ঢাকা, সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
আফগানিস্তানের ঘটনাবলীতে ইউরোপের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে: জোসেফ বোরেল
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

আফগানিস্তানের ঘটনাবলীতে ইউরোপের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে: জোসেফ বোরেল

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল ফরাসি দৈনিক লা মন্ডকে দেয়া সাক্ষাতকারে স্বীকার করেছেন, আফগানিস্তানের ঘটনাবলীতে ইউরোপের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয়রা যেখানেই থাকুক না কেন বিশেষ করে আফগানিস্তানের ব্যাপারে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ইউরোপকে নতুন করে ভাবতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার মতভেদ নিরসন ও যৌথ নীতি নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জোসেফ বোরেলের এ স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায়, এমনকি  ইউরোপ ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব সৃষ্টি হলেও ওয়াশিংটনের ওপর থেকে তারা নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আফগানিস্তানের ব্যাপারে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সেনা সরিয়ে আনার ব্যাপারে তিনি ইউরোপের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করেননি। বলা যায় সমন্বয়হীনতার কারণেই আফগানিস্তানে বড় সংকট তৈরি হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ন্যাটো ও মার্কিন সেনাদের সরিয়ে আনতে হয়েছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা চান আফগানিস্তানে পাশ্চাত্যের সেনারা আরো কিছুকাল থাকুক যাতে সেখানে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

আফগানিস্তানের ঘটনাবলীতে পরাজিত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ব্যাপারে রুশ রাজনীতিবিদ অ্যালেক্সি পুশকভ বলেছেন, আফগানিস্তানে মার্কিন পরাজয় ও ব্যর্থতার মূল্য ইউরোপকে দিতে হবে। যে বিপুল সংখ্যক আফগান নাগরিক দেশ ছাড়তে চায় তাদের একটা বড় অংশ ইউরোপীয় দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র একেক সময় দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে আর শরণার্থীর ঢল মোকাবেলা করতে হচ্ছে ইউরোপকে।'

আফগানিস্তানের ব্যাপারে ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোঝা যায়, আফগানিস্তানের মতো বিভিন্ন সংকটে দ্রুত হস্তক্ষেপ করাকে তারা যে শুধু জরুরি মনে করে তাই নয় একইসঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতার ব্যাপারেও তারা অধিক সতর্ক থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল এ ব্যাপারে বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে তড়িঘড়ি করে মার্কিনীরা চলে যাওয়ার পর ইউরোপের যৌথ প্রতিরক্ষা নীতি বা কৌশল আরো জোরদার হবে এবং ইউরোপ শক্তিশালী হলে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রেরই লাভ।

এ কারণে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করে আফগানিস্তান থেকে পাশ্চাত্যের সেনারা পিছু হটার  পর মার্কিন সেনাদের ওপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সংকট মোকাবেলায় এখন ইউরোপকেই ২০ হাজার সেনা সদস্যের দ্রুতগামী বাহিনী গঠন করতে হবে। আগামী নভেম্বরে এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছেন ন্যাটো মহাসচিব স্টোলেনবার্গ। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয় বিশেষ বাহিনী গঠনের প্রস্তাব ওই দেশগুলোকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তীব্রতর করবে।

তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপ যতই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনার কথা বলুক না কেন প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো তারা ওয়াশিংটনের নীতিই  অনুসরণ করে যাচ্ছে। এ কারণে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়েও তারা কিছুই করতে পারেনি।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *