআইনি ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিবাহ বলা যায় না।”

লাভ জেহাদ বিরোধী আইনের ৬ এ ধারায় আছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হবে সে নির্দোষ। হাইকোর্টের মতে এই ধারা ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্টের বিরোধী। গুজরাত সরকারের পক্ষে এদিন সওয়াল করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কমল ত্রিবেদি। তিনি বলেন, লাভ জেহাদ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। যারা ভয় দেখিয়ে বা ভুল বুঝিয়ে ভিন্ন ধর্মে বিবাহ করে, তাঁদের বিরুদ্ধেই ওই ধারাগুলি প্রযোজ্য হয়।

কয়েক মাস আগে মধ্যপ্রদেশ সরকার তথাকথিত লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আইনের খসড়া তৈরি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মান্তরের লক্ষ্যে বিবাহ করে, তার ১০ বছর পর্যন্ত জেল হবে। রাজ্যের মন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র বলেন, যে ধর্মগুরু এই ধরনের বিবাহ দেবেন, তাঁরও পাঁচ বছর জেল হবে ​। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/এক

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *