ঢাকা, সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৪ অপরাহ্ন
আমি বেঁচে আছি, অডিও টেপ প্রকাশ করে জানালেন আফগান উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বরাদর
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

আমি বেঁচে আছি, অডিও টেপ প্রকাশ করে জানালেন আফগান উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বরাদর

 সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক মেসেজে বলা হয়, তালিবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও আফগানিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বরাদর (Abdul Ghani Baradar) মারা গিয়েছেন। সোমবার এক অডিও বার্তায় বরাদর জানালেন, তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। ভারত সহ নানা দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তালিবানের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গুরুতর আহত হয়েছেন মোল্লা বরাদর। কাবুলে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে তালিবানের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। তখনই বরাদর গুলিবিদ্ধ হন।


অডিও টেপে বরাদর বলেন, গুজব ছড়িয়েছে, আমি নাকি মারা গিয়েছি। আমি প্রত্যেক ভাই ও বন্ধুকে বলতে চাই, আমার শারীরিক অবস্থা ভালই আছে। গত কয়েক দিন আমাকে নানা জায়গায় সফর করতে হয়েছে। বরাদরের কথায়, “সংবাদ মাধ্যম সব সময়েই মিথ্যা কথা প্রচার করে। তাদের গুজবে কান দেবেন না। আমাদের সবকিছুই ঠিকঠাক আছে।” তালিবানের অফিসিয়াল সাইটে বরাদরের মেসেজ পোস্ট করা হয়েছে।

কয়েক বছর আগে তালিবান প্রধান হাইবাতুল্লার আখুন্দজাদার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। কাবুল দখলের পরে তালিবানের মুখপাত্র বলেন, আখুন্দজাদা এখন কান্দাহারে রয়েছেন।


এর মধ্যে পাকিস্তানের দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তালিবান নেতা জাবিউল্লা মুজাহিদ বলেন, মার্কিন-আফগান বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে তিনি দিনের পর দিন আফগানিস্তানেই ঘুরে বেড়িয়েছেন। তালিবান আফগানিস্তান দখলের পর সশরীরে সাংবাদিক বৈঠক করেন জাবিউল্লাহ। উপস্থিত সাংবাদিকরা বিশ্বাসই করতে পারেননি, তিনি জাবিউল্লাহই। তাঁরা ভাবতেন, জাবিউল্লাহ নামে আদতে কেউ নেই, একটি কাল্পনিক চরিত্র। ঘটনাচক্রে এই ধারণার ফায়দা তুলেই মার্কিন, আফগান বাহিনীর চোখের সামনেই কাবুলে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছেন জাবিউল্লাহ।

তিনি বলেছেন, কাবুল সবার নাকের ডগায় দীর্ঘদিন কাটিয়েছি। সীমান্তেও সুযোগ পেয়ে গিয়েছি, যেখানে তালিবান অপারেশন চালাত, একেবারে টাটকা খবরও পেতাম। আমাদের শত্রুদের এটা বিভ্রান্ত করত।
তিনি এতবার মার্কিন, আফগান বাহিনীকে ফাঁকি দিয়েছেন যে, তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে, জাবিউল্লাহ মুজাহিদ একটি ভৌতিক চরিত্র, সত্যিকারের মানুষ নয়, বলেছেন তালিবান মুখপাত্র।

তিনি কখনও আফগানিস্তান ছাড়েননি বলে জানিয়েছেন ৪৩ বছর বয়সি নেতা। বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে যোগ দিতে এত জায়গায়, এমনকী পাকিস্তানে পর্যন্ত গিয়েছেন, কিন্তু মার্কিন-আফগান বাহিনীর লাগাতার তল্লাশি সত্ত্বেও কোনওদিন ভাবেননি, চিরতরে দেশ ছাড়বেন। তাঁর গতিবিধির ব্যাপারে খবর জোগাড় করতে স্থানীয় লোকজনকে অনেক পয়সা দিত মার্কিন বাহিনী, কিন্তু কোনও না কোনওভাবে তাদের রাডার এড়িয়ে যেতেন তিনি, জানিয়েছেন জাবিউল্লাহ।

শৈশবে তিনি সাধারণ স্কুলেই ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে পরে মাদ্রাসায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ধর্মীয় শিক্ষার দিকে চলে যান। খাইবার পাখতুনখোয়ার নাওশেরায় হক্কানিদের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে তিনি ছিলেন। তালিবানে নাম লেখান ১৬ বছর বয়সে, তবে কখনও নাকি তার প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরকে দেখেননি। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *