ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ফায়ারওয়াল না থাকলে আমাদের ডিভাইসের যা ক্ষতি হতো, তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না | Techtunes
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছেন। বরাবরের মতো আজও নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য নতুন একটি টিউন।

আপনি হয়তোবা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট এর দুনিয়ায় ফায়ারওয়াল সম্পর্কে শুনেছেন। কিন্তু আপনার হয়তোবা এখনো জানা হয়ে ওঠেনি যে কি এই ফায়ারওয়াল, এটি কিভাবে কাজ করে এবং কেনই বা এটি আপনার ডিভাইসের জন্য দরকার। যেখানে এটি আপনার নেটওয়ার্ক এবং কম্পিউটারের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ সেটি হয়তোবা আপনি এখনো জানেন না। বন্ধুরা, এইসব বিষয়গুলো নিয়েই আজকের এই টিউনে আমি আপনাদের সহজ ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করব। এজন্য টিউনটি অবশ্যই মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত দেখুন।

এই টিউনে আমি ফায়ারওয়াল এর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। তবে আপনি যদি এখনো না জেনে থাকেন যে ফায়ারওয়াল আসলে কি তবে আপনার জন্য আজকের এই সম্পূর্ণ টিউনটি। এজন্য আমি প্রথমে আলোচনা করব ফায়ারওয়াল কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে। যেখানে আপনি এসব জানার মাধ্যমে জানতে পারবেন ফায়ারওয়াল না থাকলে আপনার ডিভাইসের কতটা ক্ষতি হতো ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময়। চলুন তবে এবার শুরু করি।

ফায়ারওয়াল কি?

ফায়ারওয়াল সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত বুঝানোর জন্য প্রথমেই একটি আপনাকে উদাহরণ দেওয়া দরকার। ‌ আপনি যদি কোনো বড় শপিং মল কিংবা এয়ারপোর্টে গিয়ে থাকেন তবে সেখানে দেখবেন যে আপনাকে একটি সিকিউরিটি গেট এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আপনি যদি কখনো কোনো বড় শপিং মল কিংবা এয়ারপোর্টে না গিয়েও থাকেন তবুও এক্ষেত্রে আপনি অনেক সিনেমা কিংবা টেলিভিশনের অন্য কোন পর্দায় এটি দেখে থাকবেন। যেখানে আপনাকে একটি মেটাল ডিটেক্টর এর ভেতর দিয়ে যেতে হয় এবং পরবর্তীতে আপনাকে একজন ব্যক্তি আবার পুনরায় চেক করে। এবার তারপরেই আপনাকে সেই শপিং মল কিংবা এয়ারপোর্টে প্রবেশ করানো হয়।

এখানে আপনাকে যে সিকিউরিটির মধ্য দিয়ে যেতে হলো, এটি কি কারনে?

এখানে এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে, আপনি আপনার সঙ্গে এমন কোন জিনিস নিয়ে যাচ্ছেন না যেটি ভেতরে নিয়ে যাওয়া নিষেধ রয়েছে বা মানা রয়েছে। যেমনঃ আপনি যদি কোনো চাকু বা পিস্তল নিয়ে যান, তবে এক্ষেত্রে আপনাকে সেটি নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে এটি হতে পারে, যদি আপনার কাছে এমন কোন জিনিস থাকে যা ভেতরে নিয়ে যাওয়া নিষেধ রয়েছে; তবে এক্ষেত্রে আপনাকে সেখান থেকে বাহির করেও দিতে পারে। আর ঠিক একই কাজটি করে ফায়ারওয়াল।

যেখানে ফায়ারওয়াল ও আমাদের এভাবে কম্পিউটার এবং আমাদের ডিভাইসগুলোকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থাকে। আপনি যখন আপনার ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন; যখনঃ আপনি কোন ভিডিও দেখছেন কিংবা কোন ফাইল ডাউনলোড করছেন। ইন্টারনেটে আপনি যা কিছুই করুন না কেন, আপনার ডিভাইস থেকে যে সব ডেটাগুলো ইন্টারনেটে যাচ্ছে এবং যেসব ডেটা গুলো আবার পুনরায় আপনার ডিভাইসে আসছে সেগুলোর সমস্তকিছুই আপনার ডিভাইসের ফায়ারওয়াল পরীক্ষা করে। যেখানে এটিই সেই বিমানবন্দর কিংবা শপিং মলের সিকিউরিটি সিস্টেমের মত আপনার ডিভাইসে ও সিকিউরিটি গার্ড এর মত পরীক্ষা করে। চলুন তবে, এই বিষয় সম্পর্কে আরও কিছুটা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

আপনার ডিভাইসের ফায়ারওয়াল এটা পরীক্ষা করে যে এমন কোন জিনিস আসছে না যেটি আপনার ডিভাইসের জন্য ক্ষতি করতে পারে। অথবা এমনও হতে পারে যে, আপনার ডিভাইস থেকে এমন কোন ডেটা যাচ্ছে না যেটা বাইরের কোন কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে। কেননা ইন্টারনেট অনেক বড় একটি জায়গা; যেখানে রয়েছে অনেক হ্যাকার এবং যেখানে স্প্যামিং এর কোন অভাব নেই। যেখানে অনেক হ্যাকার এবং স্প্যামার এরা ফাঁদ পেতে বসে থাকে কিভাবে আপনার কোন ক্ষতি করা যায়। এখানে আমাদের এসব থেকে বাঁচার সর্বপ্রথম যেটি কাজ করে, তা হচ্ছে ফায়ারওয়াল।

কেননা আমাদের ডিভাইসের ফায়ারওয়াল সর্বপ্রথম এই জিনিসটাকে চেক করে যে, আমাদের ডিভাইস থেকে কোন ফাইল ইন্টারনেটে যাচ্ছে এবং কোন ফাইল গুলো আমাদের ডিভাইসে আবার ফেরত আসছে। যেখানে আমাদের ডিভাইস থেকে যদি কোনো স্পামিং কিংবা ম্যালওয়্যার যুক্ত ফাইল যদি ইন্টারনেটে যেতে চায়, তবে এক্ষেত্রে ফায়ারওয়াল সর্বপ্রথম বাধা প্রদান করে। একইভাবে কোন ম্যালওয়্যার যুক্ত ফাইল যদি ইন্টারনেট থেকে আমাদের ডিভাইসে আসতে চায় এক্ষেত্রেও আমাদের ডিভাইসের ফায়ারওয়াল সেটিকে বাধা প্রদান করে। আপনার ডিভাইসের ফায়ারওয়াল যদি এটা চেক করতে পারে যে, ইন্টারনেট থেকে এমন কোন জিনিস আসছে যেটি আমাদের ডিভাইসের কোন ক্ষতি করতে পারে তবে এটিকে সেখান থেকে ব্লক করে দেয় এবং এক্ষেত্রে এই ফাইলটি আর আমাদের ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে না।

তো, ইন্টারনেটের খারাপ জিনিসগুলো থেকে সর্বপ্রথম আমাদের ডিভাইস কে সুরক্ষা প্রদান করে তা হচ্ছে আমাদের ডিভাইসের ফায়ারওয়াল। কোন একটি ডিভাইসের ফায়ারওয়াল তিন ধরনের হতে পারে। হতে পারে এটি কোন সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার অথবা হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে তৈরি ফায়ারওয়াল। চলুন তবে এবার জেনে নেওয়া যাক ফায়ারওয়াল এসব বিষয়গুলো সম্পর্কে।

সফটওয়্যার ভিত্তিক ফায়ারওয়াল

এ ধরনের ফায়ারওয়াল আপনার ডিভাইসে ইন্সটল করা থাকে এবং সেখান থেকেই এটি আপনার ডিভাইসের সিকিউরিটি প্রদান করে। আপনি হয়তোবা এমন অনেক ফায়ারওয়াল জাতীয় সফটওয়্যার ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে ইতিমধ্যেই ব্যবহার করেছেন কিংবা এখনো করেন। আপনি আপনার ডিভাইসে যে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করেন এগুলোতে মূলত সফটওয়্যার ভিত্তিক ফায়ারওয়াল থাকে। যেখানে আপনার ডিভাইসে ইন্সটল থাকা এসব এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো আপনার ডিভাইসকে সুরক্ষা প্রদান করে। আমরা এরকম অনেক ধরনের এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার আমাদের ডিভাইসগুলোতে ব্যবহার করে থাকি।

যদিও আমাদের ডিভাইসে আগে থেকেই ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার গুলো ইন্সটল করা থাকে; কিন্তু সেগুলো থাকে লুকায়িত অবস্থায়। এক্ষেত্রে আপনি যখন ইন্টারনেটে কোনো কিছু অনুসন্ধান করেন কিংবা ইন্টারনেটে থেকে কোন কিছু ডাউনলোড করেন, তবে এক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসের ফায়ারওয়াল সেই ফাইলগুলো কে পরীক্ষা করে। এতে করে যদি কোন কারনে আপনার ডিভাইসে আপনার চাহিদার বিপরীতে কোন কিছু প্রবেশ করতে চায় তবে ফায়ারওয়াল বাধা প্রদান করে। যেমন ধরুন, আপনি যদি ইন্টারনেট থেকে কোন একটি ছবি ডাউনলোড করতে চান এসময় আপনি যদি সেই ছবিটি ডাউনলোড করার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠান এবং এক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসে সেই ছবিটির বাইরে আরো অন্য কোন ফাইল আসতে চায় তবে এক্ষেত্রে ফায়ারওয়াল বাধা দিবে। যেটি আপনার ডিভাইস কে শুধুমাত্র সেই ফাইলটি ডাউনলোড করারই অনুমতি দিবে।

আর এজন্যই আমরা বিভিন্ন এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করে থাকি। কেননা আমরা যদি ইন্টারনেট থেকে কোন ফাইল ডাউনলোড করি তবে এক্ষেত্রে আমাদের সেই ডিভাইসে যেন অতিরিক্ত কোন ফাইল না আসতে পারে। যদি কোন কারনে আমাদের ডাউনলোড করা কিংবা আমাদের রিকোয়েস্টের বিপরীতে কোন কিছু ইন্টারনেট থেকে আমাদের ডিভাইসে আসতে চায় তবে সেটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার টি ডিটেক্ট করতে পারবে। কেননা এটি একটি সফটওয়্যার ভিত্তিক ফায়ারওয়াল। যেখানে আমাদের ডিভাইসে ডিফল্ট ভাবে থাকা ফায়ারওয়াল এর চাইতে এই এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার টি অনেক বেশী কার্যকর হতে পারে।

যে কারণে আমরা যেসব এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করি সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ সেবার জন্য আমাদেরকে টাকা পে করতে হয়। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে প্রতিমাসে কিংবা বাসরিক একটি নির্দিষ্ট ফি আমাদের দিয়ে দিতে হয়। তবে আমরা বাংলাদেশের যারা ব্যবহারকারী রয়েছি, তারা কিন্তু সেই ক্রাক ভার্সন ই ব্যবহার করে থাকি। যেখানে আমরা আমাদের কম্পিউটারের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম থেকে শুরু করে প্রায় সকল ধরনের সফটওয়্যার গুলোর পাইরেটেড ভার্সন আমরা নিয়ে ব্যবহার করি। যেখানে আমাদের ব্যবহৃত সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে রয়েছে, Microsoft office, Adobe Photoshop, Adobe illustrator এবং ডিভাইসের সিকিউরিটির জন্য Avast antivirus সফটওয়্যার।

আমার মনে হয়, পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ ই এমন একটি দেশ, যেখানকার প্রায় 95% কম্পিউটার ব্যবহারকারী উইন্ডোজ এর ক্র্যাক ভার্সন ব্যবহার করে। যেখানে আমরা যদি উইন্ডোজ এর জেনুইন ভার্সন ব্যবহার করি তবে এক্ষেত্রে আমাদের কিন্তু অনেক টাকা পে করতে হয়। যাই হোক, আমি এই বিষয়ে আসছি না। আমরা যে আমাদের ডিভাইসে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করি সেগুলো আমার ডিভাইসে ফায়ারওয়াল হিসেবে কাজ করে।

হার্ডওয়্যার ভিত্তিক ফায়ারওয়াল

হার্ডওয়্যার ভিত্তিক ফায়ারওয়াল এর কথা বলতে গেলে আপনি ডেডিকেটেড এরকম ফায়ারওয়াল ডিভাইস কিনতে পারবেন। যেখানে আপনি যদি সেই ডিভাইসটি আপনার ইন্টারনেট লাইনের সঙ্গে যুক্ত করেন তবে এক্ষেত্রে এটি আপনার ইন্টারনেট কে একটি সুরক্ষা প্রদান করবে। এছাড়া আপনার ওয়াইফাই রাউটার এর ও ডেডিকেটেড ফায়ারওয়াল থাকে, যেটি দ্বারা আপনার ওয়াইফাই রাউটার এর সঙ্গে যে সমস্ত ডিভাইসগুলো কানেক্ট করা রয়েছে সেগুলোর সমস্ত গুলো কে নিরাপত্তা প্রদান করে। মোট কথা বলতে গেলে, আপনার ইন্টারনেট ব্যবস্থায় যে মাধ্যমেই ফায়ারওয়াল স্থাপন করা হোক না কেন এটি আপনার ডিভাইসকে ইন্টারনেটের সকল ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে।

হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার ভিত্তিক ফায়ারওয়াল

অনেক সময় হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার মিলে ফায়ারওয়াল কাজ করতে পারে। যেখানে আপনারা উপরে দুইটি অপশন দেখতে পেলেন, যেখানে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে আপনার ডিভাইসে ফায়ারওয়াল কাজ করে। আর আপনার ডিভাইসে যদি এই দুইটি বিষয় ই থাকে; অর্থাৎ, আপনার ডিভাইসে কিংবা আপনার ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনায় যদি হার্ডওয়্যার ভিত্তিক ফায়ারওয়াল এবং সফটওয়্যার ভিত্তিক ফায়ারওয়াল থাকে তবে এটি হবে আরও শক্তিশালী নিরাপদ ব্যবস্থা। যেখানে আমরা এটিকে বলবো হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে তৈরি ফায়ারওয়াল।

যদি আপনি আপনার ইন্টারনেট লাইনে হার্ডওয়্যার ভিত্তিক কোন ফায়ারওয়াল ব্যবহার করেন এবং সেইসঙ্গে আপনার ডিভাইসে ও ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার ব্যবহার করেন তবে এটাকে আমরা বলব হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে গঠিত ফায়ারওয়াল। যেমন আমরা আমাদের ডিভাইসে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করি এবং এগুলো আমাদের ডিভাইসে ইন্টারনেট থেকে কোন অবাঞ্চিত ফাইল প্রবেশ করতে দেয় না। যেখানে এটি হচ্ছে এক ধরনের সফটওয়্যার এবং আমাদের ইন্টারনেট লাইন এ ব্যবহৃত যন্ত্রটি হচ্ছে হার্ডওয়্যার ভিত্তিক। যাইহোক, এই বিষয়টি হয়তো আপনারা বুঝতে পেরেছেন।

ফায়ারওয়াল না থাকলে আমাদের ডিভাইসের কি ক্ষতি হতো?

ফায়ারওয়াল এমন একটি নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবস্থা যেটির মাধ্যমে এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে নিরাপদ ভাবে ডাটা ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়ার কাজ করা হয়। যেখানে কোন উৎস থেকে কোন ডেটা অন্য কোন নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে সে ক্ষেত্রে সেই ডিভাইসের ফায়ারওয়াল সেটিকে পরীক্ষা করে দেখে যে, সেই ডেটাটি সেই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার অনুমতি আছে কিনা। যদি এক্ষেত্রে ডেটাটি সেই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার অনুমতি থাকে তবেই এক্ষেত্রে সেটিকে সেই নেটওয়ার্কে বা ডিভাইসে প্রবেশ করার সুযোগ দিবে। যেমনভাবে কোন সিকিউরিটি গার্ড অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেয় না।

এখানে আমরা ইন্টারনেটে যেসব কাজগুলো করে থাকি এক্ষেত্রে সব সময় ফায়ারওয়াল কাজ করে থাকে। আমরা যেই ডেটা সেন্ড এবং রিসিভ করি সেগুলোর সমস্ত গুলোই স্থানান্তর হয় ফায়ারওয়াল এর মাধ্যমে। যেমন আমরা যদি কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য সার্ভারে রিকোয়েস্ট পাঠাই, তবে এক্ষেত্রে সার্ভার এর ফায়ারওয়াল সেই রিকোয়েস্টটি কে পরীক্ষা করে দেখে তারপর তার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়। এক্ষেত্রে যদি আপনার ডেটাটি সেই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার অনুমতি থাকে তবেই সেটিকে সে ঢুকতে দিবে। যেমনভাবে আমরা যদি কোন এয়ারপোর্টে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করি এবং আমাদেরকে সেখানে আটকে দেয়।

দুটি নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা পরিবহন হতে হলে অবশ্যই সেই ডেটাকে ফায়ারওয়াল অতিক্রম করতে হবে। যদি দুইটি নেটওয়ার্কে পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি ফায়ারওয়াল নিশ্চিত হয় তবেই ডেটা স্থানান্তর হবে। আর যদি সেটি স্থানান্তর না হবার অনুমতি থাকে তবে এক্ষেত্রে এটিকে আটকে রাখবে বা বাদ দিবে। আর এভাবে করেই আমরা ইন্টারনেটে নিরাপদ ভাবে বিচরণ করতে পারব। যেখানে আমাদের ডিভাইসে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কোন ধরনের ভাইরাস কিংবা ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে পারবে না।

যদি কোনভাবে এই ফায়ারওয়াল না থাকে, তবে আমাদের ব্যবহৃত ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইসগুলো অনেক ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। কেননা আমরা ইন্টারনেটে যেসব বিষয় গুলো দেখবো বা আমাদের এই ডিভাইসে নিয়ে আসব সেগুলো এর সঙ্গে যদি কোন কারনে কোন ম্যালওয়্যার প্রবেশ করে তবে এটিকে আর আটকানো যাবেনা। আর এর ফলশ্রুতিতে আমাদের ডিভাইসগুলো ডেটাগুলো হয়ে যাবে অনিরাপদ। আপনি কি চাইবেন যে, আপনার ডিভাইসে আপনার চাহিদার বিপরীতে অন্য কোন কিছু চলে আসুক? এক্ষেত্রে আপনি নিশ্চয় চাইবেন না আপনার ডিভাইসে কোন ক্ষতিকর কিছু প্রবেশ করুক।

এবার আপনার মনে হতে পারে আপনি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন, যে কারণে আপনার ডেটাগুলো হারালে আপনার ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু এখানে সেই দুর্ঘটনার কথা ভাবলে চলবে না। বরং বাহিরে থেকে যদি কোন ভাইরাস কিংবা ম্যালওয়্যার আর আপনার ডিভাইসে প্রবেশ করে তবে এক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসটি কিন্তু স্লো হয়ে যাবে। যেটি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার কে ভয়ানক রকমের ধীর গতির করে দিতে পারে। আর আপনি কখনই চাইবেন না যে, আপনার ব্যবহৃত ডিভাইসটি স্লো বা‌ ধীর গতির হয়ে যাক। তাই আপনার ডিভাইসটিকে ফাস্ট রাখার জন্য হলেও এই ফায়ারওয়াল কাজ করে। এবার আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, যদি ইন্টারনেটের ফায়ারওয়াল না থাকতো তবে আমাদের ডিভাইসের জন্য এটি কতটা ক্ষতি হতো।

হ্যাকাররা বিভিন্নভাবে ওত পেতে থাকে ইন্টারনেটে। যেখানে তারা বিভিন্ন ফাইলের মাধ্যমে তাদের তৈরি ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার গুলো প্রবেশ করানোর চেষ্টা করতে থাকে। আর এই ইন্টারনেট ঠিকই আমরা যখন সেই ফাইলগুলো ডাউনলোড করার চেষ্টা করব কিংবা কোন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার চেষ্টা করব তখন এগুলো আমাদের ডিভাইসে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আসতে পারে। কিন্তু আমরা যেই বিষয়টিকে পাবার জন্য অনুরোধ করেছি শুধুমাত্র সেই বিষয়টিকেই এনে দিবে ফায়ারওয়াল। এখানে এনে দেবে বলতে, ফায়ারওয়াল আমাদের নির্দিষ্ট ডেটা এর বিপরীতে অন্য কোন কিছু ডিভাইসে প্রবেশ করতে দেবে না।

এক্ষেত্রে যদি সেই ডেটাটি আমাদের ডিভাইসে প্রবেশ করানোর অনুমতি থাকে তবেই এটিকে আমাদের ডিভাইসে প্রবেশ করার অনুমতি দেবে। আর এতে করে আমাদের ডিভাইস থাকবে সুরক্ষিত। এবার আপনারা হয়তো বা বুঝে গিয়েছেন যে ফায়ারওয়াল আমাদের ডিভাইসে থাকলে কি কি উপকার হতে পারে এবং ফায়ারওয়াল না থাকলে আমাদের ডিভাইসের জন্য এটি কতটা ক্ষতি করতে পারে।

শেষ কথা

আমারা প্রতিদিন ইন্টারনেটে বিচরণ করার সময় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারি। আর এসব ঝুঁকি থেকে আমাদের বাঁচার জন্য আমাদের ডিভাইসে থাকা ফায়ারওয়াল সর্বদা কাজ করে থাকে। যেখানে আমরা থাকি ইন্টারনেট এর অনেক ঝুঁকি থেকে নিরাপদ। বলতে গেলে, ফায়ারওয়াল আমাদের ডিভাইসের জন্য সিকিউরিটি গার্ড এর মত করে কাজ করে থাকে এবং বাহিরে থেকে কোন শত্রুকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় না। যেমনভাবে আমরা কোন বড় শপিং মল কিংবা কোন এয়ারপোর্টে গিয়ে সিকিউরিটি গার্ড এর ক্ষেত্রে দেখতে পাই এবং সেখানে কোন নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ে গেলে আমাদেরকে আটকে দেয় কিংবা সেগুলো নিয়ে নেয়।

তো বন্ধুরা, আমি আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন আপনার ডিভাইস বা আপনার ইন্টারনেটের ফায়ারওয়াল আসলে কি জিনিস এবং এটির কাজ টি আসলে কি। এছাড়া আজকের টিউনের টপিক হচ্ছে, আপনার ডিভাইসের যদি এই ফায়ারওয়াল না থাকতো তবে এটি আপনার ডিভাইসের জন্য কতটা ক্ষতি বয়ে আনতো। আমি আশা করছি যে, আপনারা বুঝতে পেরেছেন ফায়ারওয়াল আমাদের ডিভাইস এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি সত্যিই ফায়ারওয়াল এর গুরুত্ব সম্পর্কে এই টিউনে বুঝে থাকেন তবে টিউনটিতে একটি জোসস করবেন এবং আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে নিচের টিউনমেন্ট বক্সে টিউনমেন্ট করবেন। আমি আশা করছি আজকের টিউনটি আপনাদের কাছে সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে।

তবে নতুন কোন টিউন নিয়ে আবার আসছি আগামীতে ইনশাআল্লাহ। তবে পরবর্তী টিউন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আসসালামু আলাইকুম।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *