ঢাকা, সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৭ অপরাহ্ন
স্যার আমার বোনকে বাঁচান…, অফিসারের গাড়ির সামনে বসে পড়লেন ডেঙ্গি আক্রান্তের দিদি
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

স্যার আমার বোনকে বাঁচান…, অফিসারের গাড়ির সামনে বসে পড়লেন ডেঙ্গি আক্রান্তের দিদি
 
সোমবার সন্ধ্যায় ফিরোজাবাদের হাসপাতালে শুয়ে মারণ ডেঙ্গুর (Dengue) সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছিল ১১ বছরের বৈষ্ণবী কুশওয়াহা। সেই সময় হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক অফিসার। বৈষ্ণবীর দিদি নিকিতা কুশওয়াহা আচমকাই অফিসারের গাড়ির সামনে বসে পড়েন। তিনি আর্জি জানান, স্যার আমার বোনকে বাঁচান।


এক ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, আগ্রার ডিভিশনাল কমিশনার অমিত গুপ্তর গাড়ির সামনে বসে পড়েছেন নিকিতা। তিনি বলছেন, “প্লিজ স্যার…, কিছু একটা করুন…, নাহলে আমার বোন মারা যাবে। প্লিজ ওর চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।” নিকিতার অভিযোগ, ফিরোজাবাদের সরকারি হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না।

নিকিতা অফিসারকে বলছিলেন, “আমি আপনাকে যেতে দেব না…।” এমন সময় দুই মহিলা পুলিশ অফিসার তাঁকে জোর করে সরিয়ে আনতে চেষ্টা করেন। একজন পুরুষ পুলিশ অফিসার ও কমিশনার নিকিতাকে শান্ত করতে চেষ্টা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে মারা যায় বৈষ্ণবী।


হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অফিসার বলেন, বৈষ্ণবীর চিকিৎসার কোনও ত্রুটি হয়নি। তাঁর কথায়, “মেয়েটির রোগ ছিল জটিল। তার লিভার বেড়ে গিয়েছিল। পেটে তরল জমেছিল। পরিস্থিতির অবনতি হলে আমরা তাকে ভেন্টিলেটরের সাপোর্ট দিয়েছিলাম। আমাদের সাধ্যমতো সবকিছুই করেছি। কিন্তু তাকে বাঁচাতে পারিনি।”

করোনা সংকটের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। ওই রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে ফিরোজাবাদ জেলায়। গত ১০ দিনে সেখানে ৪০ টি শিশু সহ ৫০ জন ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছে ‘ডেঙ্গু হ্যামারেজিক ফিভার’-এ ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু রোগ গুরুতর রূপ ধারণ করলে তাকে ডেঙ্গু হ্যামারেজিক ফিভার বলা হয়।

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের অপর যে জেলাগুলিতে ডেঙ্গু বেশি ছড়িয়েছে, তার মধ্যে আছে মথুরা ও আগ্রা। সেখানে হাসপাতালগুলিতে জ্বর ও ডিহাইড্রেশন নিয়ে ভর্তি হয়েছে বহু শিশু।

বৃহস্পতিবার ফিরোজাবাদের জেলাশাসক চন্দ্রবিজয় সিং বলেন, হু-এর একটি টিম তাঁকে বলেছে, হ্যামারেজিক ডেঙ্গু হল ডেঙ্গু রোগের একটি মারাত্মক রূপ। এক্ষেত্রে শিশুদের রক্তের প্লেটলেট কাউন্ট আচমকা কমে যায়। ব্যাপক রক্তপাত ঘটে। ফিরোজাবাদের মেডিক্যাল অফিসারদের সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং ন্যাশনাল ভেক্টর বর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ফিরোজাবাদে যে পাঁচজন ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছে তাদের মধ্যে আছে ছ’বছর বয়সী পল্লবী। তাকে জেলা হাসপালালে ভর্তি করা হয়েছিল। ১০০ বেডের ওই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা চলছে। মঙ্গলবার পল্লবীকে সেখানে ভর্তি করা হয়। একটি ভিসুয়ালে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে তার মা কাঁদছেন। তাঁর অভিযোগ, ডাক্তারদের গাফিলতিতেই পল্লবী মারা গিয়েছে। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *