ঢাকা, শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
১৫ তারিখ অভিষেকের মিছিল ত্রিপুরায়, বিজেপিতে বড় ভাঙনের জল্পনা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

১৫ তারিখ অভিষেকের মিছিল ত্রিপুরায়, বিজেপিতে বড় ভাঙনের জল্পনা

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরায় যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ওইদিন আগরতলা শহরে তাঁর একটি পদযাত্রার কথা রয়েছে। শুধু কি তাই, তৃণমূলের অনেক নেতা দাবি করছেন ওই দিন বেশ কয়েক জন বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলের ঝান্ডা হাতে তুলে নিতে পারেন। তাঁরা কারা তা নিয়ে অবশ্য খোলসা করে কিছু বলছেন না কেউ-ই। শুধু বলছেন, দেখতে থাকুন।


ত্রিপুরায় তৃণমূলের দৌত্য শুরুর গোড়ার দিকে আশিসলাল সিংহকেই সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু একদা কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনিই কার্যত ত্রিপুরার তৃণমূল সভাপতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এদিন সুবলবাবুকে ফোন করে বিজেপি বিধায়কদের তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “অনেক সম্ভাবনাই রয়েছে। যে ভাবে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তৃণমূলে সামিল হচ্ছেন তাতে বিজেপি বুঝতে পারছে তাদের পায়ের তলার মাটি আলগা হচ্ছে।”

সপ্তাহ আড়াই আগেই জানা গিয়েছিল, বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত সুদীপ রায়বর্মন-সহ বেশ কিছু বিধায়ক কলকাতায় এসে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন। যদিও এ ব্যাপারে কেউই সংবাদমাধ্যমে কিছু স্বীকার করেননি। এখন জল্পনা তৈরি হয়েছে তাহলে কি অভিষেকের হাত ধরে সুদীপ অনুগামী এই বিধায়করাই তৃণমূলে যোগ দেবেন?


সেই তালিকায় সুদীপ ছাড়াও নাম রয়েছে সুরমার বিধায়ক আশিস দাস, বরদোয়ালির বিধায়ক আশিস সাহা, ওম্পির বিধায়ক বুর্বুমোহন ত্রিপুরা ও ঊনোকোটি জেলার বিধায়ক দিবাচন্দ্র রাঙ্খেলের। যদিও ত্রিপুরা বিজেপির এক নেতা বলেন, এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। তৃণমূল হাওয়া গরম করার জন্য এসব কথা বলছে। তবে ব্যক্তিগত পরিসরে, ঘরোয়া আলোচনায় বিপ্লবপন্থী ত্রিপুরা বিজেপির একাধিক নেতা স্বীকার করে নিচ্ছেন, সংস্কারপন্থীদের এখন লক্ষ্য একটাই, সংগঠনে জায়গা পাওয়া। ত্রিপুরা বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, সুদীপ বাহিনী এখন পাপিয়া দত্ত, টিঙ্কু রায়ের মতো নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে কুৎসায় নেমেছে। এ ভাবে যে বিজেপিতে জায়গা পাওয়া যায় না তাও বুঝতে পারছে না।

ত্রিপুরার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সুদীপরা আসলে জল মাপছেন। তাঁদের বক্তব্য ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় চার-পাঁচটা আসনও বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে ‘বার্গেনিং পলিটিক্স’-এর জন্য রাস্তা খোলা রাখতে পারেন সুদীপরা।

আবার এও ঠিক, সুদীপ শিবিরে বড় ধাক্কা দিয়েছেন বিপ্লব দেব। তা হল, তাঁর দিক থেকে নিজের দিকে এনে সুদীপপন্থী হিসেবে পরিচত দুই বিধায়ক সুধান্ত চৌধুরী ও রামপ্রসাদ পালকে মন্ত্রী করেছেন।

সব মিলিয়ে জাতি, জনজাতি, বাঙালি, মুসলমান—ইত্যাদি সমীকরণ ও বিজেপি, সিপিএম, তৃণমূল ও প্রদ্যোত কিশোরের তিপ্রামথার সক্রিয়তায় ত্রিপুরার রাজনীতি কার্যত ঘেঁটে রয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের অনেকের। শেষপর্যন্ত কী হবে, আদৌ কোনও বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেবেন কি না, দিলেও কারা দেবেন—তা নিয়ে কৌতূহল থাকছেই। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *