ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
কালীগঞ্জে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়ীতে যুবতীর অনশন
মোঃ আশরাফুল হক
অনশনরত যুবতী সালমা

কালীগঞ্জে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়ীতে যুবতীর অনশন

গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনরত যুবতীকে স্বামী, শ্বাশুড়ি ও ননদ পিটিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকেলে কালীগঞ্জ পৌরসভার ভাদার্ত্তী গ্রামের আব্দুস সালামের যুবতী কন্যা সালমা উত্তরগাঁও গ্রামের নাদিম আল মুরাদের বাড়ীতে অনশনরত অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে। মুরাদ পৌরসভার মুনশুরপুর গ্রামের আল আমিনের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে মুরাদের মা তাদের দুই ভাই বোনকে নিয়ে উত্তরগাঁও গ্রামে পিতার বাড়িতে বসবাস করছে। 

ভুক্তভোগী যুবতী সালমা জানান, গত ২৬ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে ভালবেসে ৩ লাখ টাকার রেজিষ্ট্রি কাবিনমুলে আমি আর মুরাদ বিয়ে করি। বিয়ের পর মুরাদ আমাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করে। আমি চাকুরীর টাকায় বিভিন্ন আসবাবপত্র কিনে সংসার গোছাতে থাকি। বিয়ের প্রায় ২ বছর পর মুরাদ তার মায়ের বাড়ীতে উঠিয়ে নেয়ার শর্তে বাড়ী নির্মাণ এবং মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু বাড়ী নির্মাণ শেষে ও মোটরসাইকেল কিনে মুরাদ আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে আমি তার মায়ের বাড়ীতে যাই। তার মা আমাকে নিয়ে মুনশুরপুর গ্রামে মুরাদের পিতার বাড়ীতে আসে। সেখানে মুরাদের পিতা আল আমিন, মা নুরুন্নাহার ও সৎ মা মাছুমা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা সবাই মিলে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার হুমকি দিয়ে বাড়ী হতে বের করে দেয়।

কিছুদিন পরে মুরাদ আমাকে জানায়, সে তার বাবা মাকে রাজি করিয়েছে। আমাকে কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন বাড়ীতে নিয়ে যাবে। এজন্য বাসার আসবাবপত্র, ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এরপর থেকে যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়। পরে আমি মুরাদ, তার পিতা ও মাকে বিবাদী করে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। আমাকে বাড়ীতে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুরাদের পরিবার থানা থেকে অভিযোগটি প্রত্যাহার করিয়ে নেয়। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ মেহের আফরোজ চুমকি, পৌর মেয়র এসএম রবিন হোসেন ও ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাদল হোসেনকে অবহিত করে পুনরায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ২৫ আগষ্ট রাতে মুরাদ থানায় এসে ওসি মো. আনিসুর রহমান, তার পিতা আল আমিন ও কাউন্সিলর বাদলের উপস্থিতিতে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমাকে নিয়ে সংসার করার শর্তে একটি অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর করে। আমি ৫ তারিখ মুরাদ ও তার পিতার সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে পুনরায় থানায় আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত অদৃশ্য কারণে থানা পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মুরাদ ও তার পিতা ইতিপূর্বে আমাকে এই বলে হুমকি দিয়েছিল যে, “স্থানীয় সাংসদ, পৌর মেয়র, আর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমাদের আত্মীয় হয়। তুই কোথাও গিয়ে ন্যায় বিচার পাইবি না। তুই যা করার কর।” 

ভুক্তভোগী যুবতী আরো জানায়, শুক্রবার বিকেলে আমি স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনের জন্য মুরাদের বাড়ীতে গেলে মুরাদ, তার মা, খালা ও বোন আমাকে মারধর করলে আমি ৯৯৯ এ কল দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। পুলিশ আমার সাথে কথা না বলে মুরাদের মায়ের সাথে একান্তে কথা বলে এবং মুরাদকে মোটরসাইকেলসহ পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। পরে মুরাদের খালু মিনহাজ ও ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর আলম আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিষয়টির সুষ্ঠ সমাধানের আশ্বাস দিলে আমি বাড়ী চলে আসি।   

স্থানীয়রা জানায়, মুরাদের পিতা আল আমিন একজন খারাপ লোক। সে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে। স্থানীয় এমপি, মেয়র ও কাউন্সিলরকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সে ভূমিদস্যুতা, জালিয়াতী, নির্দোষ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুরাদের সাথে মোবাইল ফোনে বার বার কল দিয়েও ফোনটি বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনিসুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তদের ডেকে আনলে তারা জানায়, বাদীকে তালাক প্রদান করেছে। পরে বাদীকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *